Read today's news --> ⚡️Click here 

আসাম Delimitation জেরিম্যান্ডারিং নয় বলে দাবি হিমন্তের — বরাক উপত্যকায় কমল দুই আসন, বিরোধীরা সরব

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ১৯ এপ্রিল রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক তীব্র বক্তব্যে কংগ্রেসের জেরিম্যান্ডারিং অভিযোগ সম্পূর্ণ নাকচ করে দিলেন এবং রাজ্যে চলমান আসাম Delimitation প্রক্রিয়াকে “দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সংশোধন” বলে সাফাই দিলেন। এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সম্পন্ন আসামের নির্বাচনক্ষেত্র পুনর্বিন্যাস, যা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার প্রযোজ্য হচ্ছে এবং রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রকে আমূল বদলে দিয়েছে। আসাম Delimitation প্রক্রিয়ায় বরাক উপত্যকার দুটি জেলা — হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জ — প্রত্যেকে একটি করে বিধানসভা আসন হারিয়েছে, যা এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে চলেছে।

হিমন্তের যুক্তি: জেরিম্যান্ডারিং নয়, জনতার অধিকার পুনরুদ্ধার

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বলেন, “জেরিম্যান্ডারিং” শব্দটি কংগ্রেস নেতারা “অতিরিক্ত ব্যবহার” করছেন — উদ্দেশ্য হল Delimitation প্রক্রিয়াকে অবৈধ প্রমাণ করা এবং জনমানসে বিভ্রান্তি তৈরি করা। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী কেন্দ্রের প্রকৃত বিকৃতি ঘটেছিল আগের দশকগুলোতে — যখন নিম্ন আসামের কিছু অংশে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ঘটলেও ভোট-ব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণে প্রতিনিধিত্বের কোনো সংশোধন করা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পুনর্বিন্যাস “জমিনের বাস্তবতা” প্রতিফলিত করছে এবং আদিবাসী সমাজকে যেন রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক না করা হয়, সেই লক্ষ্যে প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য ফেরানো হচ্ছে।

CM হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেছেন, আসাম Delimitation প্রক্রিয়ার ফলে রাজ্যের ১২৬টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১০৩টিতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী এখন “নির্ধারক ভোটার” হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ST (তফশিলি উপজাতি)-র জন্য সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ১৬ থেকে বেড়ে ১৯ হয়েছে। বোড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অঞ্চল ১১টি আসন থেকে ১৫টিতে উঠে এসেছে এবং পশ্চিম কার্বি আংলং একটি নতুন আসন পেয়েছে। কিন্তু এই লাভ যেখানে যেখানে হয়েছে, সেই একই অনুপাতে ঘন জনবসতিপূর্ণ জেলাগুলো — বিশেষত যেখানে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা বেশি — আসন হারিয়েছে।

কংগ্রেস বিরোধীদের পাল্টা যুক্তি: সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বে আঘাত

কংগ্রেস নেতা গৌরব গোগৈ এই আসাম Delimitation প্রক্রিয়াকে সংসদে এবং প্রকাশ্যে বারবার সমালোচনা করেছেন। ১৮ এপ্রিল তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি নিশানা করে বলেন, সরকার দাবি করছে প্রতিটি রাজ্যে আসন ৫০ শতাংশ বাড়বে — কিন্তু সংশোধনী বিলে তার কোনো স্পষ্ট উল্লেখ নেই। তিনি আসাম অ্যাকর্ডের ধারা-৬ বাস্তবায়নের দাবিও তুলেছেন।

Indian Express-এ প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণাত্মক নিবন্ধে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের Delimitation একটি বিশেষ কেন্দ্রের উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করে এটিকে “হিমালিং” — ভারতে জেরিম্যান্ডারিংয়ের প্রথম উল্লেখযোগ্য উদাহরণ — হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আল জাজিরার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগে যেখানে প্রায় ৩৫টি নির্বাচনী কেন্দ্রে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন, এখন সেই সংখ্যা প্রায় ২০-তে নেমে এসেছে। বার্পেটা জেলা ৮টি আসন থেকে ৬টিতে নেমে এসেছে। তিনটি কেন্দ্র — গোয়ালপাড়া পশ্চিম, বার্পেটা এবং নওবৈচা — পুনঃশ্রেণিবিভক্ত হয়েছে, যার ফলে মুসলিম বিধায়কদের নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ কমেছে বলে বিরোধীরা দাবি করছেন।

বরাক উপত্যকা হাইলাকান্দিতে সরাসরি প্রভাব

আসাম Delimitation বিতর্কটি হাইলাকান্দি জেলা তথা লালা টাউনের মানুষের কাছে সরাসরি প্রাসঙ্গিক — কারণ এই প্রক্রিয়ায় হাইলাকান্দি জেলা একটি বিধানসভা আসন হারিয়েছে। Times of India এবং India Today-র তথ্য অনুযায়ী, বরাক উপত্যকা সামগ্রিকভাবে ১৫টি আসন থেকে ১৩টিতে নেমে এসেছে — হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জ প্রত্যেকে এক আসন করে হারিয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বরাক উপত্যকার তিনটি জেলা মিলিয়ে দুটি লোকসভা কেন্দ্র বজায় রাখা হয়েছে।

হাইলাকান্দি জেলায় আগে যে পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্র ছিল, তা কমে চারটি হয়েছে। লালা, আলগাপুর, হাইলাকান্দি ও কাটলিছড়া — এই চারটি কেন্দ্র থেকে এবার ভোটগ্রহণ হবে। আসন সংখ্যা কমার অর্থ হল প্রতিটি কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা বেড়েছে এবং প্রার্থীদের কভার করতে হবে বৃহত্তর ভৌগোলিক এলাকা। Free Press Journal এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই পরিবর্তন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে উদ্বেগ তৈরি করেছে — কারণ বরাক উপত্যকায় উল্লেখযোগ্য মুসলিম জনগোষ্ঠী রয়েছেন যারা এর আগে কয়েকটি কেন্দ্রে নির্ধারক ভূমিকা রেখেছিলেন।

নির্বাচনী রাজনীতিতে Delimitation: ২০২৬ ভোটে আসল পরীক্ষা

আসাম Delimitation বিতর্কটি শেষমেশ একটি রাজনৈতিক প্রশ্নে গিয়ে ঠেকেছে — কে লাভবান আর কে ক্ষতিগ্রস্ত? Times of India-র বিশ্লেষণ বলছে, এই পুনর্বিন্যাস BJP-র অনুকূলে কাজ করার সম্ভাবনা বেশি — কারণ নতুন মানচিত্রে আদিবাসী ও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়েছে। অন্যদিকে বিরোধী কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন আসম সন্মিলিত মোর্চা (ASM) দাবি করছে, এই ভোটে তারা দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে রয়েছে।

সত্যিকারের পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে ৯ এপ্রিলের প্রথম দফা ভোটের মাধ্যমে। ফলাফল দেখাবে — হিমন্তের দাবি অনুযায়ী Delimitation সত্যিই আদিবাসী ও সাধারণ ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে কিনা, নাকি বিরোধীদের অভিযোগ অনুযায়ী এটি নির্বাচনী ফলাফলকে পূর্বনির্ধারিত করার কৌশলী চেষ্টা। বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জের ভোটাররা নতুন নির্বাচনী মানচিত্রে তাদের রায় দিচ্ছেন — এবং সেই রায়ই বলবে, Delimitation তাদের কাছে সংশোধন না বৈষম্য।

আসাম Delimitation জেরিম্যান্ডারিং নয় বলে দাবি হিমন্তের — বরাক উপত্যকায় কমল দুই আসন, বিরোধীরা সরব
Scroll to top