Read today's news --> ⚡️Click here 

শ্রীভূমিতে বিহু দলে হামলা: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর গ্রেফতার ১৭

শ্রীভূমি জেলায় একটি বিহু দলের উপর হামলার অভিযোগে পুলিশ এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। শ্রীভূমিতে বিহু দলে হামলার এই ঘটনা ঘটেছে ২৪ অক্টোবর, শনিবার রাতে। শহরের হিন্দুস্তান ক্লাবের দুর্গাপূজার প্রতিমা নিরঞ্জনের শোভাযাত্রায় অনুষ্ঠানের জন্য আমন্ত্রিত দলটির শিল্পীরা আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। ২৫ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ঘটনার নিন্দা করে ডিজিপিকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। ২৬ অক্টোবর সোমবার শ্রীভূমি জেলা কমিশনারের অফিসের সামনে যুবক ও মহিলারা বিক্ষোভ দেখান।

কী ঘটেছিল

দলটিতে ১১ জন শিল্পী ছিলেন। তাঁরা বদরপুর থানা এলাকার বরগুল ও আদারকোনা গ্রামের বাসিন্দা। ক্লাবের শেষ নিরঞ্জন শোভাযাত্রায় নাচ-গানের জন্য তাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আয়োজক ও শিল্পীদের মধ্যে বাদানুবাদ থেকে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। বেশ কয়েকজন শিল্পী আহত হন এবং পুলিশ তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যায়।

একদল লোক বরাক উপত্যকায় অসমীয়া গান বাজানোয় আপত্তি তুলেছিল। অভিযোগ, তারা শিল্পীদের উপর হামলা চালায়, কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী বিহু বাদ্যযন্ত্র ভেঙে দেয় এবং কিছু যন্ত্র নিয়ে যায়। এক তরুণ শিল্পীর সোনার চেইনও চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ। এসব তথ্য প্রাথমিক রিপোর্ট ও অভিযোগ-ভিত্তিক।

বিবাদের সূচনা কীভাবে হল, তা নিয়ে এখনও পুলিশের চূড়ান্ত বিবৃতি নেই। কীভাবে বিবাদ শুরু হল এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্তে নির্ধারণ করা হবে। তাই গানের ভাষা নিয়ে আপত্তির অভিযোগ প্রমাণিত সত্য হিসেবে এখানে লেখা হচ্ছে না।

মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশের পদক্ষেপ

এক পোস্টে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ঘটনাকে “গভীরভাবে উদ্বেগজনক ও দুর্ভাগ্যজনক” বলেন। তিনি লেখেন, “বিহু অসমের আত্মা, আমাদের গর্ব ও পরিচয়। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অপমান আমরা কখনও সহ্য করব না।” তিনি স্বরাষ্ট্র দপ্তরেরও দায়িত্বে আছেন। ডিজিপিকে দ্রুত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলেছেন বলে পিটিআই জানিয়েছে।

ডিজিপি হরমিত সিং সামাজিক মাধ্যমে জানান, শ্রীভূমি থানায় মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং ১৩ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের কাজ চলছে।

২৬ অক্টোবর শ্রীভূমি পুলিশ আরও চারজনকে গ্রেফতারের কথা জানায়। ফলে মোট গ্রেফতারের সংখ্যা ১৭। পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তদন্ত চলছে এবং আইন ও শান্তি বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এক সূত্রে হিন্দুস্তান ক্লাবের ১৪ সদস্যকে গ্রেফতারের কথা বলা হলেও ডিজিপির বিবৃতিতে সংখ্যা ১৩, তাই এখানে সেই সংখ্যাই ধরা হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া ও বরাকের প্রেক্ষাপট

ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজ্যের বিভিন্ন দল ও সংগঠন নিন্দা জানিয়েছে । সর্বানন্দ সোনোয়ালও ঘটনার নিন্দা করে বলেছেন, নিজেদের ঐতিহ্যের প্রতি বিদ্বেষ অগ্রহণযোগ্য।

শ্রীভূমিকে বাংলাভাষী-প্রধান শহর বলে বর্ণনা করেছে এবং ঘটনাটিকে অসমীয়া-বাংলা ভাষাগত বিভাজনের প্রেক্ষাপটে আলোচনা করেছে। তবে পুলিশ বা আদালত এখনও এই ঘটনাকে ভাষা-সংক্রান্ত বিরোধ বলে নিশ্চিত করেনি। তদন্তের ফল প্রকাশিত হওয়ার আগে এ ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়।

বরাক উপত্যকা বাংলা, অসমীয়া, মণিপুরি ও আরও বহু ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের অঞ্চল। হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের মতো এলাকার বাসিন্দাদের কাছে পূজা ও বিহুর মতো উৎসব সম্প্রীতির সুযোগ। হাইলাকান্দিতে এই ঘটনার সরাসরি কোনও প্রভাব বা পৃথক প্রতিক্রিয়ার খবর আমি পাইনি। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও বা ভুল তথ্য ছড়ালে উত্তেজনা বাড়তে পারে। তাই যাচাই না করে কিছু শেয়ার করা থেকে বিরত থাকাই বাঞ্ছনীয়।

সামনে কী দেখার

এখন নজর থাকবে বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং জামিন পাওয়া ১৩ জনের বিষয়ে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। হামলার সূত্রপাত কী ছিল, আর কোন ধারায় মামলা হয়েছে, তা পুলিশ স্পষ্ট করলে পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে। আহত শিল্পীদের চিকিৎসার অবস্থা ও ক্ষতিগ্রস্ত বাদ্যযন্ত্রের বিষয়ে সরকারি সহায়তা কী হবে, সেটিও দেখার। শ্রীভূমিতে বিহু দলে হামলার ঘটনা আইনি প্রক্রিয়ায় কত দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে এগোয়, তার উপর নির্ভর করবে স্থানীয় আস্থা ও শান্তি।

শ্রীভূমিতে বিহু দলে হামলা: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর গ্রেফতার ১৭
Scroll to top