Read today's news --> ⚡️Click here 

শিলচর বিনিয়োগ প্রতারণায় মূলহোতা জয়দীপ দত্ত গ্রেপ্তার, কোটি টাকার ঠকবাজির অভিযোগ

মাসিক ১৫ শতাংশ রিটার্নের প্রলোভন দেখিয়ে বরাক উপত্যকার তিনটি জেলায় কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শিলচর পুলিশ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্তের নাম জয়দীপ দত্ত, বয়স ৩৮ বছর, বাড়ি শিলচর থানার অধীন শ্রীকোণা পার্ট-১ এলাকায়। শিলচর বিনিয়োগ প্রতারণার এই মামলায় কাছাড় পুলিশের তারাপুর টিম বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে — কয়েক মাস ধরে পলাতক থাকার পর তাঁকে ধরা সম্ভব হলো।

কীভাবে চলছিল প্রতারণার জাল

জয়দীপ দত্ত গত দেড় থেকে দুই বছর ধরে বরাক উপত্যকার বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অনলাইন স্টক মার্কেট ট্রেডিংয়ের নামে বিনিয়োগ সংগ্রহ করছিলেন। বিনিয়োগকারীদের প্রতি মাসে মূল বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ হারে রিটার্ন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো — কারো কারো কাছ থেকে ২০ শতাংশ রিটার্ন এবং প্রতি ত্রৈমাসিকে মুনাফার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। আস্থা অর্জনের জন্য একটি MoU বা সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষর করানো হয়েছিল বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে, যাতে বিনিয়োগের বৈধতার একটি মিথ্যা আভাস তৈরি হয়।

প্রাথমিক তদন্তে কাছাড় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজত কুমার পাল জানিয়েছেন, “প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত গত প্রায় দেড় বছরে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৩৭ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করেছেন।” মোট প্রতারণার পরিমাণ ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে। এই বিশাল ফারাক দেখাচ্ছে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং অনেক ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী হয়তো এখনও অভিযোগ দায়ের করেননি।

হাইলাকান্দি সহ তিন জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী

এই মামলার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকটি হলো ভৌগোলিক বিস্তার। অভিযোগ এসেছে বরাক উপত্যকার তিনটি জেলা — কাছাড়, হাইলাকান্দি এবং শ্রীভূমি থেকে। অর্থাৎ শুধু শিলচর শহরেই নয়, লালা ও হাইলাকান্দির মানুষরাও এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত অন্তত ২৪ জন ব্যক্তি পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তারির সময় জয়দীপ দত্তের কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা নগদ, একটি ল্যাপটপ এবং তিনটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন সংগৃহীত টাকা ঠিক কোথায় এবং কোন উপায়ে বিনিয়োগ করা হয়েছিল এবং এই প্রতারণায় আরও কেউ জড়িত কিনা। অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে বুধবার আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং পুলিশ আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজত চেয়েছে।

কেন এই ধরনের প্রতারণা এত সফল হয়

‘মাসিক ১৫ শতাংশ রিটার্ন’ — এই সংখ্যাটিকে বাস্তবতার আলোয় বিচার করলেই বোঝা যায় এটি কোনো বৈধ বিনিয়োগ থেকে সম্ভব নয়। ভারতের স্বীকৃত মিউচুয়াল ফান্ড বা শেয়ার বাজারে গড় বার্ষিক রিটার্ন সাধারণত ১২ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে থাকে — অর্থাৎ মাসে মাত্র ১ থেকে ১.২৫ শতাংশ। মাসে ১৫ শতাংশ রিটার্ন দেওয়া শুধু অবাস্তবই নয়, এটি সরাসরি পনজি স্কিমের বৈশিষ্ট্য — যেখানে নতুন বিনিয়োগকারীদের টাকা দিয়ে পুরনো বিনিয়োগকারীদের ‘রিটার্ন’ মেটানো হয়। বরাক উপত্যকার মতো আধা-শহুরে ও গ্রামীণ এলাকায় আর্থিক সাক্ষরতার অভাবে এই ধরনের ফাঁদে পড়া মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি।

লালা হাইলাকান্দির পাঠকদের জন্য সতর্কবার্তা

শিলচর বিনিয়োগ প্রতারণার এই মামলা হাইলাকান্দি জেলার — বিশেষত লালা এলাকার — মানুষের জন্যও সরাসরি সতর্কবার্তা বহন করে। তদন্তে হাইলাকান্দি থেকে ক্ষতিগ্রস্তের কথা উঠে আসছে — অর্থাৎ এই প্রতারণার জাল লালা পর্যন্তও বিস্তৃত হয়ে থাকতে পারে। যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ জয়দীপ দত্ত বা তাঁর পরিচালিত কোম্পানিতে টাকা বিনিয়োগ করে থাকেন, তাহলে অবিলম্বে নিকটতম থানায় বা কাছাড় পুলিশের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন।

বরাক উপত্যকায় এই ধরনের বিনিয়োগ প্রতারণা এটাই প্রথম নয় এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে শেষও নাও হতে পারে। জয়দীপ দত্তের গ্রেপ্তারের পর তদন্ত এখন গভীরতর হচ্ছে — পুলিশ নিশ্চিত করতে চাইছে আর কোনো সহযোগী এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত কিনা এবং হাওয়া হয়ে যাওয়া কোটি কোটি টাকার সন্ধান মিলবে কিনা। লালাবাজার.কম এই মামলার গতিবিধির উপর নজর রাখছে এবং পরবর্তী আপডেট পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেবে।

শিলচর বিনিয়োগ প্রতারণায় মূলহোতা জয়দীপ দত্ত গ্রেপ্তার, কোটি টাকার ঠকবাজির অভিযোগ
Scroll to top