Read today's news --> Click here

গুয়াহাটি পরিবহন সংকট ভোটের আগে তীব্র: বাস নেই, ভাড়া চড়া, আটকা হাজার ভোটার

৯ এপ্রিল ২০২৬-এর আসাম বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগের দিন গুয়াহাটি (Guwahati) শহরে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গুয়াহাটি পরিবহন সংকট ভোটের আগে এতটাই তীব্র আকার নিয়েছে যে শহরের প্রধান বাস টার্মিনাসগুলো যাত্রীদের ভিড়ে উপচে পড়লেও যানবাহনের দেখা নেই। Assam Tribune জানিয়েছে, সরকারি ও রিকুইজিশনকৃত বেসরকারি বাসের বিশাল অংশ নির্বাচন কমিশনের (ECI) নির্দেশে পোলিং পার্টি এবং নির্বাচনী সরঞ্জাম পরিবহনের কাজে নিযুক্ত হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য শহরের ভেতরে এবং শহরের বাইরে যাওয়ার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। খানাপাড়া (Khanapara) ও জালুকবারি (Jalukbari)-তে যাত্রীরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরেও বাস না পেয়ে অটো বা ক্যাবের জন্য মোটা ভাড়া গুনতে বাধ্য হচ্ছেন।

এই সংকটের সরাসরি শিকার হচ্ছেন গুয়াহাটিতে কর্মরত সেই লক্ষাধিক মানুষ, যাঁদের নির্বাচনী তালিকা অন্য এলাকায় — তাঁরা ভোট দিতে নিজ গ্রামে ফিরতে পারছেন কিনা তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। ভোটাধিকারের মতো একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের পথে পরিবহন সংকট এভাবে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ানো বিষয়টিকে কেবল একটি লজিস্টিক সমস্যার গণ্ডি পেরিয়ে একটি নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে পরিণত করেছে।

নির্বাচনী ডিউটি বাস সংকট আসাম: কেন বারবার এই দুর্ভোগ?

প্রতিটি বড় নির্বাচনের আগে আসামে নির্বাচনী ডিউটি বাস সংকট আসাম একটি পরিচিত সমস্যা হিসেবে ফিরে আসে। ECI-এর নিয়ম অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের আগের দিন থেকে শুরু করে ভোটের পরের দিন পর্যন্ত সরকারি ও রিকুইজিশনকৃত যানবাহন পোলিং দল, EVM মেশিন, কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী (CAPF) এবং নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের পরিবহনে ব্যবহার করতে হয়। আসামের মতো ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত এবং বৈচিত্র্যময় ভূভাগের রাজ্যে এই চাহিদা অত্যন্ত বেশি। ফলে একটি ব্যাপক যানবাহন শূন্যতা তৈরি হয় যা শহুরে যাত্রীদের মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে।

The Telegraph-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়েও আসামের বিভিন্ন শহরে একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেবার তেজপুর (Tezpur) থেকে গুয়াহাটির ভাড়া ১৮০ টাকার জায়গায় ৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। জালুকবারি থেকে নলবাড়ির একজন যাত্রী তখন জানিয়েছিলেন, “স্বাভাবিক ভাড়া ছিল পঞ্চাশ টাকা, কিন্তু সেদিন একশো টাকা দিতে হয়েছে।” সাত বছর পরেও সমস্যাটির কোনো কাঠামোগত সমাধান হয়নি।

Guwahati Plus-এর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, আসামে এই বছর নির্বাচনে মোট ২.৫ কোটিরও বেশি নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। এই বিশাল ভোটার সংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শহরে বাস করেন কিন্তু তাঁদের ভোটার কার্ড অন্য জেলায়। প্রতিবারের মতো এবারও এঁরাই সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিশেষ গোষ্ঠীর কথা মাথায় রেখে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

আসাম নির্বাচন ২০২৬ বাস ভাড়া বৃদ্ধি: অটো-ক্যাবের দৌরাত্ম্য

আসাম নির্বাচন ২০২৬ বাস ভাড়া বৃদ্ধি কেবল বাস পরিষেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই — সুযোগের সদ্ব্যবহার করে অটোরিকশা ও অ্যাপ-ভিত্তিক ক্যাব পরিষেবাগুলোও এদিন অস্বাভাবিক ভাড়া আদায় করেছে। খানাপাড়া ও জালুকবারির বাস স্ট্যান্ডে অপেক্ষারত যাত্রীরা জানিয়েছেন, অটোরিকশা চালকরা স্বাভাবিক ভাড়ার তিন থেকে চারগুণ দাবি করছেন এবং অস্বীকার করলে যেতে রাজি হচ্ছেন না। Ola ও Uber-এর মতো ক্যাব পরিষেবায় সার্জ প্রাইসিং (surge pricing) চালু থাকায় সাধারণ রুটেও দ্বিগুণের বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে।

সমস্যা আরও বেড়েছে কারণ অনেক ক্যাবচালক নিজেরাই ভোট দিতে নিজ এলাকায় চলে গেছেন, ফলে পরিষেবায় থাকা গাড়ির সংখ্যা স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অনেক কম। Assam Tribune-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। যাঁরা আর্থিকভাবে সচ্ছল, তাঁরা বেশি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন, কিন্তু দৈনিক মজুরি বা সীমিত আয়ের মানুষদের জন্য এই বাড়তি খরচ বহন করা কঠিন। এই গুয়াহাটি পরিবহন সংকট ভোটের আগে একটি অসম পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেখানে কার্যত অর্থের বিনিময়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ হচ্ছে।

হাইলাকান্দি বরাক উপত্যকায়ও একই দুর্ভোগ

হাইলাকান্দি বরাক উপত্যকা ভোটার ভোগান্তি শুধু গুয়াহাটির সমস্যা নয়। হাইলাকান্দি (Hailakandi) জেলা ও লালা (Lala) টাউনের বাসিন্দা যাঁরা গুয়াহাটি বা শিলচরে (Silchar) কর্মরত, তাঁরাও এই পরিস্থিতির শিকার। শিলচর (Silchar) থেকে হাইলাকান্দি বা লালায় ফেরার বাস এমনিতেই সীমিত — নির্বাচনের দিন আরও কমে যাওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি বহুগুণ বাড়ে। বিশেষত যাঁরা গুয়াহাটিতে থেকে পড়াশোনা বা চাকরি করেন এবং বরাক উপত্যকায় ভোট দিতে ফিরতে চান, তাঁদের জন্য এই পরিবহন সংকট একটি বাস্তব প্রতিবন্ধকতা।

লালা ও হাইলাকান্দির অনেক মানুষ প্রতিদিনকার কাজে শিলচর বা অন্য শহরের ওপর নির্ভরশীল। নির্বাচনের দিন আন্তঃজেলা বাস চলাচল কমে যাওয়ায় এই মানুষগুলো প্রতিবারই একটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবহন বিভাগ যদি আগে থেকে বিকল্প পরিবহনের ব্যবস্থা করে রাখত, তাহলে এই ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব হত।

নির্বাচন শেষ হওয়ার পরেও প্রশ্নটি থেকে যাবে — রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন প্রতিটি নির্বাচনে এই পুনরাবৃত্তিমূলক পরিবহন সংকট এড়াতে কোনো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি করবে কিনা। সাধারণ যাত্রী ও ভোটারদের স্বার্থে প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে পরিবহন পরিকল্পনাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি এখন আরও জোরালো হচ্ছে। আসামের গুয়াহাটি পরিবহন সংকট ভোটের আগে পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

গুয়াহাটি পরিবহন সংকট ভোটের আগে তীব্র: বাস নেই, ভাড়া চড়া, আটকা হাজার ভোটার
Scroll to top