LPG সিলিন্ডার বুকিং ও ডেলিভারির উপর নির্ভরতা কমাতে দেশজুড়ে ৫০ লাখ নতুন পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস বা PNG সংযোগ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত চলবে National PNG Drive 3.0। এই অভিযানের লক্ষ্য শুধু নতুন সংযোগ দেওয়া নয়; আগে নেওয়া কিন্তু বর্তমানে ব্যবহার না হওয়া প্রায় ৪০ লাখ PNG সংযোগ সক্রিয় করা এবং আরও ৫০ লাখ নতুন রেজিস্ট্রেশন সংগ্রহ করাও এর পরিকল্পনার অংশ। ফলে LPG বুকিংয়ের ঝামেলা কমানোর উদ্যোগটি সরাসরি সিলিন্ডার পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা নয়; যেখানে পাইপলাইন পরিকাঠামো আছে বা তৈরি করা সম্ভব, সেখানে বিকল্প জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার একটি সম্প্রসারণ কর্মসূচি।
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি ১ অক্টোবর PNGRB-এর ২০তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে National PNG Drive 3.0 চালু করেন। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক, Petroleum and Natural Gas Regulatory Board বা PNGRB, City Gas Distribution সংস্থা, সরকারি তেল বিপণন সংস্থা এবং অন্যান্য অংশীদার এই কর্মসূচিতে যুক্ত থাকবে। সরকারি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত দেশে প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ গৃহস্থালি PNG সংযোগ ছিল। নতুন অভিযান সেই ভিত্তির উপর আরও পরিবারকে পাইপের গ্যাস ব্যবস্থায় আনার চেষ্টা করবে।
৫০ লাখ PNG সংযোগ কর্মসূচিতে কী বদলাবে
PNG-এর ক্ষেত্রে LPG সিলিন্ডারের মতো বুকিং করে নির্দিষ্ট দিনে ডেলিভারির অপেক্ষা করতে হয় না। পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরাসরি রান্নাঘরে পৌঁছয় এবং ব্যবহারের পরিমাণ অনুযায়ী বিল দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে। ফলে সিলিন্ডার শেষ হয়ে যাওয়া, নতুন সিলিন্ডার বুক করা, সরবরাহের জন্য অপেক্ষা করা এবং বাড়িতে অতিরিক্ত সিলিন্ডার সংরক্ষণ—এই সমস্যাগুলি অনেক ক্ষেত্রে কমতে পারে। তবে এই সুবিধা পেতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় City Gas Distribution নেটওয়ার্ক, বাড়িতে পাইপ বসানোর সুযোগ এবং অনুমোদিত সংস্থার পরিষেবা থাকা বাধ্যতামূলক।
National PNG Drive 3.0-এর তিনটি আলাদা লক্ষ্য রয়েছে। প্রথমত, ৫০ লাখ নতুন গৃহস্থালি PNG সংযোগ তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, আগে সংযোগ নেওয়া হলেও গ্যাস ব্যবহার শুরু না করা বা বিল তৈরি না হওয়া প্রায় ৪০ লাখ সংযোগকে সক্রিয় ব্যবহারকারীতে পরিণত করা। তৃতীয়ত, আরও ৫০ লাখ পরিবারের নতুন রেজিস্ট্রেশন সংগ্রহ করা। এখানে “রেজিস্ট্রেশন” এবং “সক্রিয় সংযোগ” এক বিষয় নয়; আবেদন বা নথিভুক্তির পর পাইপলাইন বসানো, মিটার চালু এবং বাস্তবে গ্যাস ব্যবহার শুরু করতে আলাদা ধাপ থাকতে পারে। এই পার্থক্যটি গ্রাহকদের বোঝা জরুরি।
সরকারের পরিকল্পনা বিদ্যমান নেটওয়ার্ককে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করার উপরও জোর দিচ্ছে। কম চাহিদার এলাকায় Viability Gap Funding, এক দেশ এক গ্যাস গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ, অভিন্ন ট্যারিফ এবং নতুন City Gas Distribution এলাকা তৈরির মতো উদ্যোগের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। PNGRB দেশের ৩০৯টি ভৌগোলিক এলাকায় CGD নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য বিভিন্ন সংস্থাকে অনুমোদন দিয়েছে। তবে অনুমোদিত ভৌগোলিক এলাকা থাকা মানেই প্রতিটি পাড়া বা গ্রামে ইতিমধ্যে PNG পৌঁছে গেছে—এমন নয়।
অসমে PNG পরিষেবার অগ্রগতি
অসমে PNG ও CNG পরিকাঠামো সম্প্রসারণের কাজ আগেও শুরু হয়েছে। মার্চ ২০২৬-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ১২,৫০০টি PNG সংযোগ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর আগে তেজপুরে ১,৪০০-র বেশি পরিবার এবং মঙ্গলদৈয়ে ১০০-র বেশি সংযোগ PNG নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই পরিসংখ্যান দেখায় যে অসমে পাইপের গ্যাসের ভিত্তি তৈরি হচ্ছে, কিন্তু পরিষেবাটি এখনও রাজ্যের প্রতিটি জেলা বা শহরে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েনি।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও PNG ও CNG পরিকাঠামো বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, পাইপের গ্যাসের ব্যবহার বাড়লে LPG আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে রাজ্যে নতুন সংযোগের বাস্তব গতি নির্ভর করবে গ্যাস পাইপলাইন বসানোর খরচ, শহরের ঘনত্ব, জমি ও রাস্তা খোঁড়ার অনুমতি, স্থানীয় ডিস্ট্রিবিউশন সংস্থার ক্ষমতা এবং গ্রাহকের সংযোগ খরচের উপর। রাজ্যজুড়ে PNG পৌঁছে দেওয়ার কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা বা জেলা-ভিত্তিক পূর্ণ তালিকা প্রকাশিত হয়েছে—এমন তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়।
লালা ও হাইলাকান্দির গ্রাহকদের জন্য প্রাসঙ্গিকতা
লালা টাউন ও হাইলাকান্দি জেলার বাসিন্দাদের কাছে এই ঘোষণার তাৎক্ষণিক অর্থ হল—নিজেদের এলাকায় PNG পরিষেবা আছে কি না, তা আগে যাচাই করতে হবে। শুধু ৫০ লাখ নতুন সংযোগের জাতীয় লক্ষ্য ঘোষণা হয়েছে বলে লালা বা হাইলাকান্দির প্রতিটি পরিবার শিগগিরই পাইপের গ্যাস পাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সংশ্লিষ্ট City Gas Distribution সংস্থা, জেলা প্রশাসন বা অনুমোদিত গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রের কাছে নেটওয়ার্ক কভারেজ, আবেদন পদ্ধতি, সংযোগের খরচ, সিকিউরিটি ডিপোজিট, মিটার ও মাসিক বিলের নিয়ম জানতে হবে।
হাইলাকান্দির বহু পরিবার রান্নার জ্বালানির জন্য LPG সিলিন্ডারের উপর নির্ভরশীল। সিলিন্ডার বুকিং, সরবরাহে বিলম্ব, দূরবর্তী এলাকায় ডেলিভারি এবং দাম—এই বিষয়গুলি গ্রাহকদের দৈনন্দিন খরচ ও সময়ের সঙ্গে যুক্ত। PNG নেটওয়ার্ক লালা বা আশপাশে পৌঁছলে নিয়মিত সরবরাহের সুবিধা হতে পারে, কিন্তু পাইপলাইন বসানোর আগে রাস্তা, বাড়ির প্রবেশপথ ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সমীক্ষা প্রয়োজন। গ্রাহকদের তাই অচেনা এজেন্টকে টাকা না দিয়ে শুধুমাত্র অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে আবেদন করা উচিত।
এলপিজি থেকে PNG-তে পরিবর্তন করলে পুরনো সংযোগ, সিলিন্ডার ফেরত, বিলিং এবং জরুরি পরিষেবা সম্পর্কে গ্রাহকদের নিয়ম পরিষ্কারভাবে জানতে হবে। ৫০ লাখ PNG সংযোগের লক্ষ্য LPG বুকিংয়ের সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু এই সুবিধার সাফল্য নির্ভর করবে কত দ্রুত নতুন পাইপলাইন তৈরি হয়, পুরনো নিষ্ক্রিয় সংযোগ সক্রিয় হয় এবং আধা-শহর ও গ্রামীণ এলাকায় পরিষেবা পৌঁছয় তার উপর। লালা ও হাইলাকান্দির জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সরকারি বাস্তবায়ন তালিকায় জেলা ও স্থানীয় এলাকার নাম যুক্ত হয় কি না এবং সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া কবে শুরু হয়।