কৌশিক রাই লক্ষীপুর আসনে ২০২৬ সালের অসম বিধানসভা নির্বাচনে BJP-র হয়ে দ্বিতীয়বার জয়ী হয়েছেন। ১৪টি রাউন্ডের গণনা শেষে তাঁর এগিয়ে থাকার ব্যবধান এতটাই বিশাল হয়ে গেছে যে ফলাফল গাণিতিকভাবে আর পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। কৌশিক রাই ৪৬,৭১২ ভোট পেয়েছেন এবং Congress-এর প্রতিদ্বন্দ্বী এম. শান্তি কুমার সিংহ পেয়েছেন মাত্র ৯,৬১৯ ভোট — ব্যবধান ৩৭,০৯৩। কৌশিক রাই-এর ভোট শেয়ার দেখানো হচ্ছে ৭৯.২৭%। কৌশিক রাই লক্ষীপুর আসনে এই জয় শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয় — এটি BJP-র কাছাড় জেলা ও বরাক উপত্যকায় ক্রমবর্ধমান শক্তির প্রমাণ।
২০২১ থেকে ২০২৬ — অবিশ্বাস্য রূপান্তর
লক্ষীপুরের নির্বাচনী ইতিহাসে কৌশিক রাই লক্ষীপুর আসনের এই রূপান্তর সত্যিই উল্লেখযোগ্য। ২০২১ সালে একই কৌশিক রাই মাত্র ৭৯৮ ভোটের অত্যন্ত সামান্য ব্যবধানে জিতেছিলেন — Congress-এর মুকেশ পাণ্ডেকে হারিয়ে। সেই নির্বাচনে কৌশিক রাই পেয়েছিলেন ৫৪,৮৯৬ ভোট এবং মুকেশ পাণ্ডে পেয়েছিলেন ৪২,২০২ ভোট — স্বতন্ত্র প্রার্থী থোইবা সিংহ পেয়েছিলেন ২০,৫০৩ ভোট যা BJP-র ব্যবধানকে বিপজ্জনকভাবে কমিয়ে দিয়েছিল।
এর আগে ABP Live-এর তথ্য মতে ২০২১ সালের চূড়ান্ত তালিকায় BJP-র কৌশিক রাই ৫৫,৩৪১ ভোট এবং Congress-এর মুকেশ পাণ্ডে ৪২,৬৪১ ভোট পেয়েছিলেন, ব্যবধান ছিল ১২,৭০০। Sentinel Assam ২০২১ সালে উল্লেখ করেছিল, লক্ষীপুরে BJP-র জয় ছিল বরাক উপত্যকার ইতিহাসে সেই আসনে দলটির প্রথম জয় — কৌশিক রাই তখন ছিলেন BJP-র জেলা সভাপতি। ২০২৬ সালে সেই ঐতিহাসিক প্রথম জয়ের পর কৌশিক রাই আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরেছেন।
২০২৬-এ কেন এত বড় ব্যবধান?
২০২১ ও ২০২৬-এর তুলনায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে Congress-এর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীতে। ২০২১-এ মুকেশ পাণ্ডে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, কিন্তু ২০২৬-এ Congress-এর প্রার্থী এম. শান্তি কুমার সিংহ মাত্র ৯,৬১৯ ভোট পেয়েছেন — যা ২০২১-এর তুলনায় অনেক কম। পাশাপাশি, ২০২১-এ স্বতন্ত্র প্রার্থী থোইবা সিংহ ২০,৫০৩ ভোট পেয়ে BJP-র ভোট শেয়ার কমিয়েছিলেন, কিন্তু এবার সেই ধরনের শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনুপস্থিতি BJP-র পথ পরিষ্কার করে দিয়েছে। কৌশিক রাই অসম বিধানসভার মন্ত্রী — ক্ষমতাসীন সরকারের সুবিধা এবং পাঁচ বছরের স্থানীয় উন্নয়নকাজ তাঁকে এবার অনেক বেশি ব্যবধানে জয় এনে দিয়েছে।
বরাক উপত্যকার বৃহত্তর চিত্র ও হাইলাকান্দির প্রাসঙ্গিকতা
কৌশিক রাই লক্ষীপুর আসনের এই বিশাল জয় বরাক উপত্যকায় BJP-র সামগ্রিক ছবির অংশ। লক্ষীপুর কাছাড় জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন এবং শিলচরের সংলগ্ন এই এলাকাটি প্রধানত হিন্দুভাষী ও ভূমিপুত্র সম্প্রদায়ের বাসস্থান। ২০২১ সালে বরাক উপত্যকার ১৫টি আসনের মধ্যে BJP ৬টি জিতেছিল — কারণ BJP আরও বেশি আশা করেছিল। ২০২৬-এ বরাক উপত্যকায় BJP-র ফলাফল সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
হাইলাকান্দি জেলার পাঠকদের জন্য লক্ষীপুরের এই ফলাফলটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি বরাক উপত্যকায় BJP-র উত্থানের একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ। হাইলাকান্দি, আলগাপুর ও কাটলিছড়া আসনের চূড়ান্ত ফলাফল যাই হোক না কেন, লক্ষীপুরে কৌশিক রাই-এর জয় স্পষ্ট করে দিচ্ছে — ২০২৬ সালে বরাক উপত্যকায় BJP একটি শক্তিশালী ঢেউ পেয়েছে।
কৌশিক রাই লক্ষীপুর আসনে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ী হওয়ায় কাছাড় জেলায় BJP-র অবস্থান আরও মজবুত হলো। আসামের রাজনীতিতে বরাক উপত্যকা দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেস ও AIUDF-এর ঘাঁটি ছিল — ২০২১ এবং এখন ২০২৬-এর ফলাফল সেই ছবি ক্রমশ বদলে দিচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে কৌশিক রাই মন্ত্রী হিসেবে লক্ষীপুর ও কাছাড়ের জন্য কী করতে পারেন, সেটাই এখন দেখার।