Read today's news --> Click here

নারী সংরক্ষণ বিল পাসে মোদি ডাকলেন বিশেষ সংসদ অধিবেশন, ২০২৯ নির্বাচনেই কার্যকর হবে ৩৩% কোটা

আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে একটি বিশেষ তিন দিনের সংসদ অধিবেশন ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি — এবং সেই অধিবেশনের একমাত্র আইনি লক্ষ্য হলো নারী সংরক্ষণ বিল সংশোধন করে ২০২৯ সালের নির্বাচনের আগেই তা কার্যকর করা। ৯ এপ্রিল একটি বিশেষ নিবন্ধে (Op-Ed) মোদি বলেন, আইনসভায় মহিলাদের সংরক্ষণ এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি এবং এতে কোনো দেরি হলে তা হবে “অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।” AIR (All India Radio)-এর সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোদি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে যেন নারী সংরক্ষণ কার্যকর অবস্থায় থাকে, সেটি নিশ্চিত করা এখন সরকারের অগ্রাধিকার।

নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম: আইন পাস হয়েছে, কিন্তু কার্যকর হয়নি

নারী সংরক্ষণ বিলের ইতিহাস দীর্ঘ এবং জটিল। প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর নিবন্ধে স্বীকার করেছেন, দশকের পর দশক ধরে আগের সরকারগুলো বারবার এই বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে — কমিটি গঠন করা হয়েছে, বিলের খসড়া তৈরি হয়েছে — কিন্তু কার্যকর পরিণতি কখনো আসেনি। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সংসদের বিশেষ অধিবেশনে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম (Constitution’s 106th Amendment Act) পাস হয় — যা লোকসভা ও রাজ্যের বিধানসভাগুলোতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিধান করে। Wikipedia ও Vajira Mandravi-র তথ্য অনুযায়ী, এই আইনে দিল্লির বিধানসভাও অন্তর্ভুক্ত।

কিন্তু সমস্যা হলো, ২০২৩ সালের আইনে একটি শর্ত ছিল — সংরক্ষণ কার্যকর হবে নতুন জনগণনা ও সেই ভিত্তিতে নির্বাচনী এলাকার পুনর্বিভাজন (delimitation) শেষ হওয়ার পরেই। NDTV ও Business Standard-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জনগণনার পর delimitation সম্পন্ন হলে তা কার্যকর হতে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত লাগতে পারত। অর্থাৎ মহিলারা আসলে ২০৩৪ সালের আগে এই সংরক্ষণের সুফল পেতেন না — এই বিলম্ব এড়াতেই এখন সংশোধনী আনা হচ্ছে।

১৬ এপ্রিলের বিশেষ অধিবেশন: কী বদলাবে

Business Standard, Indian Express ও Times of India-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮ এপ্রিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা নারী সংরক্ষণ আইনের সংশোধনী বিলের খসড়া অনুমোদন করেছে। ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিলের বিশেষ তিন দিনের সংসদ অধিবেশনে এই বিল পাস করানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এই সংশোধনীতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব আছে।

প্রথমত, লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমান ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৬ করা হবে, যার মধ্যে ২৭৩টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে — মোট আসনের প্রায় ৩৩ শতাংশ। দ্বিতীয়ত, ২০২৭ সালের জনগণনার পরিবর্তে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে নির্বাচনী এলাকার পুনর্বিভাজন করা হবে, যাতে ২০২৯ সালের নির্বাচনের আগেই এই সংরক্ষণ কার্যকর করা সম্ভব হয়। New Indian Express-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্যের বিধানসভাগুলোতেও একই অনুপাতে মহিলা আসন সংরক্ষণ করা হবে। এই সংশোধিত আইন ২০২৯ সালের ৩১ মার্চ থেকে কার্যকর হবে বলে জানা গেছে।

মোদির নিবন্ধে বার্তা: “সমাজ তখনই এগোয় যখন নারী এগোয়”

AIR-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯ এপ্রিলের Op-Ed-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছেন, “ভারতের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মহিলা এবং জাতির উন্নয়নে তাঁদের অবদান অপরিসীম ও অমূল্য।” তিনি আরও বলেন, “আইনসভায় মহিলাদের সংরক্ষণ কোটি কোটি ভারতীয় নারীর আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এবং এই মূলনীতিরই স্বীকৃতি যে সমাজ তখনই এগিয়ে যায়, যখন নারী এগিয়ে যায়।” বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, উদ্যোগ, ক্রীড়া, সশস্ত্র বাহিনী, সংগীত ও শিল্পকলা — সব ক্ষেত্রেই নারীদের অগ্রণী ভূমিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যখন মহিলারা প্রশাসন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেন, তখন তাঁরা এমন অভিজ্ঞতা ও অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে আসেন যা সরকারি আলোচনাকে সমৃদ্ধ করে এবং শাসনের মান উন্নত করে।”

NDTV Profit-এর তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ অধিবেশনে দুটি বিল পেশ করা হবে — একটি সাংবিধানিক সংশোধনী বিল, যা নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মে পরিবর্তন আনবে, এবং আরেকটি সাধারণ বিল, যা Delimitation Act সংশোধন করবে। সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাস করতে উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন — সেটি নিশ্চিত করতে সরকার বিরোধীদের সঙ্গেও আলোচনা চালিয়েছে বলে NDTV জানিয়েছে।

আসাম বরাক উপত্যকার জন্য কী মানে এই পরিবর্তন

নারী সংরক্ষণ বিলের কার্যকর হওয়া আসামের জন্যও সরাসরি প্রাসঙ্গিক। আসাম বিধানসভায় বর্তমানে ১২৬টি আসন আছে এবং এর মধ্যে মহিলা বিধায়কের সংখ্যা অত্যন্ত কম। নতুন আইন কার্যকর হলে আসামের বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট হবে — অর্থাৎ ৪০টিরও বেশি আসনে মহিলা প্রার্থীকেই লড়তে হবে। হাইলাকান্দি জেলার লালা কেন্দ্রসহ বরাক উপত্যকার বিভিন্ন আসনেও এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে। লালা টাউনের মতো সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত এলাকায় নারী রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি স্থানীয় সমস্যাগুলোকে বিধানসভার মেঝেতে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার সুযোগ দেবে।

২০২৯ সালের আগে বাস্তবায়ন: একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপের দোরগোড়ায়

ভারতে নারী রাজনৈতিক সংরক্ষণের দাবি দশকের পর দশক ধরে চলছিল। ১৯৯৬ সালে প্রথম Women’s Reservation Bill সংসদে পেশ হওয়ার পর থেকে একাধিক সরকার এই বিল নিয়ে আলোচনা করেছে, কিন্তু কোনো সরকারই চূড়ান্তভাবে এটি কার্যকর করতে পারেনি। ২০২৩ সালে আইন পাস হওয়ার পরেও জনগণনা ও delimitation-এর শর্তটি কার্যকর বাস্তবায়নকে দূরে ঠেলে দিয়েছিল। এখন ১৬ এপ্রিলের বিশেষ অধিবেশনে সংশোধনী বিল পাস হলে ২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সংসদে এবং একাধিক রাজ্যের বিধানসভায় এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। সেই দিনটি যদি আসে, তা হবে ভারতীয় গণতন্ত্রের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

নারী সংরক্ষণ বিল পাসে মোদি ডাকলেন বিশেষ সংসদ অধিবেশন, ২০২৯ নির্বাচনেই কার্যকর হবে ৩৩% কোটা
Scroll to top