Read today's news --> Click here

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পবন খেড়াকে হুঁশিয়ারি, অসম পুলিশ যেখানেই থাকুক খুঁজে আনবে; তদন্তের ছায়া রাহুল গান্ধীর দিকেও

অসম বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র দু’দিন আগে পাসপোর্ট বিতর্ককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। মঙ্গলবার গুয়াহাটিতে একটি সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) কংগ্রেস নেতা পবন খেড়াকে (Pawan Khera) কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, অসম পুলিশ তাঁকে যেখানেই থাকুন খুঁজে বের করবে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করবে । শুধু তাই নয়, তদন্তের জাল যে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) পর্যন্তও প্রসারিত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী ।

পাতাল থেকেও আনবে’ — হিমন্তের কড়া হুঁশিয়ারি

মঙ্গলবার গুয়াহাটির সংবাদ সম্মেলনে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, পবন খেড়া মাত্র দু’দিন আগেও বলছিলেন “পারলে আমাকে গ্রেফতার করুন।” কিন্তু অসম পুলিশ তাঁর দিল্লির বাড়িতে পৌঁছানোর পর তাঁর সেই আস্ফালন থামিয়ে গেছে । মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “অসম পুলিশ তাঁকে যেখানেই থাকুক খুঁজে বের করবে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করবে। আইন তার নিজের গতিতে চলবে।” এর আগে Times of India-র সাথে এক আলাপচারিতায় শর্মা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিলেন, “আমি কংগ্রেস নেতা পবন খেড়ার বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ নেব, কয়েকদিন অপেক্ষা করুন। আমরা নির্বাচনে অন্তত ১০০টি আসন জিতব।” এছাড়া তিনি Times of India-কে জানিয়েছেন যে তিনি পবন খেড়াকে “পবন পেরা” (Pawan Pera) বানিয়ে ছাড়বেন — এটি অসমিয়া ভাষায় একটি রসিকতা যা দিয়ে বোঝানো হয় যে খেড়া তাঁর আসল রূপ হারিয়ে ফেলবেন ।

তদন্তের পরিধি শুধু পবন খেড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে জানিয়ে শর্মা দাবি করেন, খেড়া ইতিমধ্যে কিছু গ্রেফতার এড়াতে উগ্রপন্থী সংগঠনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন । এই দাবির ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রী পরামর্শ দেন যে তদন্ত শেষ পর্যন্ত রাহুল গান্ধী পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে । তিনি আরও দাবি করেন, বিতর্কিত নথিপত্রগুলি পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া গোষ্ঠীর সাথে সংযুক্ত একটি সূত্র থেকে তৈরি করা হয়েছিল, যা প্রমাণ করে এই পুরো অপপ্রচারের পেছনে একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে l

পাসপোর্ট বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ও FIR

এই বিতর্কের সূচনা হয়েছিল রোববার (৬ এপ্রিল)। কংগ্রেসের মিডিয়া বিভাগের প্রধান পবন খেড়া দিল্লি এবং গুয়াহাটিতে পরপর দুটি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রী রিনিকি ভূয়াঁ শর্মার (Riniki Bhuyan Sarma) কাছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE), আন্তিগুয়া ও বার্বুডা এবং মিশরের তিনটি পাসপোর্ট রয়েছে । এর পাশাপাশি তিনি দাবি করেন যে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইওমিং (Wyoming) রাজ্যে একটি LLC (Limited Liability Company) রয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ৫৩,০০০ কোটি টাকা । কংগ্রেসের তরফ থেকে আরও দাবি করা হয় যে, মুখ্যমন্ত্রীর দুবাইয়ে বহু বিলাসবহুল সম্পত্তি রয়েছে।

এই অভিযোগের জবাবে সোমবার রাতেই গুয়াহাটির পানবাজার ক্রাইম ব্রাঞ্চ থানায় পবন খেড়া সহ অন্যদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩-এর জালিয়াতি ও মানহানি সংক্রান্ত ধারায় FIR দায়ের করেন রিনিকি ভূয়াঁ শর্মা । রিনিকি সরাসরি অভিযোগগুলিকে “ভিত্তিহীন এবং AI প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি” বলে দাবি করেন এবং বলেন, “ভারতে দ্বৈত নাগরিকত্ব দেওয়া হয় না, তাহলে আমার কাছে তিনটি পাসপোর্ট থাকার প্রশ্নই ওঠে না।” শর্মা নিজেও জানিয়েছেন, এই নথিগুলি ডকুমেন্ট শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিবড (Scribd) থেকে চুরি করে বিকৃত করা হয়েছে এবং তিনি ফৌজদারি ও দেওয়ানি উভয় মামলাতেই লড়বেন ।

কংগ্রেসের পাল্টা অবস্থান অসম নির্বাচনে প্রভাব

কংগ্রেস নেতারা পুলিশি পদক্ষেপকে “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা” বলে বর্ণনা করেছেন। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ (Jairam Ramesh) বলেন, অসম পুলিশের এই তৎপরতা প্রমাণ করে যে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা “বিচলিত ও ঘাবড়ে গেছেন” । অন্যদিকে পবন খেড়া ৫ এপ্রিল দাবি করেছিলেন যে, কংগ্রেস “কয়েক ঘণ্টার মধ্যে” সমস্ত প্রমাণ জনসমক্ষে উপস্থাপন করবে । তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুত সম্পূর্ণ নথি প্রকাশ করা হয়নি।facebook+1

সামগ্রিকভাবে এই বিতর্ক ৯ এপ্রিলের ভোটের আগে অসমের রাজনৈতিক পরিবেশ অত্যন্ত তাপিত করে তুলেছে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন যে NDA জোটের ভোট পাওয়ার সম্ভাব্যতা ইতিমধ্যে বেড়েছে — অনানুষ্ঠানিক “সাট্টা বাজার” (satta bazar) প্রবণতা অনুযায়ী সকালে NDA-র প্রজেক্টেড সংখ্যা ছিল ৯৪টি আসন, যা রাত্রির মধ্যে ৯৯-এ উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে ।

বরাক উপত্যকা হাইলাকান্দিতে প্রভাব

হাইলাকান্দি জেলা এবং লালা শহরের ভোটারদের কাছে এই পাসপোর্ট বিতর্ক ও পুলিশি অভিযান একটি বিশেষ আলোচনার বিষয়। বরাক উপত্যকার জনমানসে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে এই সর্বোচ্চ মাত্রার রাজনৈতিক সংঘাত সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এই অঞ্চলের ভোটারদের কাছে মূল প্রশ্ন হলো, নির্বাচনের ঠিক আগে এত বড় বিতর্কের মাঝে আসলে সত্য কোথায়? আদালতে মামলার গতিপ্রকৃতিই শেষ পর্যন্ত তার উত্তর দেবে। অসম বিধানসভার ১২৬টি আসনে আগামীকাল ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হবে এবং ৪ মে ফলাফল ঘোষিত হবে। ভোটের ফলাফলের পর পাসপোর্ট মামলার তদন্ত কোনদিকে মোড় নেয়, সেই দিকে সকলের নজর নিবদ্ধ। রাজনীতিকদের দাবি-পাল্টা দাবির বাইরে গিয়ে এখন অসমের বিচার ব্যবস্থা ও তদন্ত সংস্থাগুলির কার্যক্রমই এই বিতর্কের চূড়ান্ত মীমাংসা করবে।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পবন খেড়াকে হুঁশিয়ারি, অসম পুলিশ যেখানেই থাকুক খুঁজে আনবে; তদন্তের ছায়া রাহুল গান্ধীর দিকেও
Scroll to top