
মণিপুরের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাথে আলোচনার পর এবার সরাসরি ময়দানে নামছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং (Y. Khemchand Singh)। শান্তি প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক জনসংযোগ এবং প্রশাসনিক কাজকর্ম খতিয়ে দেখতে আগামী ৪ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত জিরিবাম (Jiribam) জেলা এবং সংলগ্ন অসম সীমানায় এক বহুমুখী সফরে যাচ্ছেন তিনি। জাতিগত হিংসা-বিধ্বস্ত অঞ্চলগুলিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ফেরাতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরামর্শে তাঁর এই সফর বলে সূত্রের খবর।
সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ এপ্রিল ইম্ফল থেকে সড়কপথে রওনা দিয়ে দুপুর নাগাদ জিরিবামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। সেখানে একটি পুলিশ আউটপোস্ট, জেলা হাসপাতাল সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পরিদর্শনের পাশাপাশি নিউ আলিপুর নাগা গ্রামে একটি যৌথ সম্প্রদায়িক বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। ২০২৩ সালের ৩ মে থেকে রাজ্যে শুরু হওয়া জাতিগত হিংসায় এখনও পর্যন্ত ২৬০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং প্রায় ৬২,০০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এই অশান্তির আবহে জিরিবামে মুখ্যমন্ত্রীর এটি দ্বিতীয় সফর। এই স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফেরানোর অঙ্গ হিসেবে তিনি দুই তরফেরই ত্রাণ শিবিরে থাকা অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষদের (IDPs) সাথে দেখা করবেন এবং মেইতেই ও কুকি-জো-হমার সম্প্রদায়ের সদস্যদের সাথে একটি কমিউনিটি ভোজে অংশ নেবেন।
পরিকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে ৫ এপ্রিল জিরিবামের চন্দ্রপুরে একটি আন্তঃরাজ্য ট্রাক টার্মিনাস সহ অন্যান্য প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন মুখ্যমন্ত্রী খেমচাঁদ সিং। রাজনৈতিক জনসংযোগের অংশ হিসেবে পড়শি রাজ্য অসমের শিলচর ও হাইলাকান্দি জেলাতেও তাঁর প্রচার সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
‘জেড প্লাস’ (Z+) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাওয়া মুখ্যমন্ত্রীর এই হাই-প্রোফাইল সফর ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তাঁর সাথে একাধিক মন্ত্রী, বিধায়ক এবং প্রবীণ রাজনৈতিক নেতারাও থাকবেন। সফরের আগে রুট এবং অনুষ্ঠানস্থলগুলি সুরক্ষিত করতে ইতিমধ্যেই অ্যান্টি-স্যাবোটাজ দল এবং স্নিফার ডগ মোতায়েন করা হয়েছে। এই সফরের আগে ইম্ফলে ফিরে রাজভবনে রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লার (Ajay Kumar Bhalla) সাথে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, তিনি ৫৭ মাউন্টেন ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিংয়ের (GOC) সাথেও বৈঠক করেন, যেখানে রাজ্যে ‘ডুরান্ড কাপ ২০২৬’ (Durand Cup 2026) আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়। রাজ্যে স্বাভাবিক অবস্থা ফেরানোর চেষ্টার মাঝেই একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথাও তিনি পুনরায় তুলে ধরেন।