Read today's news --> Click here

কাছাড় ঝড় বিপর্যয়ে সিলচারজুড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, ভূমিকম্পের পরেই আঘাত হানল ঘূর্ণিঝড়

১২ এপ্রিল রবিবার আসামের কাছাড় জেলায় একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ে, সিলচার ও সংলগ্ন বরাক উপত্যকার বিস্তৃত এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়। কাছাড় ঝড় বিপর্যয়ের আগে সেই সকালেই ৪.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প জেলাটিকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। Assam Tribune-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোর ৯টা ২১ মিনিটে কাছাড় জেলায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে এবং বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে বাইরে ছুটে আসেন। তারপর দুপুর ১টার কাছাকাছি সময়ে ঘূর্ণিঝড় এসে প্রায় এক ঘণ্টা তাণ্ডব চালায়। Hindustan Times-এর বরাতে জানা গেছে, তীব্র বাতাস, শিলাবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সংঘটিত হয়।

ভূমিকম্পের পর ঘূর্ণিঝড়: একদিনে দ্বিগুণ আঘাত

সকালে ভূমিকম্পের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ অন্ধকার হয়ে আসে কাছাড়ে। NE News-এর প্রতিবেদন বলছে, সিলচরের বুক চিরে দমকা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়, অসংখ্য গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গিয়ে অনেক এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। Assam Tribune জানাচ্ছে, সিলচরের মালুগ্রাম, তারাপুর ও DC Office চত্বরে কয়েক দশকের পুরনো বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে মূল সড়কগুলো বন্ধ হয়ে যায়, যা যান চলাচল ও জরুরি পরিষেবা বিঘ্নিত করে। পড়ে যাওয়া গাছের ডাল ও ভাঙা তার সরাতে ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জরুরি দল মাঠে নামে।

ঝড়ের তাণ্ডব কেবল শহরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। India Today NE-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেরেঙ্গা, অরকাটিপুর, কাশীপুর, বানস্কান্দি, সোনাই, কাটিগোরাহ, দয়াপুর, ধোলাই এবং বরখোলা — এই নয়টি এলাকা। এই এলাকাগুলোর বহু বাড়ি ও দোকানের চাল উড়ে গেছে, বাগান ও গাছপালা মাটিতে মিশে গেছে এবং ভাঙা গাছ পড়ে আবাসিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

DDMA উদ্ধার অভিযান ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক চিত্র

Hindustan Times-এর প্রতিবেদনে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ DDMA-র কর্মকর্তা শামিম আহমেদ লস্কর বলেছেন, “ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়ামাত্র আমরা উদ্ধার দল মাঠে পাঠিয়েছি। কিছু আহতের খবর মিলেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির তথ্য নেই।” মাঠ কর্মকর্তা রণবিজয় দাস জানান, সিলচর শহর, কাটিগোরাহ ও উধারবন্দ এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। তিনি আরও বলেন, “অনেক জায়গায় বড় গাছ ভবনের উপর পড়ে আছে, উদ্ধার দলগুলো প্রথমে সেগুলো সরানোর কাজ করছে।”

India Today NE জানাচ্ছে, বিদ্যুৎ বিভাগের দল ছিঁড়ে যাওয়া সংযোগ লাইন মেরামত করতে এবং বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু করে দিয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়েছে যে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতার কারণে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারে কিছুটা সময় লাগতে পারে। Silchar-এর শ্যামানন্দ ভৈরব বাড়ি মন্দিরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, SDRF কর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে সেখানে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে অংশ নিচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমে বাসিন্দারা দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ক্ষয়ক্ষতির ছবি শেয়ার করতে থাকেন, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

হাইলাকান্দি লালা টাউন: বরাক উপত্যকার বাড়তি উদ্বেগ

এই ঘূর্ণিঝড় এমন একটি সময়ে এল যখন বরাক উপত্যকার তিনটি জেলা — কাছাড়, হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জ — এমনিতেই বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের চাপে বিপর্যস্ত। মাত্র পাঁচ দিন আগে, ৭ এপ্রিল, হাইলাকান্দি জেলা কেন্দ্রিক ৪.৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের ধাক্কায় সমগ্র বরাক উপত্যকা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। লালা টাউনসহ হাইলাকান্দি জেলার বাসিন্দারা সেই কম্পনও সরাসরি অনুভব করেছিলেন। Times of India-র প্রতিবেদনে জানা গিয়েছিল, সিলচরের লিংক রোডের এক বাসিন্দা বলেন, “এত তীব্র কম্পন অনেকদিন অনুভব করিনি, কিছুক্ষণ আরও স্থায়ী হলে বড় বিপদ হতে পারত।”

এই ঝড়ের প্রভাব হাইলাকান্দি জেলাতেও কতটা পড়েছে তা এখনো সম্পূর্ণভাবে যাচাই করা যায়নি। তবে কাছাড় ও হাইলাকান্দি পাশাপাশি জেলা হওয়ায় এবং বরাক উপত্যকার জলবায়ু ও আবহাওয়া প্যাটার্ন একই ধাঁচের হওয়ায়, লালা টাউন ও আশেপাশের এলাকায়ও ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টির প্রভাব অনুভূত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে। প্রতি বছর এপ্রিল মাসে বরাক উপত্যকায় কালবৈশাখী ধরনের প্রাক-বর্ষা ঝড়ের ঘটনা ঘটে, তবে এবারের মতো ভূমিকম্পের সঙ্গে মিলিয়ে একই দিনে দুটি দুর্যোগের মুখোমুখি হওয়া অস্বাভাবিক।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রতি বরাক উপত্যকার এই দীর্ঘদিনের ঝুঁকি কেবল সম্পদের ক্ষতি ঘটায় না — প্রতিটি ঝড়, ভূমিকম্প বা বন্যা এই অঞ্চলের পরিকাঠামো, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়। Telegraph India-র আগের এক প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছিল, বরাক উপত্যকায় বন্যায় বিদ্যুতের ট্রান্সমিশন টাওয়ার ভেসে গেলে পুরো জেলা দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে থাকতে বাধ্য হয়েছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ পরিকাঠামো শক্তিশালী করার দাবি অঞ্চলের একটি পুরনো ও অমীমাংসিত প্রশ্ন।

কাছাড় জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন চলছে এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনের পরিকল্পনা সেই অনুযায়ী নেওয়া হবে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই এই ধরনের ঝড়ের ঘটনা এই অঞ্চলে আগামী মাসগুলোয় আরও কঠিন পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিচ্ছে। বাসিন্দাদের দুর্যোগকালীন সতর্কতা মেনে চলার ও আবহাওয়া পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে জেলা কর্তৃপক্ষ।

কাছাড় ঝড় বিপর্যয়ে সিলচারজুড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, ভূমিকম্পের পরেই আঘাত হানল ঘূর্ণিঝড়
Scroll to top