Read today's news --> Click here

বার্সাপাড়া গ্রাউন্ডস্টাফকে ACA-র ২৫ লক্ষ পুরস্কার, বৃষ্টির মধ্যেও মাঠ বাঁচানোর স্বীকৃতি

IPL-এর বড় মঞ্চে নায়কেরা সবসময় ব্যাট-বলে হন না। গুয়াহাটির বার্সাপাড়া ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মাঠকর্মী ও কিউরেটর দলকে এবার প্রমাণ করে দিল সেটি। আসাম ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন বা ACA ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ঘোষণা দিয়েছে, বার্সাপাড়া গ্রাউন্ডস্টাফকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে ২৫ লক্ষ টাকা — একটানা বৃষ্টিপাতের মধ্যেও মাঠ খেলার উপযুক্ত রেখে IPL ২০২৬-এর তিনটি ম্যাচ সফলভাবে আয়োজন করার জন্য। এই ঘোষণাটি উত্তর-পূর্ব ভারতের ক্রিকেট মহলে তাৎক্ষণিক প্রশংসা পেয়েছে, কারণ মাঠকর্মীদের এই স্বীকৃতি IPL আয়োজনের ইতিহাসে বিরল।

তিন ম্যাচে তিনবার বৃষ্টির চ্যালেঞ্জ, প্রতিবারই মাঠ বাঁচাল গ্রাউন্ডস্টাফ

গুয়াহাটি এই মৌসুমে রাজস্থান রয়্যালসের দ্বিতীয় হোম ভেন্যু হিসেবে তিনটি ম্যাচ আয়োজন করে — ৩০ মার্চ চেন্নাই সুপার কিংস বনাম রাজস্থান রয়্যালস, ৭ এপ্রিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স বনাম রাজস্থান রয়্যালস এবং ৯ এপ্রিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বনাম রাজস্থান রয়্যালস। তিনটি ম্যাচেই গুয়াহাটির আকাশ একই গল্প বলেছে — মুষলধারে বৃষ্টি, কভার দিয়ে ঢাকা মাঠ, সুপার সপার দিয়ে আউটফিল্ড শুকানোর তাড়া। India Today NE-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে ১১ ওভারে নামিয়ে আনতে হয়েছিল।

RCB-র বিরুদ্ধে ম্যাচের দিন পরিস্থিতি ছিল আরও কঠিন। NDTV Profit-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্ধারিত টস সময়ে আকাশ ছিল মেঘলা ও বৃষ্টি ছিল সক্রিয় — সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত টস পিছিয়ে দিতে হয়। India Meteorological Department বা IMD সেদিন বিকেল ২টা ৩০ থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত গুয়াহাটিতে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের পূর্বাভাস দিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে বার্সাপাড়ার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও গ্রাউন্ডস্টাফের দ্রুত প্রতিক্রিয়া মাঠকে খেলার উপযুক্ত রাখতে সাহায্য করে। AP7AM-এর তথ্য অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের উন্নত ড্রেনেজ সিস্টেমের কারণে বৃষ্টি থামার আধা থেকে পৌনে এক ঘণ্টার মধ্যে মাঠ প্রস্তুত করা সম্ভব হয়েছিল

ACA তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেছে, কিউরেটর ও মাঠকর্মীরা অত্যন্ত কঠিন আবহাওয়া পরিস্থিতিতে কাজ করে পিচকে উচ্চমানে রক্ষা করেছেন। তাঁদের প্রচেষ্টা ম্যাচগুলো মসৃণভাবে পরিচালনায় সহায়ক হয়েছে এবং জাতীয় পর্যায়ে বার্সাপাড়া স্টেডিয়ামের সুনাম উজ্জ্বল করেছে। ২৫ লক্ষ টাকার এই পুরস্কার মাঠকর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

রিয়ান পারাগের ঘরের মাঠ, উত্তর-পূর্বের ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়

বার্সাপাড়া স্টেডিয়াম কেবল আরেকটি IPL ভেন্যু নয়। এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম — ধারণক্ষমতা ৪০ হাজারেরও বেশি। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাঠটি ছোট বাউন্ডারি (৬৫-৬৮ মিটার) ও দ্রুত আউটফিল্ডের কারণে ব্যাটিং স্বর্গ হিসেবে পরিচিত। রাজস্থান রয়্যালস ২০২৩ সাল থেকে এখানে নিয়মিত IPL ম্যাচ আয়োজন করছে।

এই মৌসুমে বার্সাপাড়ার গুরুত্ব আলাদা কারণে আরও বেড়েছে। রাজস্থান রয়্যালসের নতুন অধিনায়ক রিয়ান পারাগ গুয়াহাটির ছেলে — আসামের নিজের ক্রিকেটার। Cricket News-এর তথ্য অনুযায়ী, ঘরের মাঠে রিয়ান পারাগকে দলের অধিনায়ক হিসেবে দেখার উত্তেজনায় স্টেডিয়াম হয়ে ওঠে প্রায় উৎসবমুখর — সমর্থকদের হৈচৈ ও উল্লাসে বার্সাপাড়া পরিণত হয় IPL-এর সবচেয়ে প্রাণবন্ত মাঠগুলোর একটিতে। জয়পুরের সওয়াই মানসিং স্টেডিয়ামে সংস্কার কাজ চলায় রাজস্থান রয়্যালস এই মৌসুমে প্রথম তিনটি হোম ম্যাচের জন্য গুয়াহাটিকে দ্বিতীয় ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করেছে। গুয়াহাটি পর্ব শেষ হয়েছে — রয়্যালসের পরবর্তী হোম ম্যাচ ২৫ এপ্রিল জয়পুরে।

IPL পয়েন্ট টেবিলে রাজস্থান রয়্যালস এই মুহূর্তে শীর্ষে — চার ম্যাচে চার জয়। গুয়াহাটির তিনটি হোম ম্যাচ থেকে রয়্যালস তিনটিতেই জয় পেয়েছে — বার্সাপাড়ার পিচ ও পরিবেশ দলটির ভালো পারফরম্যান্সে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

লালা টাউন বরাক উপত্যকার ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এর প্রাসঙ্গিকতা

হাইলাকান্দি জেলার লালা টাউন সহ সমগ্র বরাক উপত্যকায় ক্রিকেটের অনুরাগ গভীর। রিয়ান পারাগ যখন বার্সাপাড়ায় অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামেন, সেই উত্তেজনা কেবল গুয়াহাটিতে সীমাবদ্ধ থাকে না — বরাক উপত্যকার চা-বাগান, বাজার ও বাড়ির টেলিভিশনে একইভাবে ছড়িয়ে পড়ে সেই আনন্দ। রিয়ান পারাগ আসামের ছেলে হওয়ায় তাঁর প্রতি বরাক উপত্যকার মানুষের আলাদা একটি টান আছে।

তবে এই গল্পটা শুধু খেলার নয়। ACA-র ২৫ লক্ষ টাকার পুরস্কার যে মাঠকর্মীদের জন্য ঘোষিত হয়েছে, তারা প্রচারবিমুখ, অদৃশ্য কর্মী — যারা ক্যামেরার আড়ালে কাজ করেন। তাঁদের সম্মান জানানোর এই উদ্যোগ একটি বার্তা দেয়: খেলার পেছনে অনেক মানুষের পরিশ্রম আছে, যাদের আমরা সাধারণত দেখি না।

ACA-র এই সিদ্ধান্ত IPL আয়োজনের ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্ব ভারতের পেশাদারিত্বের প্রমাণ দেয়। বার্সাপাড়া স্টেডিয়াম এখন কেবল একটি ভেন্যু নয় — এটি আসামের ক্রিকেট স্বপ্নের প্রতীক। সওয়াই মানসিং স্টেডিয়ামের সংস্কার শেষ হলে রাজস্থান রয়্যালস জয়পুরে ফিরবে, কিন্তু গুয়াহাটির গ্রাউন্ডস্টাফ যে মানদণ্ড রেখে গেছেন তা BCCI ও IPL ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছে উত্তর-পূর্বকে একটি নির্ভরযোগ্য ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে দীর্ঘমেয়াদে সহায়ক হবে।

বার্সাপাড়া গ্রাউন্ডস্টাফকে ACA-র ২৫ লক্ষ পুরস্কার, বৃষ্টির মধ্যেও মাঠ বাঁচানোর স্বীকৃতি
Scroll to top