Read today's news --> Click here

লোকসভায় মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকরে বাজেট অধিবেশন তিন দিন বাড়ালেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপন করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছেন যে, চলতি বাজেট অধিবেশন (Budget Session) আরও তিন দিন বাড়ানো হচ্ছে। এই বর্ধিত অধিবেশনের মূল উদ্দেশ্য হলো লোকসভা এবং রাজ্যের বিধানসভাগুলিতে লোকসভায় মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানোর দিকে একটি সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।

নারী সংরক্ষণ আইনের পথচলা এবং বর্তমান পদক্ষেপ

নারীদের জন্য সংসদীয় আসন সংরক্ষণের দাবি ভারতের রাজনীতিতে দশকের পর দশক ধরে আলোচিত হয়ে আসছিল। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঐতিহাসিক ‘নারী শক্তি বন্দন আইন’ (Nari Shakti Vandan Adhiniyam) সংসদের উভয় কক্ষে পাস হয়, যা লোকসভা, রাজ্যসভা এবং রাজ্যের বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ বা ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিধান করে। তবে এই আইন কার্যকর হওয়ার জন্য আদমশুমারি এবং নির্বাচনী এলাকার পুনর্বিন্যাস (Delimitation) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার শর্ত ছিল।

এখন প্রধানমন্ত্রী মোদীর ঘোষণা করা বাজেট অধিবেশনের এই তিন দিনের বর্ধিতকরণ লোকসভায় মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করার পথে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে। সংসদীয় বিষয়মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে এই বর্ধিত অধিবেশনে মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিধিমালা এবং সাংবিধানিক সংশোধনীর চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “মহিলাদের যোগ্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা আমাদের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং এটি আমার সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।”

সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্বের বর্তমান চিত্র

বর্তমানে লোকসভায় মহিলা সাংসদের সংখ্যা মোট ৫৪৩টি আসনের মধ্যে মাত্র ৭৪ জন, অর্থাৎ প্রায় ১৩.৬ শতাংশ। নারী শক্তি বন্দন আইন কার্যকর হলে এই সংখ্যা একলাফে ১৮১ জনে গিয়ে পৌঁছাবে, যা ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা হবে। আন্তর্জাতিক সংসদীয় ইউনিয়ন (Inter-Parliamentary Union বা IPU)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদে গড়ে ২৬ শতাংশ মহিলা সদস্য রয়েছেন, যেখানে ভারত এখনও এই গড়ের অনেক নিচে রয়েছে।

রাজ্য বিধানসভার ক্ষেত্রেও এই চিত্র প্রায় একই রকম। আসামের বর্তমান বিধানসভায় ১২৬টি আসনের মধ্যে মাত্র ১৪ জন মহিলা বিধায়ক রয়েছেন, অর্থাৎ প্রায় ১১ শতাংশ। লোকসভায় মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ আইন পুরোপুরি কার্যকর হলে আসামের বিধানসভায় কমপক্ষে ৪২ জন মহিলা বিধায়কের আসন নিশ্চিত হবে। এই পরিবর্তন আসামের রাজনৈতিক মঞ্চে নারীর ভূমিকাকে আমূল পাল্টে দেবে।

আসাম হাইলাকান্দি লালা বাজারে এর তাৎপর্য

জাতীয় স্তরে এই ঐতিহাসিক আইনি পদক্ষেপের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। বরাক উপত্যকা এবং বিশেষত হাইলাকান্দি জেলার লালা বাজার এলাকায় এই পরিবর্তনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। হাইলাকান্দি জেলায় বাঙালি, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি এবং চা-জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মহিলারা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।

লালা বাজার এলাকার বিভিন্ন মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী (Self-Help Group বা SHG) এবং সামাজিক সংগঠনের নেত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে এই সংরক্ষণের পক্ষে সরব ছিলেন। নারী শক্তি বন্দন আইন কার্যকর হলে হাইলাকান্দির মতো পিছিয়ে পড়া জেলায় গ্রামীণ ও শহরতলির মহিলারা বিধানসভা এবং লোকসভার রাজনীতিতে সরাসরি অংশগ্রহণের বৈধ সুযোগ পাবেন। এটি স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন এবং মহিলা নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো নিয়ে নীতিনির্ধারণে মহিলা দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটাবে বলে মনে করছেন সমাজকর্মীরা।

সামনের দিনগুলোতে বাজেট অধিবেশনের বর্ধিত তিন দিনে এই সংক্রান্ত প্রক্রিয়া কতটা এগোয়, তার ওপর নির্ভর করবে লোকসভায় মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর হওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমা। বিরোধী দলগুলো দাবি করছে যে আদমশুমারি ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের শর্ত তুলে দিয়ে আইনটি অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। সরকার এ বিষয়ে সংসদে আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু সমাধানে পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভারতের গণতান্ত্রিক যাত্রায় নারীর সমান অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার এই পদক্ষেপ ঐতিহাসিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এর ফলাফলের দিকে সমগ্র দেশ, তথা লালা বাজার থেকে লাদাখ পর্যন্ত প্রতিটি নাগরিক তাকিয়ে রয়েছেন।

লোকসভায় মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকরে বাজেট অধিবেশন তিন দিন বাড়ালেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
Scroll to top