তিন বছরের বেশি পুরনো গাড়ি কেনাবেচা করলে এখন থেকে ৩ হাজার টাকা গ্রিন সেস দিতে হবে। ৪ অক্টোবর, রবিবার অসম মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, বনায়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের কাজে সহায়তার জন্য এই সেস নেওয়া হবে। পুরনো গাড়ি গ্রিন সেস ৩০০০ টাকার এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে গাড়ির মালিকানা হস্তান্তরের সময়। ইলেকট্রিক গাড়ি, সিএনজি গাড়ি এবং দু-চাকা ও তিন-চাকার যানবাহন এই সেসের বাইরে থাকবে।
কোন গাড়ির ক্ষেত্রে সেস লাগবে
তিন বছরের বেশি পুরনো যানবাহনের মালিকানা বদলের সময় ৩ হাজার টাকা সেস দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, স্কুটার, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ইভি ছাড়া অন্য মোটরযানের কেনাবেচায় গ্রিন সেস লাগবে। ফলে সাধারণ যাত্রীবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে এই খরচ সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
সরকারি সিদ্ধান্তে ছাড় রয়েছে মালিকের মৃত্যুজনিত হস্তান্তরেও। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “গাড়ির মালিক মারা গেলে তাঁর সন্তানেরা গাড়ির দায়িত্ব নিলে তাঁদের গ্রিন সেস দিতে হবে না।” মালিকের মৃত্যুর পর মনোনীত উত্তরাধিকারীর ক্ষেত্রেও একই ছাড় থাকবে। তাই উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া গাড়ির নাম বদলাতে এই সেস লাগবে না।
সেসের টাকা কোথায় খরচ হবে
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই সেসের টাকা শুধু বন ও পরিবেশসংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা হবে, সরকারের অন্য কোনও খরচে নয়। তাঁর কথায়, “এই থেকে সংগৃহীত অর্থ কেবল বন ও পরিবেশ-সম্পর্কিত কাজে ব্যবহার করা হবে, সরকারের অন্য কোনও ব্যয়ে নয়।” ভূমিধসের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বনায়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।
এই সিদ্ধান্ত একেবারে নতুন কোনও নীতি নয়। সেপ্টেম্বরের শুরুতে মন্ত্রিসভা ‘অসম গ্রিন সেস নীতি, ২০২৬’ অনুমোদন করেছিল। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নীতিতে পাথর ভাঙার কারখানা, ইটভাটা, আমদানি করা কাঠ, দূষণ সূচক অনুযায়ী শিল্প ইউনিট, ভূগর্ভস্থ জলের বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং পুরনো মোটরযানের মালিকানা হস্তান্তরের উপর গ্রিন সেস বসানোর নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়। ফলে ৪ অক্টোবরের সিদ্ধান্তে যানবাহন হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হার ও ছাড়ের শর্ত স্পষ্ট হয়েছে।
গাড়ির ক্রেতা ও বিক্রেতার জন্য কী বদলাবে
এই সেস গাড়ি কেনাবেচার মোট খরচ বাড়াবে। তবে সেসটি ক্রেতা, বিক্রেতা, নাকি কারও একজনকে দিতে হবে, সরকারি সূত্রের প্রকাশিত তথ্যে তা স্পষ্ট নয়। একইভাবে নিয়মটি ঠিক কোন তারিখ থেকে কার্যকর হবে এবং পরিবহণ দপ্তর কীভাবে সেস আদায় করবে, সেই বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিও এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি। এই তথ্যগুলি ছাড়া কোনও নির্দিষ্ট কার্যকর তারিখ ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
ব্যবহৃত গাড়ির বাজারে এর প্রভাব কেমন হবে, সে বিষয়ে কোনও সরকারি পরিসংখ্যান বা বিশ্লেষণ পাওয়া যায়নি। তবে সিদ্ধান্তের শর্ত থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার: সেস শুধু মালিকানা বদলের সময় দিতে হবে, গাড়ি রাখা বা চালানোর জন্য নয়। তাই যাঁরা নিজের গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের কোনও অতিরিক্ত খরচ নেই। যাঁরা পুরনো গাড়ি বিক্রি বা কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পরিবহণ দপ্তরের কাছে নিয়ম যাচাই করে নেওয়া উচিত।
লালা ও হাইলাকান্দির পাঠকদের জন্য কী মানে
লালা টাউন ও হাইলাকান্দি জেলার যাঁরা পুরনো চারচাকা গাড়ি, ট্যাক্সি বা পণ্যবাহী গাড়ি কেনাবেচা করেন, তাঁদের কাছে এই সিদ্ধান্ত প্রাসঙ্গিক। এটি রাজ্যব্যাপী নীতি, তাই আলাদা করে হাইলাকান্দির জন্য কোনও বিশেষ নিয়ম ঘোষণা হয়নি। স্থানীয় পরিবহণ দপ্তরের মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তরের সময় সেস কীভাবে নেওয়া হবে, তা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই জানা যাবে। দু-চাকা ও অটোরিকশার মতো যানবাহন, যা লালা ও আশপাশে বেশি ব্যবহৃত হয়, তা এই সেসের বাইরে থাকায় সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সরাসরি চাপ সীমিত।
এখন নজর থাকবে সরকারি বিজ্ঞপ্তির দিকে। বিজ্ঞপ্তিতে কার্যকর তারিখ, সেস পরিশোধের পদ্ধতি এবং টাকা ঠিক কোন তহবিলে জমা হবে, তা স্পষ্ট হওয়ার কথা। বরাক উপত্যকার মতো ভূমিধস ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় সংগৃহীত অর্থ বনায়নে কতটা পৌঁছয়, তাও গুরুত্বপূর্ণ হবে। সেসের টাকা সত্যিই পরিবেশ রক্ষার কাজে খরচ হলে নীতিটির উদ্দেশ্য পূরণ হবে।