শিলচর পৌর নিগমের প্রথম নির্বাচনে ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩২টিতে জিতেছে বিজেপি। তার জোটসঙ্গী অসম গণ পরিষদ বা এজিপি জিতেছে দুটিতে। কংগ্রেস পেয়েছে দুটি ওয়ার্ড, নির্দল প্রার্থীরা জিতেছেন ছয়টিতে। ৬ অক্টোবরের গণনায় শিলচর পৌর নিগমে বিজেপি জয়ের ফলে এনডিএ-র দখলে গেল মোট ৩৪টি আসন, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমার অনেক ওপরে। নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল ৭০.২২ শতাংশ।
ফলের খুঁটিনাটি
৩ অক্টোবর ৪০টি ওয়ার্ডে ভোট হয়েছে। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেন্দ্র প্রসাদ সিং এবং ২০ নম্বরে ভক্তি সেন তালুকদার আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, বিজেপি ৩৮টি ওয়ার্ডে প্রার্থী দিয়েছিল। ভোটগ্রহণ হওয়া ৪০টি ওয়ার্ডের মধ্যে তারা ৩০টি জিতেছে। দুটি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার জয় যোগ হয়ে তাদের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২। এজিপি চারটি ওয়ার্ডে প্রার্থী দিয়ে ১৬ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড জিতেছে।
জয়ীদের মধ্যে রয়েছেন সৌরভকান্তি নাথ (২ নম্বর ওয়ার্ড), শিবানী রানি দাস (৪), জয় দাস (১৮), সুমনা দাস (২১), মৃণালিনী সিনহা (৩২), উত্তম কুমার গোয়ালা (৩৯) ও পান্থদীপ রায় (৪০)। বিজেপির বিশ্বজিৎ দাস ১ নম্বর ওয়ার্ডে জিতেছেন। কংগ্রেসের রাজর্ষি গোয়ালা ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির দেবস্মিতা নাথকে হারিয়েছেন। 2924
রিকাউন্টের পর অবস্থান
২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে খুব কম ব্যবধানে ফল হয়েছিল। ২৯ নম্বরে নির্দল প্রার্থী সম্পা দেবরায় ধর বিজেপির ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্যকে হারিয়েছিলেন। ৩০ নম্বরে কংগ্রেসের সাক্ষী বণিক ১৩৬ ভোটে জিতেছিলেন। বিজেপি দুই ক্ষেত্রেই রিটার্নিং অফিসারের কাছে পুনর্গণনার আবেদন করে। সেন্টিনেল আসামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুনর্গণনার পরও দুজনকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
একটি সংবাদ সংস্থার আপডেটে পুনর্গণনার পর বিজেপির সংখ্যা ৩৪ থেকে কমে ৩২ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্য প্রায় সব প্রতিবেদনে বিজেপির চূড়ান্ত সংখ্যা ৩২ এবং এনডিএ-র মোট ৩৪। এই তফাত আমার চোখে পড়েছে। আমি তাই চূড়ান্ত সংখ্যা হিসেবে ৩২ ও ৩৪ ব্যবহার করেছি।
নেতাদের প্রতিক্রিয়া
মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ভোটে অংশ নেওয়ার জন্য শিলচরবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সেন্টিনেলের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ফলকে উন্নয়ন, দায়বদ্ধ শাসন ও জনসেবার প্রতি মানুষের আস্থার প্রকাশ বলেছেন। মন্ত্রী কৌশিক রাই প্রচারের সময় শহরবাসীর বিজেপির প্রতি আস্থা দেখতে পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ দিলীপ সাইকিয়া ভোটার, প্রার্থী ও কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
নিগম, রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকার একই রাজনৈতিক শিবিরের হওয়ায় নাগরিক সমস্যায় এখন দোষ ঠেলার সুযোগ কম। এটি পত্রিকার নিজস্ব বিশ্লেষণ। একই সম্পাদকীয়ে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের দুটি ও নির্দলদের ছয়টি জয় দেখায় যে স্থানীয় প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা এখনও কাজ করে।
প্রতিশ্রুতির তালিকা এবং পরীক্ষা
বিজেপির পৌর নিগম সংকল্পপত্রে প্রায় ১০০টি প্রস্তাব ছিল। তার মধ্যে রয়েছে জলনিকাশি, বন্যা ও জলজমা, পানীয় জল, আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, রাস্তা, ফুটপাথ, যানজট, পার্কিং ও ডিজিটাল পরিষেবা। জলজমা প্রবণ এলাকায় পাম্পিং স্টেশন, রাঙিরখাল, বাচাইখাল, লংগাইখাল, সিঙ্গিরখাল ও টাউন খাল চওড়া ও গভীর করা এবং ঢাকা নর্দমার কথাও আছে। পানীয় জলের জন্য পুরনো পাইপ বদল, নতুন ওভারহেড ট্যাঙ্ক ও ২৪×৭ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
আবর্জনার ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ বাড়ি বাড়ি সংগ্রহ, উৎসে বর্জ্য পৃথকীকরণ ও গাড়িতে জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের কথা আছে। নাগরিক পরিষেবা এক জায়গায় আনতে ‘স্মার্ট শিলচর অ্যাপ’-এর প্রস্তাবও রয়েছে। এই প্রতিশ্রুতিগুলির বাস্তবায়নের কোনও সময়সূচি বা বাজেট এখনও প্রকাশিত হয়নি। ফলে এগুলি এখন ঘোষিত লক্ষ্য মাত্র, সম্পন্ন কাজ নয়।
লালা ও হাইলাকান্দির জন্য কী মানে
হাইলাকান্দি জেলা শিলচর পৌর নিগমের এলাকার বাইরে। ফলে এই ফলের কোনও সরাসরি প্রশাসনিক প্রভাব নেই। তবু লালা ও হাইলাকান্দির অনেক মানুষ চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসার জন্য নিয়মিত শিলচরে যান। শহরের রাস্তা, জলজমা, যানজট ও পার্কিংয়ে উন্নতি হলে তার সুফল তাঁরাও পাবেন। একইভাবে সমস্যা বাড়লে তার ভোগান্তিও তাঁদের পোহাতে হবে।
এখন নজর থাকবে কয়েকটি বিষয়ে। প্রথমত, নতুন পরিষদের মেয়র ও ডেপুটি মেয়র কবে নির্বাচিত হন। দ্বিতীয়ত, নির্বাচিত কাউন্সিলররা কবে শপথ নেন। এ দুটির তারিখ আমি এখনও কোনও সরকারি সূত্রে পাইনি। তৃতীয়ত, প্রচারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কতটা বাজেট ও সময়সীমা পায়। মানুষ শেষ পর্যন্ত বিচার করবেন রাস্তা, নর্দমা আর কলের জলে কতটা বদল এল তা দিয়ে।