Read today's news --> ⚡️Click here 

NIT শিলচরে র‍্যাডিক্যালাইজেশন তদন্তের দাবি, বজরং দল ও VHP-র স্মারকলিপি এবং আসাম পুলিশের SIT তদন্ত শুরু

শিলচরের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি (NIT শিলচর) ঘিরে এক জটিল বিতর্ক তৈরি হয়েছে বরাক উপত্যকায়। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) এবং বজরং দল এই প্রতিষ্ঠানে র‍্যাডিক্যালাইজেশনের অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে NIA তদন্তের দাবি জানিয়েছে। NIT শিলচরে র‍্যাডিক্যালাইজেশন তদন্তের দাবিটি নতুন নয় — এর আগে আসাম পুলিশের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) ক্যাম্পাসে এসে কয়েকজন অধ্যাপককে জেরা করে গেছে। একটি বিখ্যাত কেন্দ্রীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক বরাক উপত্যকার রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়বস্তু: স্মারকলিপিতে কী বলা হয়েছে

VHP ও বজরং দলের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, NIT শিলচর একটি “সুসংগঠিত ও বিদেশী অর্থায়নে পরিচালিত নেটওয়ার্কের” কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে তাদের ধারণা। তারা অভিযোগ করেছে, কিছু শিক্ষক সদস্য ও বাংলাদেশি ছাত্ররা মিলে ক্যাম্পাসে ধর্মীয় কার্যক্রমকে সংঘটিতভাবে পরিচালনা করছেন এবং শিলচর, হাইলাকান্দি ও শ্রীভূমিতে মসজিদ নির্মাণের জন্য বিদেশি অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, কিছু শিক্ষক হোস্টেলের ভেতরে নামাজ পড়ার জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছেন এবং হালাল খাবার ও গরুর মাংস সরবরাহের ব্যবস্থা করে ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করছেন বলে তাদের অভিযোগ। তবে এই সমস্ত অভিযোগ VHP ও বজরং দলের দাবি — এগুলো এখনও আদালতে প্রমাণিত নয় এবং অভিযুক্ত শিক্ষকরা এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব প্রকাশ্যে দেননি।

SIT তদন্ত: পাঁচ অধ্যাপক জেরার মুখে

গুয়াহাটি থেকে আসা আসাম পুলিশের একটি SIT অক্টোবর ২০২৫-এ NIT শিলচর ক্যাম্পাসে কয়েকদিন ধরে তদন্ত পরিচালনা করেছে। পাঁচজন অধ্যাপক এবং একজন অশিক্ষক কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তের কেন্দ্রে ছিল একটি বিতর্কিত ছবি, যেখানে দেখা যাচ্ছে এক বাংলাদেশি ছাত্র একজন অধ্যাপকের হাতে নগদ টাকার একটি খাম তুলে দিচ্ছেন — অভিযোগ, এই অর্থ মসজিদ নির্মাণের জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ছাত্রের নাম মোহাম্মদ মিরাজুল ইসলাম সায়েম, যিনি বাংলাদেশের খুলনা জেলা থেকে এসে ICCR বৃত্তির অধীনে ২০২০ সালে NIT শিলচরে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে ভর্তি হয়েছিলেন। পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, সায়েম পরবর্তীতে ভারত ও বাংলাদেশের মুসলিম ছাত্রদের মধ্যে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ। SIT তদন্তকারীরা Foreign Contribution (Regulation) Act বা FCRA লঙ্ঘনের সম্ভাবনাও পরীক্ষা করছেন।

পাঁচ বাংলাদেশি ছাত্র বহিষ্কার: ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

এই সমগ্র বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল আরও আগে। ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ রাতে NIT শিলচরের হোস্টেলে একটি মারাত্মক সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনায় পাঁচজন বাংলাদেশি ছাত্র — সকলেই ICCR বৃত্তিতে পড়ছিলেন — নিজেদের সতীর্থ বাংলাদেশি ছাত্রদের উপর রড, ছুরি ও স্ক্রু-ড্রাইভার নিয়ে আক্রমণ করেন। আক্রমণকারীরা তাদের মাদক দ্রব্যের প্রভাবে ছিলেন বলে সন্দেহ করা হয়।

NIT শিলচরের পরিচালক দিলীপ কুমার বৈদ্য ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ একটি আনুষ্ঠানিক আদেশের মাধ্যমে পাঁচজন ছাত্রকে দুই সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করেন এবং বলেন, “তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের যথেষ্ট প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে।” পরে এই পাঁচজনকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বহিষ্কৃত একজন ছাত্র পরে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে অভিযোগ জমা দেন — যে অভিযোগের সঙ্গে সায়েমের সেই বিতর্কিত ছবিও জুড়ে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রশ্ন তোলা হয়েছিল কেন সায়েমকে শাস্তি দেওয়া হয়নি।

বরাক উপত্যকা হাইলাকান্দির প্রাসঙ্গিকতা

NIT শিলচর শুধু শিলচর শহরের প্রতিষ্ঠান নয় — এটি গোটা বরাক উপত্যকার গর্বিত কেন্দ্রীয় প্রযুক্তি বিদ্যাপীঠ, যেখানে হাইলাকান্দি ও লালা টাউন থেকেও বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রী পড়তে যায়। VHP ও বজরং দলের স্মারকলিপিতে হাইলাকান্দিতে মসজিদ নির্মাণের জন্য বিদেশি অর্থ সংগ্রহের যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি স্বাভাবিকভাবেই হাইলাকান্দির বাসিন্দাদের কাছে বিশেষ মনোযোগ দাবি করে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি এবং SIT তদন্ত এখনও চলমান।

বরাক উপত্যকার শিক্ষামহলের একাংশ মনে করছেন, NIT শিলচরের মতো একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষা করা জরুরি — একই সঙ্গে প্রকৃত অনিয়ম থাকলে তা নির্মোহভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্য বিবৃতি দেননি, কিন্তু পুলিশি তদন্তে সহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সামনের পথ: NIA তদন্ত হবে কি?

NIT শিলচরে র‍্যাডিক্যালাইজেশন তদন্তের দাবি নিয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন — আসাম পুলিশের SIT কতটা এগোতে পারবে এবং কেন্দ্রীয় সরকার NIA তদন্তের অনুমতি দেবে কিনা। VHP ও বজরং দলের স্মারকলিপি রাজ্য সরকারের কাছে গেছে, কিন্তু NIA তদন্তের অনুমোদন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।

তদন্ত যেদিকেই যাক — এই বিতর্ক বরাক উপত্যকার বহুভাষিক ও বহু-ধর্মাবলম্বী সমাজে যে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। একটি কেন্দ্রীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও একাডেমিক পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি নিরীহ শিক্ষার্থী ও অধ্যাপকদের উপর অযৌক্তিক সন্দেহের বোঝা চাপানো যেন না হয় — এই দুটি ভারসাম্যই এখন সবচেয়ে জরুরি দাবি।

NIT শিলচরে র‍্যাডিক্যালাইজেশন তদন্তের দাবি, বজরং দল ও VHP-র স্মারকলিপি এবং আসাম পুলিশের SIT তদন্ত শুরু
Scroll to top