Read today's news --> Click here

নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম র‍্যালি গ্যাংটকে — সিকিমে মহিলাদের ঐতিহাসিক পদযাত্রা আজ

নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম র‍্যালি আজ ১৭ এপ্রিল শুক্রবার সিকিমের রাজধানী গ্যাংটকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মহিলারা এই পদযাত্রায় অংশ নিতে সকাল ১০টায় দেওড়ালি তাতা স্ট্যান্ডে জমায়েত হন এবং পদযাত্রাটি পালজোর স্টেডিয়ামে এসে শেষ হয়। র‍্যালিটি আয়োজন করেছেন রাজ্যের বিশিষ্ট মহিলা ব্যক্তিত্বরা — উদ্দেশ্য একটাই: ২০২৩ সালে সংসদে পাস হওয়া নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মকে ২০২৯ সালের আগেই কার্যকর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো এবং এই উদ্যোগের প্রতি গণসমর্থন প্রদর্শন করা। এই র‍্যালি শুধু সিকিমে সীমাবদ্ধ নয় — একই দিনে ত্রিপুরার আগরতলাসহ উত্তর-পূর্বের একাধিক রাজ্যে মহিলারা পথে নেমে এই আইনের সমর্থনে পদযাত্রায় অংশ নিয়েছেন।

র‍্যালির পেছনের বার্তা: কেন এই আয়োজন?

নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম র‍্যালির মূল উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম সিকিম বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার রাজকুমারী থাপা। গত মঙ্গলবার গ্যাংটকের হোটেল তাশি দেলেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই আইন “লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলোতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করে এবং কেন্দ্র সরকারের একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।” তিনি আরও বলেন, এই আইন মহিলাদের নীতিনির্ধারণে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে এবং নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে সুযোগ দেবে। রাজকুমারী থাপা প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং-গোলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান — কারণ সিকিমে ইতিমধ্যেই রাজনীতি, আমলাতন্ত্র ও বিভিন্ন সেক্টরে মহিলাদের সুযোগ বেড়েছে।

র‍্যালির আয়োজক কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান, আপার বুর্টুক বিধায়ক কালা রাই জানান, এই পদযাত্রা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক — যে কোনো দলের মহিলারা এতে অংশ নিতে পারবেন। র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন জিলা আধ্যক্ষ, কাউন্সিলর, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারপার্সন এবং রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের মহিলা নেত্রীরা।

জাতীয় প্রেক্ষাপট: সংসদ থেকে রাজপথ পর্যন্ত

নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম র‍্যালি গ্যাংটকে আয়োজিত হওয়ার ঠিক আগের দিন — ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত — লোকসভায় একটি বিশেষ তিন দিনের অধিবেশনে সংসদ সদস্যরা নারী সংরক্ষণ আইনের বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সংশোধনী নিয়ে আলোচনা করছেন। এই অধিবেশনের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই জাতীয়ভাবে মহিলাদের মধ্যে সচেতনতা ও সমর্থন তৈরি করতে কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ১৭ ও ১৮ এপ্রিল সারা দেশে “নারী শক্তি বন্দন রান” আয়োজন করছে — দিল্লি, কটক, পাটনা, মুম্বই, ইন্দোর, বেঙ্গালুরু ও জয়পুরে।

PIB-এর তথ্য অনুযায়ী, এই রানে MY Bharat, NSS, SAI এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের মাধ্যমে ছাত্রী, পেশাদার নারী, উদ্যোক্তা, ক্রীড়াবিদ এবং সুশীল সমাজের মহিলাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রায় ২ থেকে ৩ কিলোমিটার দৌড়ের শেষে নারী শক্তি শপথ গ্রহণ এবং সনদপ্রদান অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। এই সমগ্র উদ্যোগের লক্ষ্য হল জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এটি বোঝানো যে নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কেবল সংসদীয় বিষয় নয় — এটি সমাজের প্রতিটি স্তরের দাবি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ২০২৩ সালে সংসদে পাস হওয়া এই আইনে SC ও ST মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের মধ্যে আলাদা কোটারও বিধান রয়েছে — এবং আইনটি সীমানা পুনর্নির্ধারণের পরে কার্যকর হবে বলে নির্ধারিত ছিল।

আসাম হাইলাকান্দির দৃষ্টিভঙ্গি

সিকিমের গ্যাংটকে এই নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম র‍্যালি এবং ত্রিপুরার আগরতলায় একযোগে পদযাত্রার ঘটনা আসামের মহিলাদের মধ্যেও আলোচনার ঢেউ তুলেছে। আসামে সরকারি স্তরে বড় র‍্যালির খবর এখনো পাওয়া যায়নি, তবে রাজ্য BJP-র মহিলা মোর্চা বিভিন্ন জেলায় স্থানীয়ভাবে সমর্থনমূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করছে। হাইলাকান্দি জেলায় — যেখানে লালা টাউন অবস্থিত — বাংলাভাষী মহিলাদের বড় অংশ নারী সংরক্ষণ বিলের বিষয়ে সচেতন এবং আগ্রহী। ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর হলে বরাক উপত্যকার জেলা পরিষদ থেকে শুরু করে রাজ্য বিধানসভা পর্যন্ত মহিলা প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে — যা এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক-সামাজিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

গ্যাংটকের এই র‍্যালি এবং সারা দেশে একযোগে মহিলাদের পথে নামার এই ঢেউ আসলে একটি বার্তা দিচ্ছে — ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষায় থাকা নারী সংরক্ষণের বিষয়টি এবার আর স্রেফ সংসদীয় বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই, এটি রাজপথের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে এই আইন কার্যকর হলে ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় মহিলাদের সত্যিকারের অংশীদারিত্বের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হবে — এবং সেই পরিবর্তনের প্রতিধ্বনি লালা থেকে গ্যাংটক, সবখানেই পৌঁছাবে।

নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম র‍্যালি গ্যাংটকে — সিকিমে মহিলাদের ঐতিহাসিক পদযাত্রা আজ
Scroll to top