
আগামী ৯ এপ্রিল অসমে ১২৬ আসনের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুড়ি চরম আকার ধারণ করেছে । অসম জাতীয় পরিষদ (AJP) বা এজেপি-র ২৭ বছর বয়সী তরুণী প্রার্থী কুণ্কি চৌধুরীর মায়ের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে এবার আসরে নামলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা । খোওয়াঙে (Khowang) প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গুয়াহাটি সেন্ট্রাল কেন্দ্রের বিরোধী প্রার্থী কুণ্কির মা সুজাতা গুরুং চৌধুরী ইনস্টাগ্রামে গোমাংস খাওয়ার ছবি পোস্ট করে ‘সনাতনী’ মানুষের ভাবাবেগে আঘাত হেনেছেন । সিকিমের বাসিন্দা সুজাতা হিন্দু দেবতা শ্রীকৃষ্ণে অবিশ্বাস প্রকাশ করার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় নাকি এমনও দাবি করেছেন যে, পাকিস্তান আসলে ভারতের শত্রু নয় ।
মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী প্রার্থীর মায়ের বিরুদ্ধে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, উত্তর-পূর্ব ভারতের সাথে দেশের বাকি অংশের সংযোগকারী ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোর কেটে দেওয়ার যে উস্কানিমূলক মন্তব্য শারজিল ইমাম এবং উমর খালিদ করেছিলেন, ফেসবুকে তাকেও প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন সুজাতা । মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পাননি এজেপি সভাপতি লুরিনজ্যোতি গগৈ-ও। প্রাক্তন আসু (AASU) নেতার বিরুদ্ধে তোপ দেগে হিমন্ত বলেন, নির্বাচনে জেতার জন্য এখন তাঁর গান্ধী পরিবারের সাহায্য লাগছে এবং তাঁর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হলো বিধায়ক হয়ে বিয়ে করা । উল্লেখ্য, সদ্যই লুরিনজ্যোতির নির্বাচনী কেন্দ্র খোওয়াঙে তাঁর হয়ে প্রচার সেরে গেছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, কারণ এই নির্বাচনে কংগ্রেস সহ আরও চারটি দলের সাথে জোট বেঁধে লড়ছে এজেপি ।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত আক্রমণের কড়া জবাব দিয়েছে এজেপি শিবির। দলের সভাপতি লুরিনজ্যোতি গগৈ প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক লড়াইয়ে একজন প্রার্থীর মাকে টেনে আনার কী যৌক্তিকতা রয়েছে । তিনি দাবি করেন, কুণ্কি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (UCL) থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী একজন অত্যন্ত উচ্চশিক্ষিত মেয়ে, যিনি গুয়াহাটির কৃত্রিম বন্যা, যানজট এবং ভূমিপুত্রদের জমির অধিকারের মতো মৌলিক প্রশ্নগুলি তুলে ধরেছেন । এই প্রশ্নগুলির কোনো উত্তর দিতে না পেরেই মুখ্যমন্ত্রী এখন ‘হিন্দু-মুসলিম’ রাজনীতির আশ্রয় নিচ্ছেন বলে অভিযোগ এজেপি প্রধানের । পাশাপাশি, জুবিন গর্গের মৃত্যুর মতো প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলি থেকে নজর ঘোরাতেই মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বিয়ের প্রসঙ্গ টানছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন ।
গুয়াহাটি সেন্ট্রাল কেন্দ্রে বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা বিজয় কুমার গুপ্তের বিরুদ্ধে লড়তে নামা কুণ্কি চৌধুরী নিজেও মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের একটি ব্যঙ্গাত্মক জবাব দিয়েছেন । সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি মায়ের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। কুণ্কি বলেন, রাজনীতিতে আসার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই গুয়াহাটি সেন্ট্রালের মানুষ তাঁকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা দেখেই বিজেপি নিজেদের হার স্বীকার করে নিয়েছে এবং ভয় পেয়েছে । তাঁকে রাতারাতি গোটা দেশের কাছে পরিচিত করে তোলার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষের সুরে ধন্যবাদও জানান এই তরুণী প্রার্থী । আগামী ৪ মে এই নির্বাচনের ভোট গণনা হবে ।