Read today's news --> ⚡️Click here 

পাথারকান্দি কৃষি মহাবিদ্যালয়ে জমি বরাদ্দ, বরাক উপত্যকায় প্রথম কলেজ

আসাম মন্ত্রিসভা শ্রীভূমি জেলার পাথারকান্দিতে প্রস্তাবিত কৃষি মহাবিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ৮৪.৬ একর জমি বরাদ্দের অনুমোদন দিয়েছে। প্রতাপগড় এলাকায় অবস্থিত এই জমিতে কলেজটি গড়ে উঠলে সেটিই হবে বরাক উপত্যকার প্রথম কৃষি মহাবিদ্যালয়। মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, নতুন প্রতিষ্ঠানটি বরাক উপত্যকার তরুণদের কৃষি-শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নিজ অঞ্চলের কাছাকাছি উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেবে। পাথারকান্দি কৃষি মহাবিদ্যালয় প্রকল্পটি এখন জমি বরাদ্দের মাধ্যমে বাস্তবায়নের প্রাথমিক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছাল।

মন্ত্রিসভার আগের সিদ্ধান্তের তথ্য অনুযায়ী, প্রতাপগড়ে বরাদ্দ জমির পরিমাণ ২৫৬ বিঘা, যা প্রায় ৮৪.৬ একরের সমতুল্য। ২৪ সেপ্টেম্বরের মন্ত্রিসভা বৈঠকেই জমিটি প্রস্তাবিত পাথারকান্দি কৃষি মহাবিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল বলে ইন্ডিয়া টুডে এনই জানিয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রী সেই সিদ্ধান্তের পুনরুল্লেখ করে বলেন, সরকার পরিকল্পিত প্রতিষ্ঠানটিকে আসামের চতুর্থ কৃষি মহাবিদ্যালয় এবং বরাক উপত্যকার প্রথম কৃষি মহাবিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

প্রতাপগড়ের জমি বরাদ্দ কেন গুরুত্বপূর্ণ

কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জমি বরাদ্দ শুধু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; ভবিষ্যতের শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার, পরীক্ষামূলক খামার, ছাত্রাবাস, শিক্ষক আবাসন, গ্রন্থাগার এবং কৃষি-সম্প্রসারণ পরিষেবার পরিকাঠামো নির্মাণের ভিত্তি। পাথারকান্দি কৃষি মহাবিদ্যালয়ের জন্য ৮৪.৬ একর জমি অনুমোদনের ফলে প্রকল্পটির জন্য নির্দিষ্ট স্থান স্থির হলো। তবে কলেজ নির্মাণের সময়সূচি, মোট ব্যয়, ভর্তি আসন, পাঠ্যক্রম, শিক্ষক নিয়োগ বা ভবিষ্যৎ পরিচালন কাঠামো সম্পর্কে এখনও মন্ত্রিসভার ঘোষণায় বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “আসাম তার চতুর্থ কৃষি মহাবিদ্যালয় এবং বরাক উপত্যকা তার প্রথমটি পেতে চলেছে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হবে কৃষি শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা এবং নতুন ধারণাভিত্তিক কাজের সুযোগ তৈরি করা। এই মুহূর্তে প্রকল্পটি অনুমোদন ও জমি বরাদ্দের স্তরে রয়েছে; শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে নির্মাণ, একাডেমিক অনুমোদন ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির মতো আরও কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

বরাক উপত্যকায় কৃষি শিক্ষার নতুন সম্ভাবনা

কাছাড়, হাইলাকান্দি ও শ্রীভূমি—এই তিন জেলার অর্থনীতি ও গ্রামীণ জীবনে কৃষির ভূমিকা এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধান, সবজি, ফল, মৎস্য, গবাদিপশু, রাবার, চা এবং বিভিন্ন উদ্যান ফসলকে ঘিরে কৃষকদের নানা বাস্তব সমস্যা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টি, বন্যা ও জলাবদ্ধতা, রোগ-পোকা নিয়ন্ত্রণ, বিপণন এবং উন্নত বীজ-প্রযুক্তির ব্যবহার—এসব ক্ষেত্রেই স্থানীয় গবেষণা ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন অনুভূত হয়।

বরাক উপত্যকায় নিজস্ব কৃষি মহাবিদ্যালয় হলে স্থানীয় কৃষিভিত্তিক বাস্তবতা নিয়ে গবেষণার পরিসর বাড়তে পারে। যেমন, নিচু জমির জল ব্যবস্থাপনা, বরাক অববাহিকার মাটির গুণগত বৈশিষ্ট্য, কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ, ক্ষুদ্র কৃষকের জন্য উপযোগী প্রযুক্তি কিংবা বাজারমুখী উদ্যানচাষ নিয়ে পাঠ্যক্রম ও গবেষণার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এগুলি প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য ভূমিকা; কোন বিষয়গুলি বাস্তবে অগ্রাধিকার পাবে, তা ভবিষ্যতের একাডেমিক পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

আসাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কাঠামো

আসাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৬৯ সালে যোরহাটে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কৃষি ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান শিক্ষায় উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম পুরনো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এর অধীনে বর্তমানে কৃষি, উদ্যানবিদ্যা, রেশমচাষ এবং কমিউনিটি সায়েন্সসহ একাধিক ক্ষেত্রের কলেজ ও কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ৬টি কলেজ, ৭০০-র বেশি শিক্ষক-কর্মী এবং প্রায় ৩,০০০ শিক্ষার্থীর তথ্য প্রকাশ করেছে।

কৃষি অনুষদের অধীনে যোরহাটের কলেজ অফ অ্যাগ্রিকালচারের ইতিহাস আরও পুরনো; এর ভিত্তি স্থাপিত হয় ১৯৪৮ সালে এবং পরে আসাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সারাতচন্দ্র সিংহ কলেজ অফ অ্যাগ্রিকালচার, কলেজ অফ হর্টিকালচার অ্যান্ড ফার্মিং সিস্টেমস রিসার্চ এবং অন্যান্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। পাথারকান্দির নতুন কলেজ কোন বিশ্ববিদ্যালয় বা একাডেমিক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে সরকার এখনও প্রকাশ্যে বিস্তারিত জানায়নি।

হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের শিক্ষার্থীদের লাভ

পাথারকান্দি শ্রীভূমি জেলায় হলেও প্রস্তাবিত কৃষি মহাবিদ্যালয়টির গুরুত্ব হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের শিক্ষার্থীদের জন্যও যথেষ্ট। বর্তমানে কৃষিবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা নিতে ইচ্ছুক বরাক উপত্যকার বহু শিক্ষার্থীকে যোরহাট, বিশ্বনাথ বা রাজ্যের অন্য প্রান্তে যেতে হয়। নিজ অঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে যাতায়াত ও আবাসনের চাপ কমার পাশাপাশি অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের কাছাকাছি রেখে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেতে পারেন।

লালা টাউন ও হাইলাকান্দির কৃষক, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, যুব উদ্যোগপতি এবং কৃষি-ভিত্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গেও ভবিষ্যতে এই প্রতিষ্ঠানের সংযোগ গড়ে উঠতে পারে। কৃষি-সম্প্রসারণ প্রশিক্ষণ, মাটি পরীক্ষা, উন্নত চাষপদ্ধতি, মূল্য সংযোজন বা কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণের মতো কার্যক্রম চালু হলে তার সুফল তিন জেলার কৃষি সমাজে পৌঁছাতে পারে। তবে এই পরিষেবাগুলি চালু হবে কি না এবং কবে হবে, তা কলেজটি স্থাপনের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে পরিষ্কার হবে।

নির্মাণ ও একাডেমিক অনুমোদনের অপেক্ষা

জমি বরাদ্দ পাথারকান্দি কৃষি মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করলেও প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়গুলি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ, নকশা প্রণয়ন, পাঠ্যক্রমের অনুমোদন, শিক্ষক ও কর্মী নিয়োগ, ছাত্রভর্তির নিয়ম এবং পরীক্ষামূলক কৃষি খামার গঠনের মতো বিষয়গুলিতে রাজ্য সরকার বা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী ঘোষণা প্রত্যাশিত।

বরাক উপত্যকার প্রথম কৃষি মহাবিদ্যালয় হিসেবে পাথারকান্দির প্রতিষ্ঠানটি কত দ্রুত বাস্তব রূপ পায়, কী ধরনের পাঠ্যক্রম চালু করে এবং হাইলাকান্দিসহ সমগ্র উপত্যকার কৃষি সমস্যার সঙ্গে গবেষণাকে কতটা যুক্ত করতে পারে—তার ওপরই প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে। আপাতত প্রতাপগড়ের ৮৪.৬ একর জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত কৃষি শিক্ষা ও আঞ্চলিক উন্নয়নের পথে একটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিল।

পাথারকান্দি কৃষি মহাবিদ্যালয়ে জমি বরাদ্দ, বরাক উপত্যকায় প্রথম কলেজ
Scroll to top