Read today's news --> ⚡️Click here 

শিলচর পুরনিগম নির্বাচন ওয়ার্ড ২৮-এ বিজেপির পদযাত্রায় কৌশিক রায়

শিলচর পুরনিগম নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি মনোনীত প্রার্থী অনুশ্রী দেব ভট্টাচার্যের সমর্থনে নির্বাচনী পদযাত্রায় অংশ নিয়েছেন আসামের মন্ত্রী কৌশিক রায়। তাঁর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে রায় জানান, পদযাত্রায় স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতি ছিল এবং উন্নয়নমূলক কাজের প্রশ্নেই ভোটারদের কাছে যাওয়া হয়েছে। তবে পদযাত্রায় উপস্থিতির সংখ্যা বা জনসমর্থনের মাত্রা নিয়ে কোনো সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়নি। শিলচর পুরনিগম নির্বাচন ওয়ার্ড ২৮-এ এই প্রচার কর্মসূচি এমন সময়ে হলো, যখন শহরের প্রথম পুরনিগম নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আর অল্প কয়েক দিন বাকি।

বিজেপির প্রকাশিত প্রার্থী তালিকায় ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য অনুশ্রী দেব ভট্টাচার্যের নাম রয়েছে। ওয়ার্ডটি মহিলা সংরক্ষিত এবং বিজেপি এখানে তাঁকেই প্রার্থী করেছে। কংগ্রেসের তালিকায় একই ওয়ার্ড থেকে প্রতিমা দত্ত প্রার্থী হয়েছেন বলে জানিয়েছে। ফলে ওয়ার্ড ২৮-এ মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে হলেও নির্বাচনী মাঠে অন্য প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর অবস্থান চূড়ান্ত ব্যালট তালিকা থেকেই স্পষ্ট হবে।

ওয়ার্ড ২৮-এ বিজেপির প্রচার কর্মসূচি

কৌশিক রায়ের পোস্টে বলা হয়েছে, বিজেপির প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত পদযাত্রাটি ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন পথে এগিয়েছে। তিনি তাঁর পোস্টে পদযাত্রার সঙ্গে যুক্ত মানুষজনের প্রতিক্রিয়াকে উন্নয়নের পক্ষে সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এটি নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে একজন বিজেপি নেতার রাজনৈতিক মূল্যায়ন; নির্বাচন-ফল বা জনমতের স্বাধীন পরিমাপ হিসেবে একে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

প্রচার কর্মসূচিতে দলীয় নেতাদের উপস্থিতি শিলচরের নির্বাচনী লড়াইয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠনের গুরুত্বকে তুলে ধরে। প্রথমবারের পুরনিগম নির্বাচনে প্রতিটি ওয়ার্ডে রাস্তা, নিকাশি, পানীয় জল, আবর্জনা ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক পরিষেবার মতো স্থানীয় প্রশ্নগুলি ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিলচরের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙা রাস্তা ও জল জমার সমস্যা নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে; বিজেপি উন্নয়ন প্রকল্পকে সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছে, অন্যদিকে কংগ্রেস নাগরিক পরিষেবার ঘাটতির প্রশ্ন তুলছে।

শিলচর পুরনিগম নির্বাচন ওয়ার্ড ২৮-এর প্রেক্ষাপট

শিলচর পৌরসভাকে পুরনিগমে উন্নীত করার পর এটি শহরের প্রথম পুরনিগম নির্বাচন। মোট ৪২টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত নতুন পুরনিগমে ভোটগ্রহণ হবে ৩ অক্টোবর, আর ভোটগণনা নির্ধারিত হয়েছে ৬ অক্টোবর। নির্বাচনের সময়সূচি অনুযায়ী ১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে চারটায় প্রচার শেষ হবে এবং তার পরে নীরব প্রচারের সময় কার্যকর হবে।

ওয়ার্ড ২৮-এর অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে রাধামাধব রোড, কমলা রোড, বিপিন দাস রোড, বিলপার, পাবলিক স্কুল রোড, সূর্য সেন লেন, মন্দির দীঘির পাড়, ভৈরব গলি, কবি করুণারঞ্জন লেন, প্রফেসর পাড়া, শ্যামানন্দ আশ্রম রোড এবং মুক্তারাম রোড। পুরনিগম নির্বাচনে এই ধরনের ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় নিকাশি পরিষ্কার, রাস্তাঘাটের রক্ষণাবেক্ষণ, পানীয় জল, পথবাতি ও বর্জ্য সংগ্রহের কার্যকারিতা ভোটারদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

নির্বাচনী প্রচারে উন্নয়নের দাবি সাধারণত সব দলেরই প্রধান বক্তব্য থাকে। তাই ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো—প্রার্থীরা তাঁদের ওয়ার্ডের নির্দিষ্ট সমস্যা নিয়ে কী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময়সীমা কী, এবং পুরনো নাগরিক সমস্যার সমাধান সম্পর্কে তাঁদের পরিকল্পনা কতটা স্পষ্ট। দলীয় মিছিল বা জনসভার পাশাপাশি প্রার্থী ও তাঁদের প্রতিনিধিদের কাছে এসব প্রশ্ন তোলা গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের একটি কার্যকর পথ।

প্রার্থী, দল ও নির্বাচনী বিধি

বিজেপি শিলচর পুরনিগম নির্বাচনে ৩৮টি ওয়ার্ডে প্রার্থী দিয়েছে এবং জোটসঙ্গী অসম গণ পরিষদের জন্য চারটি ওয়ার্ড ছেড়েছে। দলীয় প্রার্থীকে অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সদস্যদের বিরুদ্ধে পাঁচ বছর পর্যন্ত বহিষ্কারের সতর্কতাও দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ সইকিয়া। এই সিদ্ধান্ত দেখায় যে দলটি ওয়ার্ডভিত্তিক প্রচারে সংগঠনের ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

কাছাড় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাঁদের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছিল। সেখানে নির্বাচনী প্রচারের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে চলা এবং নির্বাচন-সংক্রান্ত অভিযোগ যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর কথা বলা হয়েছে। প্রচার-পর্বে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য এই বিধিগুলি সমানভাবে প্রযোজ্য।

শিলচর পুরনিগম নির্বাচন ওয়ার্ড ২৮-এ কৌশিক রায়ের পদযাত্রা বিজেপির প্রচারকে দৃশ্যমান করলেও, ভোটের ফল নির্ধারিত হবে ওই ওয়ার্ডের ভোটারদের সিদ্ধান্তে। জনসভা, পদযাত্রা ও দলীয় সমর্থনের বাইরে প্রার্থীর নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত পরিকল্পনা এবং ভোটারদের স্থানীয় অভিজ্ঞতাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক হয়ে উঠবে।

বরাক উপত্যকার প্রাসঙ্গিকতা

শিলচর বরাক উপত্যকার প্রধান বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক শহর হওয়ায় এই প্রথম পুরনিগম নির্বাচন শুধু শহরের নাগরিক প্রশাসনের জন্য নয়, পার্শ্ববর্তী হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের বাসিন্দাদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা ও সরকারি কাজের জন্য লালা ও হাইলাকান্দি থেকে নিয়মিত বহু মানুষ শিলচরে যাতায়াত করেন। শহরের নিকাশি, রাস্তা, যানবাহন চলাচল ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি হলে তার প্রভাব পরোক্ষভাবে সমগ্র বরাক উপত্যকার উপর পড়বে।

আগামী কয়েক দিনের প্রচারে ওয়ার্ড ২৮-সহ সব ওয়ার্ডের প্রার্থীরা কীভাবে স্থানীয় সমস্যাগুলি ব্যাখ্যা করেন এবং ভোটারদের কাছে কী প্রতিশ্রুতি দেন, সেদিকেই নজর থাকবে। ৩ অক্টোবরের ভোট এবং ৬ অক্টোবরের গণনা শিলচরের নতুন পুরনিগমের প্রথম নির্বাচিত নেতৃত্ব নির্ধারণ করবে।

শিলচর পুরনিগম নির্বাচন ওয়ার্ড ২৮-এ বিজেপির পদযাত্রায় কৌশিক রায়
Scroll to top