অসম রাজ্য বিদ্যালয় শিক্ষা পর্ষদ, অর্থাৎ ASSEB, ২০২৭ সালের হাইস্কুল লিভিং সার্টিফিকেট বা HSLC পরীক্ষার অনলাইন ফর্ম পূরণের সময়সূচি ঘোষণা করেছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এইচএসএলসি ২০২৭ ফর্ম পূরণ শুরু হবে ১২ অক্টোবর ২০২৬ থেকে এবং চলবে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত। পরীক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট অনলাইন পরীক্ষা পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। তবে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে সংশ্লিষ্ট স্কুলের মাধ্যমে। ফি জমা, চালান, সংশোধন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার জন্যও ASSEB আলাদা সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।
ফর্ম পূরণের সময়সীমা এক নজরে
ASSEB-এর বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ১২ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে ফর্ম জমা দেওয়া যাবে। অনলাইন ফি পেমেন্ট বা চালান জেনারেট করার শেষ তারিখ ১২ নভেম্বর ২০২৬। চালান তৈরি করলেই প্রক্রিয়া শেষ হবে না; চালানের টাকা স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ায় জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ নভেম্বর। এরপর ফর্মে প্রয়োজনীয় সংশোধন আপলোডের সুযোগ থাকবে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত।
এই সময়সীমাগুলি আলাদা করে মনে রাখা জরুরি। কারণ অনলাইনে ফর্ম জমা দেওয়া, চালান তৈরি এবং ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া—তিনটি এক বিষয় নয়। কোনও স্কুল বা পরীক্ষার্থী যদি ১২ নভেম্বরের মধ্যে চালান তৈরি করেন, তাঁকে ১৬ নভেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হবে। আবার নাম, বিষয় বা অন্য কোনও পরীক্ষাসংক্রান্ত তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হলে ১৯ নভেম্বরের মধ্যে তা আপলোড করতে হবে। ASSEB জানিয়েছে, ওই তারিখের পর বিষয়সংক্রান্ত সংশোধন গ্রহণ করা হবে না।
ফর্ম পূরণের কাজ ১২ অক্টোবর শুরু হয়ে ১০ নভেম্বর শেষ হবে; অনলাইন পেমেন্ট বা চালান তৈরির শেষ দিন ১২ নভেম্বর এবং SBI-তে চালান জমার শেষ দিন ১৬ নভেম্বর।
ফি, চালান এবং ছাড়ের নিয়ম
২০২৭ সালের HSLC পরীক্ষার জন্য পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা ফি ৭০০ টাকা। ব্যবহারিক পরীক্ষা থাকলে অতিরিক্ত ১৫০ টাকা দিতে হবে। এর সঙ্গে কেন্দ্র ফি ৩৫০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। ফলে ব্যবহারিক বিষয় থাকা পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এই তিনটি ফি যোগ করে মোট ১,২০০ টাকা হয়; ব্যবহারিক পরীক্ষা না থাকলে পরীক্ষা ফি ও কেন্দ্র ফি মিলিয়ে মোট ১,০৫০ টাকা দাঁড়ায়। তবে স্কুল বা প্রতিষ্ঠানভেদে অন্য কোনও প্রশাসনিক খরচ থাকলে তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আগে জেনে নেওয়া উচিত।
সরকারি, প্রদেশীকৃত এবং স্বীকৃত স্কুলের যোগ্য পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা ফি মকুবের সুবিধা পেতে পারেন। শর্ত হল, অভিভাবকের সব উৎস মিলিয়ে বার্ষিক আয় ৪ লাখ টাকা বা তার কম হতে হবে। এই সুবিধা ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নবম শ্রেণিতে নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ASSEB-এর বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে প্রতিবেদনগুলিতে জানানো হয়েছে।
ফি ছাড় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে না। অভিভাবক বা অভিভাবিকাকে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের কাছে আবেদন জমা দিতে হবে। স্কুল কর্তৃপক্ষ আয়ের প্রমাণপত্র এবং অন্যান্য নথি যাচাই করার পরে ছাড় অনুমোদন করবে।
এ ছাড়া প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ১,০০০ টাকা বার্ষিক স্বীকৃতি ফি দিতে হবে। এটি পরীক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পরীক্ষা ফি নয়; প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত ফি হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। তাই অভিভাবকদের ব্যক্তিগত ফি এবং স্কুলের প্রাতিষ্ঠানিক ফি—দুটিকে একসঙ্গে না দেখাই ভালো।
যোগ্যতা ও পোর্টাল ব্যবহারের নিয়ম
পরীক্ষার্থীদের সেই স্কুলের মাধ্যমেই ফর্ম পূরণ করতে হবে, যেখানে তাঁরা নবম শ্রেণিতে নিবন্ধিত হয়েছিলেন। সরাসরি অন্য কোনও স্কুল বেছে নিয়ে আবেদন করার সুযোগ নেই। পরীক্ষার পোর্টালে লগইনের জন্য নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনের সময় ব্যবহৃত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ডই কার্যকর থাকবে। পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট ASSEB আঞ্চলিক দফতরের সদস্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
নবম শ্রেণির ইউনিট টেস্ট এবং অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ছাত্রছাত্রীরা HSLC 2027 পরীক্ষায় বসতে পারবেন না বলে ASSEB জানিয়েছে। এই শর্তটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শুধু নবম শ্রেণিতে নিবন্ধন থাকলেই পরীক্ষায় বসার যোগ্যতা তৈরি হয় না। স্কুল কর্তৃপক্ষকে তাই ফর্ম গ্রহণের আগে পরীক্ষার্থীর পূর্ববর্তী একাডেমিক রেকর্ড যাচাই করতে হবে।
ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্টের নম্বর আপলোডের জন্য আলাদা পোর্টাল ১৪ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে খোলা হবে। অর্থাৎ ফর্ম পূরণের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরেও স্কুলগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ চলবে। অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের নম্বর সময়মতো জমা না পড়লে পরীক্ষার্থীর নথি সম্পূর্ণ হতে সমস্যা হতে পারে। তাই স্কুলগুলিকে শুধু শিক্ষার্থীর ফর্ম গ্রহণ করলেই হবে না; পরবর্তী মূল্যায়ন-সংক্রান্ত কাজগুলিও নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে হবে।
লালা টাউন ও হাইলাকান্দির জন্য বার্তা
লালা টাউন এবং হাইলাকান্দি জেলার HSLC পরীক্ষার্থীদের জন্য এই সময়সূচি সরাসরি প্রাসঙ্গিক। ছাত্রছাত্রীদের ১২ অক্টোবরের পর নিজেদের স্কুলে যোগাযোগ করে ফর্ম পূরণের দিন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি জমা এবং পোর্টাল ব্যবহারের পদ্ধতি জেনে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে শেষ দিনের অপেক্ষা না করে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই ফর্ম জমা দেওয়া নিরাপদ। এতে পোর্টালের সমস্যা, ভুল তথ্য বা ব্যাংক-সংক্রান্ত বিলম্ব সামলানোর সময় থাকবে।
ফি ছাড়ের জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক পরিবারের সদস্যদের আয়সংক্রান্ত নথি আগে প্রস্তুত রাখা উচিত। লালা ও হাইলাকান্দির বহু পরিবারে স্কুলের মাধ্যমে একাধিক শিক্ষার্থীর আবেদন একসঙ্গে জমা পড়ে; ফলে শেষ মুহূর্তে নথি যাচাই বা ফি সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে স্থানীয় স্কুলগুলির জন্য আলাদা কোনও সময়সীমা বা হাইলাকান্দি জেলার জন্য বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা ASSEB-এর প্রকাশিত তথ্যগুলিতে উল্লেখ নেই। তাই জেলা বা স্কুলভিত্তিক নির্দেশনা এলে সেটিই চূড়ান্ত হিসেবে মানতে হবে।
এখনও ২০২৭ সালের HSLC মূল পরীক্ষার পূর্ণ রুটিন প্রকাশিত হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। কিছু শিক্ষা-পোর্টাল ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০২৭-এ পরীক্ষা হতে পারে বলে অনুমান প্রকাশ করেছে, কিন্তু তা অফিসিয়াল সূচি নয়। ফলে পরীক্ষার্থীদের এখন প্রথমে ফর্ম পূরণ, ফি প্রদান এবং তথ্য যাচাইয়ের কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। পরবর্তী ধাপে ASSEB রুটিন, অ্যাডমিট কার্ড এবং কেন্দ্র-সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রকাশ করবে।
এইচএসএলসি ২০২৭ ফর্ম পূরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সময়সীমা আলাদা করে মনে রাখা। ১০ নভেম্বরের মধ্যে অনলাইন আবেদন, ১২ নভেম্বরের মধ্যে চালান তৈরি, ১৬ নভেম্বরের মধ্যে SBI-তে টাকা জমা এবং ১৯ নভেম্বরের মধ্যে সংশোধন শেষ করতে হবে। লালা টাউন, হাইলাকান্দি এবং অসমের অন্যান্য এলাকার পরীক্ষার্থীরা স্কুলের নোটিশ নিয়মিত দেখলে এবং ASSEB-এর অফিসিয়াল আপডেট অনুসরণ করলে অপ্রয়োজনীয় ভুল ও দেরি এড়াতে পারবেন।