Read today's news --> Click here

অখিল গোগৈ শিবসাগর থেকে ভোট দিলেন, দাবি করলেন ৫০,০০০ ভোটে জয় ও BJP-র পতন নিশ্চিত

আসাম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ভোটগ্রহণের দিন, ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার, রাইজর দলের সভাপতি ও শিবসাগর কেন্দ্রের প্রার্থী অখিল গোগৈ নিজের ভোট প্রদান করলেন এবং সাংবাদিকদের সামনে প্রবল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বললেন যে এবারের নির্বাচনে আসামে একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন আসতে চলেছে। অখিল গোগৈ শিবসাগর থেকে ভোট দেওয়ার পর দাবি করেন যে তিনি ৫০,০০০-এর বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবেন। ভূমি অধিকার আন্দোলন থেকে কারাগার পেরিয়ে বিধানসভায় আসা এই নেতার আজকের বক্তব্য আসামের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আসামে পরিবর্তন আসবেই”: অখিলের সরাসরি বার্তা

India Today NE-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে অখিল গোগৈ বলেন, “আসামে পরিবর্তন আসছে। মানুষ BJP সরকারের উপর বিরক্ত এবং তারা এই সরকারকে পরিবর্তন করতে চায়। BJP সরকার যাবে, এবং বিরোধী জোট এখানে সরকার গঠন করবে — এটা নিশ্চিত।” তিনি আরও বলেন, “আমি শিবসাগর থেকে ৫০,০০০-এর বেশি ভোটে জয়ী হব।” পরিবর্তনের পক্ষে যারা ভোট দিতে বেরিয়েছেন, সেই সব ভোটারকে তিনি অভিনন্দন জানান এবং বলেন, “যারা পরিবর্তনের জন্য ভোট দিতে আসছেন, তাদের সবাইকে আমি অভিনন্দন জানাই।”

অখিল গোগৈ আরও একটি গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন যে ৮ এপ্রিল রাতে ভারতীয় কিষাণ সংঘের (BKS) আসাম শাখার সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ সাইকিয়াকে শিবসাগরে হামলা করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে ডিব্রুগড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এই অভিযোগ সম্পর্কে কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি বিনম্রভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি, শান্ত থাকুন। প্রতিবার সরকার পরিবর্তনের সময় উত্তেজনা তৈরি হয় — এবার BJP সরকারের পরিবর্তনের সময়েও তাই হচ্ছে।”

জেল থেকে বিধানসভা: অখিলের অসাধারণ রাজনৈতিক যাত্রা

অখিল গোগৈ শিবসাগরের ইতিহাস ও তাঁর নিজের জীবনকথা পরস্পর জড়িয়ে আছে। RTI আন্দোলনের পুরোধা হিসেবে তিনি আসামে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। ২০১৯ সালে CAA বিরোধী আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্বে আসাম উত্তাল হয়ে পড়ে। সেই আন্দোলনের জেরে তাঁকে UAPA আইনে গ্রেফতার করা হয় এবং প্রায় ১৯ মাস কারাগারে থাকতে হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে কারাগারে বসেই তিনি রাইজর দল প্রতিষ্ঠা করেন।

India Today-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের আসাম বিধানসভা নির্বাচনে অখিল গোগৈ কারাগার থেকেই প্রার্থিতা দিয়েছিলেন — কোনো সক্রিয় প্রচারণা ছাড়াই। ভোটাররা তাঁকে ৫৭,২১৯ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন এবং তিনি BJP-র প্রার্থীকে ১১,৮৭৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। Wikipedia ও India Today-র তথ্য অনুযায়ী, কারাগার থেকে কোনো প্রচার ছাড়াই বিধানসভা জয় করার ইতিহাস তাঁকে আসামের রাজনীতিতে এক অনন্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। সেই বিজয়ের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে — এবার আরও বড় ব্যবধানে — তিনি এবারের নির্বাচনে লড়ছেন।

শিবসাগরে তিনমুখী লড়াই: অখিলের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

Economic Times ও ND24-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার শিবসাগরে অখিল গোগৈর প্রতিদ্বন্দ্বিতা সহজ নয়। BJP এবার মাঠে নামিয়েছে কুশল দুৱরীকে — এটি বিরোধী পক্ষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এছাড়াও AGP-র প্রদীপ হাজরিকা একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অর্থাৎ এবারের শিবসাগর কার্যত তিনমুখী লড়াইয়ের ক্ষেত্র। ২০২১ সালে কারাগার থেকে জয়ের পর অখিল গোগৈ পাঁচ বছর ধরে সক্রিয়ভাবে বিধানসভায় কাজ করেছেন — ভূমি অধিকার, পরিবেশ রক্ষা, স্বচ্ছতা এবং কৃষকদের সমস্যাকে তিনি তাঁর আইনসভার আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছেন।

কংগ্রেসের সঙ্গে রাইজর দলের জোট এবারের নির্বাচনী হিসাবকে জটিল করে তুলেছে। আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গৌরব গোগৈর নেতৃত্বে কংগ্রেস এবং অখিল গোগৈর রাইজর দল আনুষ্ঠানিকভাবে জোট গঠন করেছে। এই সমঝোতায় রাইজর দল ১১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। শিবসাগরে রাইজর দল ও কংগ্রেস জোটবদ্ধ, অর্থাৎ কংগ্রেসের ভোট অখিলের পক্ষে আসার সম্ভাবনা রয়েছে — যা তাঁর দাবি করা ৫০,০০০ ভোটের ব্যবধানকে বাস্তবসম্মত করে তুলতে পারে।

বরাক উপত্যকায় রাইজর দলের উপস্থিতি

অখিল গোগৈ শিবসাগর ও উচ্চ আসামের নেতা হলেও তাঁর রাজনৈতিক বার্তা বরাক উপত্যকার ভোটারদের কাছেও পৌঁছায়। CAA বিরোধী আন্দোলনে তিনি যে ভূমিকা রেখেছিলেন, সেটি বাংলাভাষী অধ্যুষিত বরাক উপত্যকাতেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল। হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের বাসিন্দারা CAA-র পক্ষে ও বিপক্ষে তীব্রভাবে বিভক্ত — এবং অখিলের রাজনৈতিক উত্থান ও পতন বরাক উপত্যকার রাজনৈতিক পরিবেশকে পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করে। রাইজর দল সরাসরি বরাক উপত্যকায় প্রার্থী না দিলেও কংগ্রেস জোটের অংশ হিসেবে দলটি এই অঞ্চলের ভোটারদের একটি রাজনৈতিক বিকল্পের সংকেত দিচ্ছে।

মে: শিবসাগরের রায় কী বলবে

অখিল গোগৈর ৫০,০০০ ভোটের দাবি বাস্তবে পরিণত হবে কি না, সেটি ৪ মে ভোট গণনার দিনই জানা যাবে। ২০২১ সালে ১১,৮৭৫ ভোটে জেতার পর এবার পাঁচগুণ বেশি ব্যবধানের প্রত্যাশা একটি সাহসী ঘোষণা। তবে BJP-র কুশল দুৱরী ও AGP-র প্রদীপ হাজরিকার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরাও শিবসাগরের ভোটারদের মনোযোগ কেড়ে নেওয়ার জন্য মাঠে ছিলেন। আসামের মতো রাজ্যে, যেখানে জাতি, ভাষা, ভূমি ও পরিচয়ের রাজনীতি একসঙ্গে কাজ করে, সেখানে একজন কৃষক আন্দোলনের নেতার রাজনৈতিক যাত্রা সবসময়ই চমক নিয়ে আসে। ৪ মে ফলাফল ঘোষণার দিন শিবসাগরের ভোটাররা তাঁদের রায় জানাবেন — এবং সেই রায় শুধু একটি কেন্দ্রের নয়, আসামের পরিবর্তনের সম্ভাবনার একটি পরিমাপকও হয়ে উঠবে।

অখিল গোগৈ শিবসাগর থেকে ভোট দিলেন, দাবি করলেন ৫০,০০০ ভোটে জয় ও BJP-র পতন নিশ্চিত
Scroll to top