Read today's news --> Click here

ট্রাম্পের ইরানকে আলটিমেটাম: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলতে হবে, বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে উদ্বেগ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ইরানকে একটি কড়া আলটিমেটাম দিয়েছেন — আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) যান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত করতে হবে, অন্যথায় গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে হবে। ট্রাম্পের ইরানকে আলটিমেটাম দেওয়ার এই ঘটনা পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও একটি নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে গেছে। বিশ্বের মোট সামুদ্রিক তেল রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালীর মধ্য দিয়ে যায়, ফলে ইরানের এই কৌশলগত পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি করেছে।

হরমুজ প্রণালী কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর (Persian Gulf) এবং ওমান উপসাগরের (Gulf of Oman) সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি সংকীর্ণ জলপথ, যার সর্বোচ্চ প্রশস্ততা মাত্র ৩৯ কিলোমিটার। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের মতো বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশগুলি থেকে রপ্তানিকৃত অপরিশোধিত তেলের একটি বিশাল অংশ এই পথ দিয়েই বিশ্ববাজারে পৌঁছায়। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (International Energy Agency বা IEA)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১.৮ থেকে ২ কোটি ব্যারেল তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।

ইরান বহুবছর ধরে এই প্রণালী নিজেদের ভূখণ্ডের পাশে অবস্থিত বলে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর ইরান প্রথমবার হরমুজ প্রণালী আংশিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয় এবং পরে সেই হুমকি কার্যকর করে। এর জেরেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারত সহ তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে।

ট্রাম্পের আলটিমেটাম ইরানের প্রতিক্রিয়া

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে এবং হোয়াইট হাউসের (White House) মুখপাত্রের মাধ্যমে জানান যে, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মুক্ত জলপথ এবং ইরানের এটি অবরোধ করার কোনো এক্তিয়ার নেই। ট্রাম্পের ইরানকে আলটিমেটাম দেওয়ার এই পদক্ষেপে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “ইরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু না করে, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।” তাঁর এই বক্তব্য কূটনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন ফেলেছে।

ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে মার্কিন হুমকিতে তারা ভয় পায় না এবং ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার তাদের রয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি (Abbas Araghchi) জানিয়েছেন, আমেরিকা যদি সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে পুরো অঞ্চলজুড়ে এর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হবে। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ (United Nations) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (European Union) উভয় পক্ষকেই সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা বরাক উপত্যকার উপর প্রভাব

হরমুজ প্রণালী বন্ধ তেল সংকট ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেল চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানি করে এবং উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা তেলের একটি বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়েই আসে। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে ভারতের হাতে কমপক্ষে ৬০ দিনের অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে এবং বিকল্প সরবরাহকারী দেশগুলো থেকে অতিরিক্ত কার্গো আনার প্রক্রিয়া চলছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই অবরোধ জারি থাকলে দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে বড় ধাক্কা আসতে পারে। এর প্রভাব সরাসরি পড়বে আসামের মতো রাজ্যগুলোতে, যেখানে ভৌগোলিক কারণেই জ্বালানির দাম জাতীয় গড়ের চেয়ে এমনিতেই বেশি।

হাইলাকান্দি জেলার লালা বাজার এবং আশপাশের এলাকায় কৃষিকাজ, পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্য — সবকিছুই সরাসরি জ্বালানির দামের সঙ্গে যুক্ত। ট্রাম্পের ইরানকে আলটিমেটাম এবং হরমুজ সংকট যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে লালা বাজারের বাজারদর, অটো ও ম্যাজিক ভাড়া এবং কৃষি উপকরণের মূল্যে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য। তাই এই আন্তর্জাতিক সংকটের দিকে হাইলাকান্দির সাধারণ মানুষকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনীতির জন্য অত্যন্ত সিদ্ধান্তমূলক হতে চলেছে। ইরান যদি মার্কিন চাপের সামনে নতি স্বীকার করে প্রণালী খুলে দেয়, তাহলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে। আর যদি না করে, তাহলে ইরান আমেরিকা সংঘাত একটি সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষের রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব শুধু পশ্চিম এশিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকবে না — গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজার তার ধাক্কায় কেঁপে উঠবে। ভারত সরকার পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে কেন্দ্র জানিয়েছে।

ট্রাম্পের ইরানকে আলটিমেটাম: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলতে হবে, বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে উদ্বেগ
Scroll to top