
৭ এপ্রিল, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আসাম, কেরালা এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হতে চলেছে। আগামী ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) এই তিন স্থানে এক দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার শেষ কয়েক ঘণ্টায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা নিজেদের সমর্থন ভিত্তি মজবুত করতে এবং ভোটারদের মন জয় করতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। আসাম নির্বাচন প্রচার সমাপ্ত হওয়ার এই সন্ধিক্ষণে সব দলের প্রার্থী এবং কর্মীরা প্রচারের শেষ বিন্দু পর্যন্ত কাজে লাগাতে চাইছেন। ৯ এপ্রিল আসামের ১২৬টি আসন, কেরালার ১৪০টি আসন এবং পুদুচেরির ৩০টি আসনে সাধারণ মানুষ তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবেন।
আসামে মোদী ও কংগ্রেসের শেষ লড়াই
মোদী আসাম প্রচার শেষ লগ্নে এসে BJP এবং NDA-এর হয়ে প্রচারের মূল মুখ ছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সোমবার তিনি বরপেটা (Barpeta), হোজাই (Hojai) এবং ডিব্রুগড়ে (Dibrugarh) জনসভা করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় দাবি করেন যে, বিগত ১০ বছরে আসামে অভাবনীয় শান্তি ও সমৃদ্ধি এসেছে এবং প্রতিটি জেলার উন্নয়নই তাঁর দলের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আসামে টানা তৃতীয়বারের জন্য BJP সরকার গঠন করতে চলেছে।
অন্যদিকে, কংগ্রেসও প্রচারের শেষ বেলায় নিজেদের আক্রমণ শানিয়ে তুলেছে। গুয়াহাটিতে (Guwahati) এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রবীণ কংগ্রেস নেত্রী কুমারী শৈলজা (Kumari Selja) বলেন, কংগ্রেস সর্বদা ন্যায়বিচার এবং সবার সমান অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। শাসক দল যখন উন্নয়নের দাবি করছে, বিরোধী কংগ্রেস তখন কর্মসংস্থান ও অন্যান্য স্থানীয় সমস্যাগুলো তুলে ধরছে। পাশাপাশি অসম গণ পরিষদ (AGP), আসাম জাতীয় পরিষদ (AJP) এবং রাইজর দলের (Raijor Dal) মতো আঞ্চলিক দলগুলোও প্রচারের শেষ দিনে ভোটারদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
কেরালা ও পুদুচেরির নির্বাচনী চিত্র
কেরালা পুদুচেরি নির্বাচন ৯ এপ্রিল-এর জন্যও প্রচার আজ সন্ধ্যায় শেষ হচ্ছে। কেরালায় শাসক দল LDF (Left Democratic Front), কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন UDF এবং BJP-র মধ্যে তীব্র ত্রিমুখী লড়াই চলছে। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন (Pinarayi Vijayan) তাঁর সরকারের উন্নয়নের একটি ‘প্রোগ্রেস কার্ড’ প্রকাশ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে গতবারের ৯৭% প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়েছে।
পুদুচেরিতেও সোমবার ব্যাপক প্রচার হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah), প্রবীণ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) এবং তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিন (M. K. Stalin) সেখানে বড় জনসভা করেছেন। স্ট্যালিন অভিযোগ করেছেন যে কেন্দ্র পুদুচেরিকে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা দিতে আগ্রহী নয়।
উল্লেখ্য, ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনে এবং পশ্চিমবঙ্গের ১৫২টি আসনে ভোট হবে, যার জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বাকি ১৪২টি আসনে ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। এই সমস্ত রাজ্যের ভোট গণনা হবে আগামী ৪ মে।
হাইলাকান্দি ও লালা টাউনে প্রচারের উত্তাপ
জাতীয় ও রাজ্য স্তরের এই প্রচারের প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে বরাক উপত্যকায় (Barak Valley)। হাইলাকান্দি লালা নির্বাচন প্রস্তুতি এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে। Economic Times-এর তথ্য অনুযায়ী, বরাক উপত্যকায় মূলত BJP, AGP, কংগ্রেস এবং AIUDF-এর মধ্যে মূল লড়াই হচ্ছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আসাম নির্বাচন প্রচার সমাপ্ত হওয়ার আগে লালা টাউনের (Lala Town) স্টেশন রোড, লালা বাজার এবং আশেপাশের চা-বাগান এলাকাগুলোতে স্থানীয় প্রার্থীরা ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন। হাইলাকান্দি আসনে স্থানীয় প্রার্থীরা জাতীয় নেতাদের বার্তার পাশাপাশি স্থানীয় সমস্যা—যেমন রাস্তার বেহাল দশা, পানীয় জলের সমস্যা এবং বেকারত্ব নিয়ে সরব হয়েছেন। আজ সন্ধ্যায় প্রচারের মাইক স্তব্ধ হওয়ার পর শুরু হবে নীরব চিন্তনের সময়। আগামী বৃহস্পতিবার লালা এবং সমগ্র হাইলাকান্দি জেলার ভোটাররা ইভিএম (EVM)-এ বোতাম টিপে তাঁদের চূড়ান্ত রায় জানাবেন।