Read today's news --> Click here

রিনিকি ভূয়াঁ শর্মার ‘মিশরীয় পাসপোর্ট’ সম্পূর্ণ ভুয়ো ও বানোয়াট: নিশ্চিত করল দূতাবাস

৯ এপ্রিলের আসাম বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি বিতর্কিত নথির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্পষ্টীকরণ দিল মিশরীয় দূতাবাস (Egyptian Embassy)। মঙ্গলবার দূতাবাস জানিয়েছে যে, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার (Himanta Biswa Sarma) স্ত্রী রিনিকি ভূয়াঁ শর্মার (Riniki Bhuyan Sharma) নামে ইন্টারনেটে যে মিশরীয় পাসপোর্টের ছবি ঘুরছে, সেটি সম্পূর্ণ “ভুয়ো” (forged) এবং এর কোনো সত্যতা নেই। দূতাবাস আরও জানিয়েছে, এটি কোনো বৈধ পাসপোর্ট নয়, বরং একটি জাল কপিতে তাঁর নাম ও ছবি বসিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

এই স্পষ্টীকরণ এমন একটি সময়ে এল, যখন রিনিকি ভূয়াঁ শর্মা মিশরীয় পাসপোর্ট ইস্যুটি আসামের রাজ্য রাজনীতিতে, বিশেষ করে নির্বাচনী প্রচারে, একটি বড় ঝড়ের সৃষ্টি করেছিল। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা (Pawan Khera) কয়েকদিন আগে অভিযোগ করেছিলেন যে মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী বেআইনিভাবে তিনটি দেশের পাসপোর্ট ধারণ করে আছেন। দূতাবাসের এই বিবৃতি কংগ্রেসের সেই অভিযোগের সত্যতাকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।

পবন খেরার অভিযোগ এবং পাসপোর্টের অসঙ্গতি

গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে পবন খেরা হিমন্ত স্ত্রী অভিযোগ তুলেছিলেন যে, রিনিকি ভূয়াঁ শর্মার কাছে মিশর (Egypt), সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) এবং অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার (Antigua and Barbuda) পাসপোর্ট রয়েছে। ভারতীয় আইন অনুযায়ী, কোনো নাগরিক একই সঙ্গে একাধিক দেশের বৈধ পাসপোর্ট রাখতে পারেন না বা দ্বৈত নাগরিকত্ব (dual citizenship) গ্রহণ করতে পারেন না।

তবে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং তাঁর স্ত্রী শুরু থেকেই এই অভিযোগগুলোকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” এবং “ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। Times of India-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন যে এই জাল নথিগুলো একটি ‘পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ’ থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। ডিজিটাল বিশেষজ্ঞরা মিশরীয় পাসপোর্টের ছবিতে একাধিক অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছেন—যেমন জন্মস্থান হিসেবে শহরের বদলে “INDIAN” লেখা থাকা, পাসপোর্ট নম্বরের সঙ্গে MRZ কোডের অমিল এবং অকার্যকর QR কোড। তাছাড়া, UAE-এর যে নথিটিকে পাসপোর্ট বলা হচ্ছিল, সেটি আসলে একটি ‘গোল্ডেন ভিসা’ (Golden Visa), যা পাসপোর্ট নয়।

আইনি ব্যবস্থা: পবন খেরার বিরুদ্ধে এফআইআর

আসাম CM স্ত্রী মানহানি মামলা দায়ের করে ইতিমধ্যেই আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রিনিকি ভূয়াঁ শর্মা পবন খেরার এই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়ে বলেছেন, “একমাত্র সমস্যা হলো আমি সবচেয়ে ভালো কাজ করা মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী, আর সেই কারণেই তারা আমাকে টার্গেট করছে।” তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, “আপনার সাথে আদালতে দেখা হবে” (See you in court) এবং ইতিমধ্যে গুয়াহাটির পানবাজার থানায় (Panbazar Police Station) পবন খেরার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা (FIR) দায়ের করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন যে, অন্যান্য দেশের পাসপোর্টগুলোর বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর কাছ থেকে আগামী সোম বা মঙ্গলবারের মধ্যে সরকারি রিপোর্ট চলে আসবে, যা কংগ্রেসের বাকি দাবিগুলোকেও মিথ্যা প্রমাণ করবে।

আসাম নির্বাচন এবং বরাক উপত্যকায় এর প্রভাব

আসাম নির্বাচন ২০২৬ পাসপোর্ট বিতর্ক এমন একটি সময়ে মাথাচাড়া দিয়েছে, যখন হাইলাকান্দি ও লালা টাউন সহ পুরো বরাক উপত্যকায় (Barak Valley) প্রচারের শেষ মুহূর্ত চলছে। ভোটের মাত্র দু’দিন আগে বিরোধী দলগুলো এই পাসপোর্ট এবং দুবাইয়ে কথিত সম্পত্তির অভিযোগকে হাতিয়ার করে শাসক দলকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছিল। লালা বাজারের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়ার মোড়ে এই ‘বিদেশি পাসপোর্ট’ নিয়ে জোর চর্চা চলছিল।

তবে, মিশরীয় দূতাবাসের এই আনুষ্ঠানিক বিবৃতির পর পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে গেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী শিবিরের তোলা এত বড় একটি অভিযোগ যদি ভুয়ো প্রমাণিত হয়, তবে তা ভোটের বাক্সে কংগ্রেসেরই বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করতে পারে। লালা ও হাইলাকান্দির ভোটাররা এখন ৯ এপ্রিল ইভিএম-এ বোতাম টিপে জানাবেন, তাঁরা এই ধরনের জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক কাদা-ছোঁড়াছুড়িকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন, আর কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় উন্নয়নকে।

আপাতত রিনিকি ভূয়াঁ শর্মা মিশরীয় পাসপোর্ট বিতর্কটি আইনি লড়াইয়ের দিকে মোড় নিয়েছে। আদালত এবং নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।

রিনিকি ভূয়াঁ শর্মার ‘মিশরীয় পাসপোর্ট’ সম্পূর্ণ ভুয়ো ও বানোয়াট: নিশ্চিত করল দূতাবাস
Scroll to top