Read today's news --> Click here

চা শ্রমিকদের ৫০০ টাকা দৈনিক মজুরির প্রতিশ্রুতি চৌহানের, গোলাঘাটের সভায় একাধিক কল্যাণ ঘোষণা

আসাম বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র তিন দিন বাকি থাকতে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান (Shivraj Singh Chouhan) রবিবার গোলাঘাটে (Golaghat) একটি জনসভায় চা শ্রমিকদের জন্য ৫০০ টাকা দৈনিক মজুরির প্রতিশ্রুতি দিলেন। চা শ্রমিকদের ৫০০ টাকা দৈনিক মজুরির প্রতিশ্রুতি ছাড়াও তিনি গৃহ সংস্কারে ৭৫ হাজার টাকা সাহায্য, স্নাতক ছাত্রদের বৃত্তি বৃদ্ধি এবং সরকারি চাকরিতে ৩ শতাংশ সংরক্ষণের ঘোষণা করেন। বোকাখাত (Bokakhat) কেন্দ্রের NDA প্রার্থী অতুল বোড়ার (Atul Bora) পক্ষে এই জনসভায় কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও সরাসরি আক্রমণ শানালেন তিনি।

ওই দিন হেলিকপ্টারে গোলাঘাট পৌঁছে চৌহান প্রথমে বিহোরা টি এস্টেটে (Bihora Tea Estate) চা বাগান শ্রমিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং নিজে চা পাতা তোলেন। এরপর স্থানীয় শিল্পীদের সঙ্গে ঝুমুর নৃত্যেও অংশ নেন। তাঁর এই প্রচারসফরে BJP-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ শাইকিয়া (Dilip Saikia), সাংসদ কামাখ্যাপ্রসাদ তাসা (Kamakhya Prasad Tasa), প্রাক্তন বিধায়ক পোনকান বরুয়া (Ponakan Baruah) সহ BJP-AGP জোটের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক মজুরির বর্তমান চিত্র এবং ৫০০ টাকার প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষাপট

আসামের চা শ্রমিকদের মজুরির প্রশ্নটি বহু দশক ধরে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬-এর ১ এপ্রিল থেকে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় চা বাগানের শ্রমিকরা দৈনিক ২৮০ টাকা এবং বরাক উপত্যকায় ২৫৮ টাকা পাচ্ছেন, যা আগের ক্রমশ ২৫০ ও ২২৮ টাকা থেকে ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় এই মজুরি ছিল মাত্র ১৯৭ টাকা — পাঁচ বছরে ৪০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সরকার দাবি করছে।

তবে শ্রমিকরা এই বৃদ্ধিকে যথেষ্ট মনে করছেন না। India Today-এর এক প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, আসামের ৩৮টি বিধানসভা আসনকে প্রভাবিত করে এমন চা শ্রমিক সম্প্রদায়ের প্রাথমিক দাবি ছিল ৫০০ টাকা, এবং তারা ন্যূনপক্ষে ৩৫১ টাকায় রাজি হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চৌহানের চা শ্রমিকদের ৫০০ টাকা দৈনিক মজুরির প্রতিশ্রুতি শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় এটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

এর পাশাপাশি চৌহান আরও জানান, যেসব চা শ্রমিক ইতিমধ্যে বাড়ির মালিক কিন্তু সংস্কারের প্রয়োজন আছে, তাদের ৭৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। স্নাতক স্তরের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক বৃত্তি ৭,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২,০০০ টাকা করা হবে। এবং সরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে চা বাগান ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য ৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করা হবে। BJP-র ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারেও ২ লক্ষ সরকারি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি রয়েছে, যার একটি বড় অংশ চা সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে রচিত।

কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ চা সম্প্রদায়ের জমির দলিল

জনসভায় চৌহান কংগ্রেসের ওপর সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন যে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার (Priyanka Gandhi Vadra) আসাম সফরের পর থেকে কংগ্রেসের ভেতরে অন্তর্দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়েছে। তিনি বলেন, “বিভক্ত কংগ্রেস রাজ্যের উন্নয়ন করতে পারবে না। NDA জোটই একমাত্র অগ্রগতির পথ দেখাতে সক্ষম। জনতার প্রতিক্রিয়া দেখে পরিষ্কার বুঝতে পারছি, এই নির্বাচনে কংগ্রেস টিকবে না।”

NDA BJP আসাম ভোট ওয়াদা-র অংশ হিসেবে চৌহান আরও উল্লেখ করেন যে NDA সরকারের উদ্যোগে Mission Basundhara প্রকল্পের মাধ্যমে চা বাগানের শ্রমিকরা জমির পাট্টা (land patta) পেয়েছেন এবং এখন তারা নিজস্ব জমির মালিক। তিনি আরও বলেন, “যেসব শ্রমিক জমির পাট্টা পেয়েছেন, তারা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার (Pradhan Mantri Awas Yojana) আওতায় বাড়ির সুবিধাও পাবেন।” মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার (Himanta Biswa Sarma) ভূমিকার প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান সহ অন্যান্য অঞ্চলে অবৈধ দখল থেকে ১.২৬ লক্ষ একর জমি মুক্ত করা হয়েছে।”

বরাক উপত্যকার চা শ্রমিক হাইলাকান্দির প্রেক্ষাপট

চা বাগান শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধি ২০২৬-এর এই আলোচনা শুধু ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় সীমাবদ্ধ নয়। বরাক উপত্যকা, বিশেষত হাইলাকান্দি জেলার লালা বাজার ও আশেপাশের এলাকায়ও বেশ কয়েকটি চা বাগান রয়েছে এবং সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আদিবাসী চা শ্রমিক পরিবার বসবাস করেন। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে বরাক উপত্যকায় দৈনিক মজুরি ২৫৮ টাকায় উন্নীত হয়েছে, কিন্তু শ্রমিকরা জানাচ্ছেন এই মজুরিতে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার খরচ মেটানো কঠিন।

৫০ হাজারেরও বেশি আদিবাসী চা শ্রমিক ডিব্রুগড়ে (Dibrugarh) বিক্ষোভ করে Scheduled Tribe (ST) মর্যাদা এবং ভালো মজুরির দাবি তুলেছিলেন — এটা বলে দেয়, চা শ্রমিকদের ৫০০ টাকা দৈনিক মজুরির প্রতিশ্রুতি কতটা আবেগঘন ইস্যু এই নির্বাচনে। হাইলাকান্দির চা বাগান এলাকায় যারা থাকেন, তাদের কাছে এই প্রতিশ্রুতি কতটা বিশ্বাসযোগ্য, তা নির্ভর করছে অতীতে করা একইরকম প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ হয়েছে তার ওপর।

৯ এপ্রিলের ভোটের পর মজুরির এই প্রতিশ্রুতি কার্যকর হবে কি না, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। উল্লেখযোগ্য যে ২০১৬ সালে BJP ৩৫১ টাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু তা পূরণ হয়নি বলে কংগ্রেস বারবার অভিযোগ করে আসছে। সেই ইতিহাস মাথায় রেখে ৫০০ টাকার এই নতুন ঘোষণা কতটা আসামের চা শ্রমিক ভোটারদের মনে আস্থা তৈরি করতে পারবে এবং ৩৮টি আসনের নির্বাচনী হিসেবকে কোন দিকে নিয়ে যাবে — সেটাই এবার দেখার বিষয়।

চা শ্রমিকদের ৫০০ টাকা দৈনিক মজুরির প্রতিশ্রুতি চৌহানের, গোলাঘাটের সভায় একাধিক কল্যাণ ঘোষণা
Scroll to top