Read today's news --> Click here

গৌরব গোগোই হিমন্ত পরিবার সম্পদ তদন্ত দাবিতে অনড়, মানহানি মামলাকে বললেন ‘বিক্ষেপকারী কৌশল’

৯ এপ্রিলের আসাম বিধানসভা ভোটের মাত্র তিন দিন আগে সোমবার কংগ্রেসের আসাম প্রদেশ সভাপতি (APCC) ও জোরহাটের সাংসদ গৌরব গোগোই (Gaurav Gogoi) মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় পাল্টা আক্রমণ করেন এবং গৌরব গোগোই হিমন্ত পরিবার সম্পদ তদন্ত দাবি পুনরায় জানালেন। তিনি বলেন, CM হিমন্তের পরিবারের সম্পদ ও ব্যবসায়িক লেনদেনে যে প্রশ্নগুলি উঠেছে, সেগুলির উত্তর জনগণ পাওয়ার অধিকার রাখে। India Today NE-তে প্রকাশিত ভিডিও বিবৃতিতে গোগোই দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের উচিত এই বিষয়গুলিতে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া।

এই বিবৃতি এসেছে একটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক লড়াইয়ের সর্বশেষ পর্যায়ে, যেখানে একদিকে CM হিমন্ত বিশ্বশর্মা ও BJP, অন্যদিকে APCC ও কংগ্রেস সংসদীয় দল বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে পারস্পরিক অভিযোগের ঝড় তুলেছে। ভোটের শেষ সময়ে এই বিতর্কটি সবচেয়ে তীব্র আকার নিয়েছে।

১২,০০০ বিঘা জমি থেকে বিদেশি সম্পত্তি: কংগ্রেসের অভিযোগের পরিধি

গৌরব গোগোই হিমন্ত পরিবার সম্পদ তদন্ত দাবি-র মূলে রয়েছে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ। India Today এবং Indian Express-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গোগোই এবং কংগ্রেস নেতারা দাবি করেন যে CM হিমন্ত বিশ্বশর্মা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আসামজুড়ে প্রায় ১২,০০০ বিঘা (প্রায় ৪,০০০ একর) জমি বেআইনিভাবে দখলে রেখেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে হিমন্ত কংগ্রেস নেতা গোগোই, জিতেন্দ্র সিং ও ভূপেশ বাঘেলের বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকার দেওয়ানি ও ফৌজদারি মানহানি মামলা দায়ের করেন।

ABP Live-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোগোই সরাসরি সাংবাদিক সম্মেলন করে দাবি করেন যে হিমন্তের স্ত্রী রিনিকি ভূয়াঁ শর্মার (Riniki Bhuyan Sharma) মালিকানাধীন “Pride East Entertainment Private Limited” কোম্পানি সরকারি অনুদান এবং কৃষি জমি অস্বাভাবিক দ্রুততায় শিল্প সম্পত্তিতে রূপান্তরিত করার সুবিধা পেয়েছে। তিনি এই বিষয়গুলি নিয়ে CM-এর পদত্যাগের দাবিও করেন। এর পাশাপাশি, ৩ এপ্রিল গোগোই CM হিমন্তের ব্যবসায়ী শ্যামকানু মহন্তার (Shyamkanu Mahanta) সঙ্গে কথিত সম্পর্ক নিয়েও তদন্তের দাবি জানান। ৪ এপ্রিল NDTV-কে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে গোগোই বলেন, “হিমন্তের পরিবার সম্পর্কিত দুর্নীতি গভীরমূলে প্রোথিত এবং এটি কাউকে না কাউকে তদন্ত করতেই হবে।

হিমন্ত কংগ্রেস পাকিস্তান সংযোগ দাবিতে গোগোই: ‘এটি তাঁর মাথায় বিদ্যমান তত্ত্ব’

হিমন্ত ৫০০ কোটি মানহানি মামলা গোগোই-এর পাশাপাশি আরও একটি বিতর্কিত ফ্রন্ট খুলেছেন CM হিমন্ত। NDTV-এর তথ্য অনুযায়ী, হিমন্ত অভিযোগ করেন যে গোগোইয়ের ব্রিটিশ স্ত্রী এলিজাবেথ কলবার্ন (Elizabeth Colburn) পাকিস্তানের একজন নাগরিক আলি তাউকির শেখ (Ali Tauqeer Sheikh)-এর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রাখেন এবং এর মাধ্যমে ভারতের গোপন তথ্য পাকিস্তানে পাচার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে অসম সরকার একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করে এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তদন্তভার নেওয়ার অনুরোধ পাঠায়।

The Hindu-এর তথ্য অনুযায়ী, গোগোই এই অভিযোগকে “মাথায় বিদ্যমান উদ্ভট তত্ত্ব” বলে খারিজ করেন এবং বলেন, “হিমন্ত বিশ্বশর্মা যখন তাঁর পরিবারের সম্পদ নিয়ে জবাব দিতে পারছেন না, তখন এই ধরনের অভিযোগ করে মনোযোগ ঘোরানোর চেষ্টা করছেন।” তিনি আরও বলেন, SIT রিপোর্ট প্রকাশ করা হোক — তাহলে সত্য সামনে আসবে।

আসাম বরাক উপত্যকার ভোটারদের সামনে আসল প্রশ্ন

কংগ্রেস রিনিকি সম্পত্তি তদন্ত আসাম এই বিতর্কটি লালা ও হাইলাকান্দির বাসিন্দাদের কাছে সরাসরি প্রাসঙ্গিক। কারণ বরাক উপত্যকায় সরকারি জমি বরাদ্দ, শিল্পপতিদের সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের সম্পর্ক এবং সরকারি সুবিধার সুষম বণ্টন — এই বিষয়গুলি নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে। কংগ্রেস যদি এই অভিযোগগুলি দিয়ে হাইলাকান্দিতে ভোটারদের মনে সন্দেহ তৈরি করতে পারে, তাহলে BJP-র জন্য সেটি একটি চ্যালেঞ্জ। তবে BJP পাল্টা দাবি করছে, কংগ্রেস এই অভিযোগগুলি দিয়ে BJP-র উন্নয়নের বিষয়গুলি থেকে দৃষ্টি সরাতে চাইছে।

Times of India-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গোগোই এই নির্বাচনে BJP-কে “ভিন্ন লেবেলের কংগ্রেস” বলেও আখ্যায়িত করেছেন, কারণ হিমন্ত সহ অনেক বর্তমান BJP নেতাই একসময় কংগ্রেসের ছিলেন।

৯ এপ্রিলের ভোটের ঠিক আগে গৌরব গোগোই হিমন্ত পরিবার সম্পদ তদন্ত দাবি এবং হিমন্তের ৫০০ কোটি মানহানি মামলা — এই দুটি বিষয়ই আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ৪ মে গণনার পর নতুন সরকার গঠিত হলে এই আইনি লড়াইগুলির পরবর্তী মোড় স্পষ্ট হবে। তত্ত্বাবধায়ক সংস্থাগুলি — চাই সেটি নির্বাচন কমিশন হোক বা আদালত — এই অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করবে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

গৌরব গোগোই হিমন্ত পরিবার সম্পদ তদন্ত দাবিতে অনড়, মানহানি মামলাকে বললেন ‘বিক্ষেপকারী কৌশল’
Scroll to top