Read today's news --> ⚡️Click here 

নানা পাটেকরের মৃত্যু ৭৫ বছরে, গোয়ার বাড়িতে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট

বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ভোরে গোয়ায় নিজের বাড়িতে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তাঁর ছেলে মালহার পাটেকর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। হিন্দি ও মারাঠি সিনেমায় তিনবারের জাতীয় পুরস্কারজয়ী এই অভিনেতার মৃত্যু চলচ্চিত্র জগৎ ও রাজনীতিতে শোকের ঢেউ তুলেছে। নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানার অপেক্ষা চলছে।

ভোরে কী ঘটেছিল

মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ডঃ শেখর সালকার বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, পাটেকর গোয়ার দোনা পাওলার বাড়িতে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যান। তাঁর কথায়, ভোর আড়াইটে নাগাদ অভিনেতা এক বন্ধুকে অসুস্থ বোধ করার বার্তা পাঠান। রাত হওয়ায় বন্ধু তখন বার্তা দেখেননি; পরে তিনি ফোন করে প্রায় চারটের সময় বাড়িতে পৌঁছন। ততক্ষণে পাটেকর ঘামছিলেন এবং ধীরে ধীরে জ্ঞান হারাচ্ছিলেন।

বার্তাটি পাঠানো হয়েছিল আনুমানিক ভোর সাড়ে তিনটায়। ফলে সময়ের হিসেবে সূত্রগুলির মধ্যে সামান্য তফাত আছে। বাড়িতে থাকা পরিচারক হাসপাতালে গেলে হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্স তাঁর ফ্ল্যাটে পাঠানো হয়। ডঃ সালকারের বিবরণ অনুযায়ী, চিকিৎসক দল পৌঁছে তাঁকে প্রায় সাড়াহীন অবস্থায় মাটিতে শায়িত দেখে। সঙ্গে সঙ্গে কার্ডিয়াক ম্যাসাজ শুরু করা হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথেও তা চলে।

প্রায় ৪৫ মিনিট সিপিআর দেওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।পুরো সময় তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রে কোনও বৈদ্যুতিক সক্রিয়তা ছিল না। বেশির ভাগ সূত্র মৃত্যুর সময় সকাল ৫টা ২০ মিনিট বলেছে; একটি প্রতিবেদনে তা ৫টা ১০ মিনিট লেখা হয়েছে। ডঃ সালকার জানান, পাটেকর পরিচিত হৃদ্‌রোগী ছিলেন এবং ওষুধ খেতেন। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি।

ময়নাতদন্ত ও শেষকৃত্য

এ ধরনের আকস্মিক মৃত্যুতে নিয়ম অনুযায়ী মেডিকো-লিগ্যাল কেস বা এমএলসি নথিভুক্ত করা হয়। ডঃ সালকার জানান, তা করা হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাম্বোলিমের গোয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এটি মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করার নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া; এর অর্থ কোনও সন্দেহ নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা হার্ট অ্যাটাক—কোনওটি নিয়েই চূড়ান্ত বলা যাবে না, কারণ পিটিআই ও এএনআই-এর ভাষা কিছুটা আলাদা।

মহারাষ্ট্র সরকারের সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী আশিস শেলার ঘোষণা করেছেন, মারাঠি রঙ্গমঞ্চ এবং মারাঠি ও হিন্দি সিনেমায় তাঁর অবদানের জন্য পাটেকরকে রাজ্য মর্যাদায় শেষ বিদায় দেওয়া হবে। এবিপি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী শেষকৃত্য পুনেতে হওয়ার কথা। ছেলে মালহার গোয়ায় যাচ্ছেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। শেষকৃত্যের সময় ও স্থান নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

চার দশকের কর্মজীবন

এবিপি নিউজ জানিয়েছে, নানা পাটেকর ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবিতে অভিনয়ে আসেন। পরে ‘পরিন্দা’, ‘প্রহার’, ‘অঙ্গার’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘তিরঙ্গা’, ‘খামোশি’ ও ‘আব তক ছাপ্পান’-এর মতো ছবিতে তিনি আলাদা পরিচিতি পান। তিনি তিনটি জাতীয় পুরস্কার জিতেছিলেন: ‘পরিন্দা’ (১৯৮৯) ছবির জন্য সেরা সহকারী অভিনেতা, ‘ক্রান্তিবীর’ (১৯৯৪) ছবির জন্য সেরা অভিনেতা এবং ‘অগ্নি সাক্ষী’ (১৯৯৬) ছবির জন্য সেরা সহকারী অভিনেতা। তিনি পদ্মশ্রী সম্মানও পেয়েছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তাঁকে ‘হাউসফুল ৫’-এ দেখা গিয়েছিল।

১৯৯৯ সালে ক্যারিয়ারের শিখরে থাকাকালীন তিনি কিছুদিন অভিনয় থেকে বিরতি নিয়ে কারগিল যুদ্ধের সময় ভারতীয় সেনার সঙ্গে কাজ করেছিলেন। এজন্য তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিশেষ অনুমতি চেয়েছিলেন। অভিনয়ের বাইরে তাঁর সামাজিক কাজেরও প্রশংসা হয়েছে; মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস মনে করিয়েছেন, তিনি মকরন্দ অনাসপুরের সঙ্গে ‘নাম ফাউন্ডেশন’ গড়েছিলেন এবং কৃষক ও খরাপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতেন।

শ্রদ্ধার্ঘ্য

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স-এ লেখেন, নানা পাটেকরের মতো তীব্রতা, স্বাতন্ত্র্য ও স্বতন্ত্র উপস্থিতি খুব কম অভিনেতারই ছিল; প্রতিটি ভূমিকায় তিনি বহুমুখিতা ও সৃজনশীলতা এনেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্পষ্টবাদিতার জন্যও তিনি প্রশংসিত ছিলেন এবং তাঁর প্রয়াণে গভীর শূন্যতা তৈরি হল। ফড়নবিস তাঁকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ বলে উল্লেখ করে লেখেন, ‘ক্রান্তিবীর’ থেকে ‘নটসম্রাট’ পর্যন্ত তাঁর অভিনয়ের ব্যাপ্তি অতুলনীয়। অভিনেতা রীতেশ দেশমুখ বলেছেন, তিনি “ভাষাহীন” হয়ে পড়েছেন এবং এটি “একটি যুগের অবসান”।

লালা ও বরাক উপত্যকার পাঠকের জন্য

নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবরের সঙ্গে হাইলাকান্দি বা অসমের কোনও নির্দিষ্ট ঘটনা যুক্ত নেই। তবে হিন্দি সিনেমার দর্শক হিসেবে লালা ও বরাক উপত্যকার বহু মানুষ তাঁর অভিনয়ের সঙ্গে পরিচিত। তাঁর কাজ কয়েক দশক ধরে সমাজ, দেশপ্রেম ও ন্যায়ের প্রশ্ন নিয়ে ছবি দেখার অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে আছে। স্থানীয় সিনেমা-প্রেমীরা কীভাবে তাঁকে স্মরণ করছেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া সংবাদমাধ্যমে আসেনি। আপাতত তিনটি বিষয়ের দিকে নজর থাকবে: ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ কী উঠে আসে, শেষকৃত্যের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা কী হয়, এবং রাজ্য মর্যাদায় বিদায়ের অনুষ্ঠান কীভাবে হয়। দেশজুড়ে চলচ্চিত্র জগৎ ও রাজনৈতিক নেতাদের শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে সেই শিল্পীকে মনে রাখা হচ্ছে, যিনি পর্দায় ক্ষোভ ও মানবতাকে একসঙ্গে ফুটিয়ে তুলতে পারতেন।

নানা পাটেকরের মৃত্যু ৭৫ বছরে, গোয়ার বাড়িতে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট
Scroll to top