Read today's news --> Click here

হিমন্ত বিশ্বশর্মা পবন খেরাকে ‘ভাগোড়া’ আখ্যা দিলেন জালুকবাড়িতে ভোট দিয়ে বেরিয়েই

আসাম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ভোটগ্রহণের দিন, ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার, মুখ্যমন্ত্রী ও জালুকবাড়ি কেন্দ্রের BJP প্রার্থী হিমন্ত বিশ্বশর্মা নিজের ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের সামনে কংগ্রেস নেতা পবন খেরার তীব্র সমালোচনা করলেন। হিমন্ত বিশ্বশর্মা পবন খেরাকে “ভাগোড়া” — অর্থাৎ পলাতক বা দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তি — বলে সম্বোধন করেন এবং কংগ্রেস দলের আসামে কোনো অস্তিত্ব নেই বলে দাবি করেন। নির্বাচনের দিনে এই মন্তব্য আসামের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন বাগ্‌বিতণ্ডার জন্ম দিয়েছে।

ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়েই আক্রমণ: হিমন্তের ধারালো মন্তব্য

India Today NE-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটদান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হিমন্ত বিশ্বশর্মা প্রথমেই কংগ্রেসের উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি বলেন, “এই কংগ্রেস দলটা কোথায়? কোন কংগ্রেসের কথা বলছেন? এদের নাম পর্যন্ত শুনিনি।” পবন খেরার সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পবন খেরা একজন ‘ভাগোড়া’। তাকে জবাব দেওয়ার প্রয়োজন কি আছে?” এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু ধারালো মন্তব্যটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিরোধী শিবিরে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়। কংগ্রেস এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই মন্তব্যের কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

হিমন্তের এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপট বুঝতে হলে পবন খেরার ভূমিকাটি জানা দরকার। The Hindu-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, কংগ্রেসের মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান পবন খেরা ২০২৬ সালের মার্চে একাধিকবার গুয়াহাটিতে সাংবাদিক সম্মেলন করেন এবং হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে “স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত মুখ্যমন্ত্রী” বলে অভিহিত করেন। India Today NE-র আরেকটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, খেরা BJP-কে “কংগ্রেস-অধ্যুষিত” দল বলেছিলেন — কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বহু কংগ্রেস নেতা BJP-তে যোগ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে হিমন্তের পাল্টা আক্রমণ নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ের তীব্রতাকেই প্রতিফলিত করে।

জালুকবাড়িতে ষষ্ঠবার: হিমন্তের অপরাজেয় দুর্গ

হিমন্ত বিশ্বশর্মা পবন খেরাকে জবাব দিয়েছেন নিজের ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে — এবং সেই ভোটকেন্দ্রটি হলো জালুকবাড়ি, আসামের রাজনীতিতে যে নামটি হিমন্তের প্রায় সমার্থক। NDTV ও India TV News-এর তথ্য অনুযায়ী, হিমন্ত বিশ্বশর্মা ২০০১ সাল থেকে টানা পাঁচবার এই কেন্দ্র থেকে জিতেছেন — প্রথমে কংগ্রেসের পক্ষে তিনবার, পরে BJP-র পক্ষে দুইবার। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি জালুকবাড়ি থেকে ১,৩০,৭৬২ ভোট পেয়ে ১,০১,৯১১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন — যা ছিল রাজ্যের সর্বোচ্চ ব্যবধানের অন্যতম।

এবার ২০২৬ সালে তিনি ষষ্ঠবারের মতো জালুকবাড়ি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। Hindustan Times-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মনোনয়ন দাখিলের সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রিনিকি ভূয়াঁ শর্মা এবং পুত্র নন্দিল বিশ্ব শর্মা। India TV News-এর বিশ্লেষণ জানাচ্ছে, ২০২৩ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর জালুকবাড়ির ভোটার-বিন্যাসে কিছু পরিবর্তন এসেছে এবং এবারের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কংগ্রেসের বিদিশা নেওগ রয়েছেন। তবে হিমন্তের ঐতিহাসিক ভোটের পরিসংখ্যান দেখলে এই কেন্দ্রে তাঁর অবস্থান যে কতটা শক্তিশালী, সেটা বোঝা যায়।

কংগ্রেস-BJP বিতর্কের প্রেক্ষাপট: পবন খেরার ভূমিকা আসামে কংগ্রেসের সংকট

পবন খেরা আসামের ২০২৬ নির্বাচনে কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। NDTV-র ‘The Great Brahmaputra Dialogue’ অনুষ্ঠানে খেরা বলেছিলেন, “কংগ্রেস আসাম ও দেশের জন্য ‘ডিফল্ট সেটিং’। মানুষ আবার কংগ্রেসে ফিরে আসবে।” তিনি আরও দাবি করেছিলেন, BJP বারবার কংগ্রেস নেতাদের নিজেদের দলে নিয়ে “কংগ্রেস-মুক্ত ভারত” শ্লোগানকেই ব্যর্থ প্রমাণ করেছে। কিন্তু হিমন্তের দৃষ্টিতে এই বক্তব্য রাজ্যের বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিহীন — কারণ কংগ্রেস ২০১১ সালের পর থেকে আসামের ক্ষমতায় নেই এবং পরপর দুটি বিধানসভা নির্বাচনে দল পরাজিত হয়েছে।

Times of India-র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে BJP মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাকেই রাজ্যের প্রধান মুখ হিসেবে প্রজেক্ট করেছে। অন্যদিকে কংগ্রেস APCC সভাপতি গৌরব গোগৈর নেতৃত্বে ছয় দলের মহাজোট নিয়ে মাঠে নেমেছে। এই প্রেক্ষাপটে পবন খেরার মতো জাতীয় নেতাকে আসামে পাঠানো কংগ্রেসের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ — যা হিমন্তের কাছে আদৌ প্রয়োজনীয় মনে হয়নি, এবং সেটিই তাঁর “ভাগোড়া” মন্তব্যে স্পষ্ট।

হাইলাকান্দি বরাক উপত্যকায় এই বিতর্কের প্রতিধ্বনি

জালুকবাড়ির এই রাজনৈতিক উত্তাপ থেকে হাইলাকান্দি জেলা ভৌগোলিকভাবে দূরে হলেও রাজনৈতিকভাবে নয়। হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বে গত পাঁচ বছরে রাজ্য সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো — সে বন্যা পরিচালনা হোক বা জমির নথিভুক্তি বা সরকারি চাকরির সুযোগ — বরাক উপত্যকার সব জেলাতেই প্রভাব ফেলেছে। লালা টাউনের মানুষজন কংগ্রেস ও BJP-র দ্বন্দ্বকে দূর থেকে দেখলেও তাদের নিজেদের নেতারা এই জাতীয় রাজনৈতিক মেরুকরণের অংশ। ৪ মে যখন ফলাফল বের হবে, তখন বোঝা যাবে হিমন্তের আক্রমণাত্মক ভাষ্য আসামের ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলেছিল।

মে: রায়ের দিকে তাকিয়ে দুই শিবির

নির্বাচনের দিনে ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে বিরোধীকে “ভাগোড়া” বলা এবং নিজের দলের ক্ষমতায় ফেরার আত্মবিশ্বাস প্রকাশ — এটি হিমন্ত বিশ্বশর্মার রাজনৈতিক শৈলীর একটি চেনা প্রকাশ। আসামে BJP ২০১৬ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর ২০২১ সালেও জিতেছে — এবার তৃতীয় মেয়াদের জন্য লড়ছে। কংগ্রেস বলছে এবার পরিবর্তন আসবে, BJP বলছে ধারাবাহিকতাই আসামের উন্নয়নের চাবিকাঠি। ভোটাররা ৯ এপ্রিল তাঁদের রায় দিয়ে দিলেন — সেই রায়ের ব্যাখ্যা মিলবে ৪ মে, গণনার দিনে।

হিমন্ত বিশ্বশর্মা পবন খেরাকে ‘ভাগোড়া’ আখ্যা দিলেন জালুকবাড়িতে ভোট দিয়ে বেরিয়েই
Scroll to top