Read today's news --> ⚡️Click here 

আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে থাং-টা খেলোয়াড় বাছাই ট্রায়াল ৩০ সেপ্টেম্বর

আসাম বিশ্ববিদ্যালয় আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থাং-টা খেলোয়াড় বাছাই ট্রায়াল আয়োজন করবে, যার লক্ষ্য ২০২৬-২৭ ক্রীড়াবর্ষের সর্বভারতীয় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় থাং-টা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরুষ ও মহিলা দল গঠন করা। আসাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া পর্ষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই বাছাই প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিলচর ক্যাম্পাস, ডিফু ক্যাম্পাস এবং অধিভুক্ত কলেজগুলির স্নাতকোত্তর স্তরের আগ্রহী ছাত্রছাত্রীরা অংশ নিতে পারবেন । থাং-টা খেলোয়াড় বাছাই ট্রায়ালের এই আয়োজন বরাক উপত্যকার ক্রীড়া অনুরাগী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

ট্রায়ালের সময়সূচি ও অংশগ্রহণের শর্তাবলি

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা থেকে আসাম বিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস কমপ্লেক্সে এই বাছাই ট্রায়াল শুরু হবে, এবং আগ্রহী ছাত্রছাত্রীদের যথাযথ ক্রীড়া সরঞ্জামসহ নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে । এই ট্রায়ালে নির্বাচিত খেলোয়াড়রা অল ইন্ডিয়া ইন্টার ইউনিভার্সিটি থাং-টা (পুরুষ ও মহিলা) প্রতিযোগিতা ২০২৬-২৭-এ অংশগ্রহণের জন্য বিবেচিত হবেন, যা অল ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটির অধীনে ইম্ফলে অবস্থিত ন্যাশনাল স্পোর্টস ইউনিভার্সিটিতে আগামী ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ।

ক্রীড়া পর্ষদের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ডঃ সিদ্ধার্থ শর্মা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “ট্রায়ালে সন্তোষজনক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে উপযুক্ত খেলোয়াড়দের নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে কোচিং ক্যাম্প আয়োজন করা হবে” । চূড়ান্ত নির্বাচনের জন্য যোগ্য বিবেচিত খেলোয়াড়দের কোচিং ক্যাম্পে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, এবং ক্যাম্প চলাকালীন কোনো অনুপস্থিতির অনুরোধ ছাড়াই শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা এবং ক্রীড়া পর্ষদের নির্ধারিত নির্দেশিকা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । বাছাই সংক্রান্ত আরও তথ্যের জন্য কে আনন্দ কুমার সিংহ (৯৪৩৫৩৭৪৮১৯) এবং নিরঞ্জন দাসের (৯৪৩৫৫৬৬২১৬) সাথে যোগাযোগ করা যাবে বলে জানানো হয়েছে।

থাং-টা: মণিপুরি সামরিক ঐতিহ্য থেকে আধুনিক প্রতিযোগিতামূলক খেলা

থাং-টা মূলত মণিপুরের একটি ঐতিহ্যবাহী সামরিক শিল্প, যা “হুইয়েন লংলন” নামেও পরিচিত, এবং যার আক্ষরিক অর্থ তরবারি (“থাং”) ও বল্লম (“টা”)। ঐতিহাসিকভাবে এটি মণিপুরের রাজন্যবর্গের যুদ্ধ প্রশিক্ষণের অংশ ছিল, কিন্তু বিংশ শতকের আশির দশক থেকে এটি ক্রমান্বয়ে একটি সংগঠিত প্রতিযোগিতামূলক খেলায় রূপান্তরিত হয়েছে। এই মার্শাল আর্টের গুরু কাকচিংতাবাম শানাথৈবা শর্মা ২০২৩ সালে পদ্মশ্রী সম্মান পেয়েছেন, যা থাং-টার জাতীয় স্বীকৃতি লাভের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল।

থাং-টা এখন খেলো ইন্ডিয়া যুব গেমসের অংশ, এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানও নিয়মিতভাবে থাং-টা দল গঠনের জন্য বাছাই ট্রায়াল আয়োজন করে থাকে, যা প্রমাণ করে এই খেলাটি এখন সমগ্র ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া ক্ষেত্রে একটি স্বীকৃত প্রতিযোগিতামূলক বিভাগ হয়ে উঠেছে।

আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা

আসাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া পর্ষদ নিয়মিতভাবে বিভিন্ন খেলায় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতার জন্য দল গঠনের লক্ষ্যে বাছাই ট্রায়াল আয়োজন করে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নোটিস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসেই আন্তঃকলেজ ফুটবল প্রতিযোগিতার জন্য পুরুষ বিভাগের বাছাই ট্রায়াল অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা প্রমাণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রীড়া কার্যক্রম একটি নিয়মিত ও সক্রিয় প্রক্রিয়া হিসেবে চলমান রয়েছে । এর আগেও ক্রিকেট ও টেবিল টেনিসের মতো খেলায় অনুরূপ বাছাই ট্রায়াল আয়োজিত হয়েছে, যেখানে শিলচর ও ডিফু ক্যাম্পাস তথা অধিভুক্ত কলেজগুলির ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেছেন।

এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে যে আসাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া পর্ষদ শুধুমাত্র জনপ্রিয় খেলাগুলিতে সীমাবদ্ধ না থেকে থাং-টার মতো আঞ্চলিক ও ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলিকেও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও সুযোগ প্রদান করছে, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া বৈচিত্র্যের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে।

বরাক উপত্যকা ও হাইলাকান্দির শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ

আসাম বিশ্ববিদ্যালয় শিলচরে অবস্থিত হওয়ায় বরাক উপত্যকার তিনটি জেলা—কাছাড়, হাইলাকান্দি ও শ্রীভূমি—থেকে বহু শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয় ও তার অধিভুক্ত কলেজগুলিতে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনা করেন। ফলে থাং-টা খেলোয়াড় বাছাই ট্রায়ালের এই সুযোগ হাইলাকান্দি জেলা ও লালা টাউনের সেই সমস্ত শিক্ষার্থীদের জন্যও উন্মুক্ত, যারা আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কোনো কলেজে স্নাতকোত্তর স্তরে অধ্যয়নরত এবং মার্শাল আর্টে আগ্রহী।

লালা টাউন ও হাইলাকান্দি জেলার ক্রীড়াপ্রিয় শিক্ষার্থীদের জন্য এই ধরনের সুযোগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রান্তিক এলাকার শিক্ষার্থীরা প্রায়শই জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকেন। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য ইম্ফলের ন্যাশনাল স্পোর্টস ইউনিভার্সিটিতে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব করার একটি বাস্তব সুযোগ তৈরি করেছে।

আগামী দিনে চূড়ান্ত দল নির্বাচনের দিকে নজর

থাং-টা খেলোয়াড় বাছাই ট্রায়ালের পর আগামী দিনে ক্রীড়া পর্ষদের পরিকল্পনা অনুযায়ী চূড়ান্ত নির্বাচিত খেলোয়াড়দের জন্য একটি কোচিং ক্যাম্প আয়োজিত হবে, যা তাদের ইম্ফলের জাতীয় প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করবে। আগামী ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য অল ইন্ডিয়া ইন্টার ইউনিভার্সিটি থাং-টা প্রতিযোগিতায় আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দল কেমন পারফরম্যান্স দেখায়, তার দিকেই এখন নজর থাকবে বরাক উপত্যকার ক্রীড়ামোদী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ ট্রায়ালে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছে ক্রীড়া পর্ষদ।

আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে থাং-টা খেলোয়াড় বাছাই ট্রায়াল ৩০ সেপ্টেম্বর
Scroll to top