সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার স্বপ্ন দেখা অসমের তরুণদের জন্য বড় খবর নিয়ে এল অল আসাম স্টুডেন্টস’ ইউনিয়ন — আছু। আছু ইউপিএসসি আর্থিক সহায়তা হিসেবে এই বছর প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২৫ জনকে এককালীন ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে, যাতে তারা মেইন্স ও ইন্টারভিউয়ের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারেন। আছুর সভাপতি উৎপল শর্মা ২৪ মে ২০২৬ তারিখে — যেদিন সারা দেশে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল — একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই ঘোষণা করেন।
এই সহায়তা শুধু আর্থিক অনুদান নয়; এটি আছুর শিক্ষামূলক প্রকল্প ‘প্রত্যাশা’-র অংশ, যার লক্ষ্য অসমের তরুণদের জাতীয় প্রশাসনিক পরিষেবায় আনা। উৎপল শর্মা জানান, যারা প্রিলিমস পেরিয়েছেন তাদের মেইন্সের জন্য নিবিড় প্রস্তুতি নেওয়া দরকার, এবং সেই পর্যায়ে কোচিং, স্টাডি ম্যাটেরিয়াল ও টেস্ট সিরিজের জন্য বড় খরচ লাগে। আছু ইউপিএসসি আর্থিকসহায়তা সেই ঘাটতিকে কিছুটা পূরণ করবে বলে সংগঠনের আশা।
প্রত্যাশা প্রকল্প: আছুর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য
আছুর ‘প্রত্যাশা’ প্রকল্পটি শুধু আর্থিক অনুদানেই সীমাবদ্ধ নয়। DailyHunt-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় ৪০ জন তরুণ-তরুণীকে দিল্লির বিখ্যাত কোচিং প্রতিষ্ঠান নেক্সট আইএএস-এ পূর্ণকালীন প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে, যাদের মধ্যে ২৬ জন অসম থেকে এবং ১৪ জন উত্তর-পূর্বের অন্যান্য রাজ্য থেকে। এই ব্যাচে মাসিক ভাতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আছু ইউপিএসসি আর্থিক সহায়তা-র পাশাপাশি ‘প্রত্যাশা’ প্রকল্পের এই সামগ্রিক কাঠামো দেখলে বোঝা যায়, সংগঠনটি কেবল তাৎক্ষণিক সাহায্য দিতে চাইছে না; বরং অসমের ছাত্রদের দেশের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো তৈরি করতে চাইছে। উত্তর-পূর্ব ভারতে ইউপিএসসি সাফল্যের হার তুলনামূলকভাবে কম থাকায় এই ধরনের উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
২০২৫ সালেও আছু নয় জন ইউপিএসসি মেইন্স প্রার্থীকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল বলে সেন্টিনেল আসামের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার প্রিলিমস স্তরেও সহায়তা প্রসারিত করা হলো। এটি ইঙ্গিত দেয় যে সংগঠনটি পরীক্ষার প্রতিটি ধাপে ছাত্রদের পাশে থাকতে চাইছে — প্রিলিমস থেকে মেইন্স, মেইন্স থেকে ইন্টারভিউ পর্যন্ত।
২৫ জনের জন্য কীভাবে আবেদন করতে হবে
প্রিলিমস পাস করা প্রার্থীরা আছুর ওয়েবসাইট বা নির্ধারিত চ্যানেলের মাধ্যমে আছু ইউপিএসসিআর্থিক সহায়তা-র জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রিলিমস উত্তীর্ণ হওয়ার সরকারি প্রমাণ ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। নির্ধারিত ২৫ জন প্রার্থীর মধ্যে পড়লে এককালীন ৫০ হাজার টাকা সরাসরি দেওয়া হবে।
মোট সহায়তার পরিমাণ হিসাব করলে দাঁড়ায় ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই পরিমাণ একটি ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া আর্থিক প্রতিশ্রুতি হিসেবে উল্লেখযোগ্য। পরীক্ষার্থীর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, মেইন্সের জন্য দিল্লি বা গুয়াহাটিতে ভালো কোচিং নেওয়া, উত্তর লেখার ক্লাস করা এবং মক ইন্টারভিউ দেওয়ার মোট খরচ প্রায়ই ৫০ হাজার টাকার কাছাকাছি বা বেশি হয়। ফলে এই সহায়তা বাস্তবেই কার্যকর।
বরাক উপত্যকা ও লালাবাজারের সম্পর্ক
হাইলাকান্দি, কাছাড় ও শ্রীভূমি জেলার অনেক তরুণ-তরুণী প্রতিবছর ইউপিএসসিসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসেন। লালাবাজার বা লালা টাউনের মতো ছোট শহরগুলোতে মেধাবী শিক্ষার্থীর অভাব নেই, কিন্তু তাদের সামনে সবচেয়ে বড় বাধাটি প্রায়ই আর্থিক। প্রিলিমস পাসের পর মেইন্সের কোচিং, দিল্লি বা গুয়াহাটিতে থাকা-খাওয়ার খরচ, বই ও স্টাডি ম্যাটেরিয়াল — সব মিলিয়ে এটা অনেক পরিবারের পক্ষে সামলানো কঠিন।
আছু ইউপিএসসি আর্থিক সহায়তা এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। হাইলাকান্দি বা লালাবাজারের কোনো পরিবার যদি তাদের সন্তানের প্রিলিমস সাফল্যের পর মেইন্সের খরচ নিয়ে চিন্তিত থাকেন, তাহলে এই ঘোষণা তাদের জন্য সরাসরি প্রাসঙ্গিক। অনেকে হয়তো জানতেন না যে এমন সহায়তা পাওয়ার সুযোগ আছে। সচেতনতা বাড়লে স্থানীয়ভাবেও আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়তে পারে।
রাজ্যের সামগ্রিক সিভিল সার্ভিস পরিবেশ
অসমে সিভিল সার্ভিস প্রার্থীদের জন্য একাধিক সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ রয়েছে। রাজভবন পরিচালিত ‘প্রতিভা প্রোৎসাহন যোজনা’ একটি পরিচিত প্রকল্প, যেখানে নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি রাজ্য সরকারও বিভিন্ন সময়ে কোচিং সহায়তার ঘোষণা করেছে।
আছু ইউপিএসসি আর্থিক সহায়তা এই সামগ্রিক কাঠামোর বাইরে একটি নতুন সুযোগ। সরকারি প্রকল্পের পাশাপাশি ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগ যুক্ত হওয়া মানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রে আরও বেশি মানুষের কাছে সুযোগ পৌঁছাচ্ছে। বিশেষত গ্রামাঞ্চল ও ছোট শহরের শিক্ষার্থীরা প্রায়ই সরকারি প্রকল্পের তথ্য পান না বা প্রক্রিয়াগত জটিলতায় আবেদন করতে পারেন না — সেই শূন্যস্থান পূরণেও এই ধরনের উদ্যোগ সহায়ক।
সামনে কী দেখার আছে
এখন সবার নজর থাকবে আবেদন প্রক্রিয়া কীভাবে চলে, কোন ২৫ জন প্রার্থী বাছাই পান এবং কত দ্রুত অর্থ বিতরণ হয়। আছুর ‘প্রত্যাশা’ প্রকল্পের পরবর্তী ধাপগুলো — বিশেষত দিল্লির কোচিং ব্যাচ — কীভাবে এগোয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, আছু ইউপিএসসি আর্থিক সহায়তা-র এই ঘোষণা অসমের তরুণ প্রশাসনিক স্বপ্নদ্রষ্টাদের জন্য একটি বাস্তব সহায়তার বার্তা। প্রিলিমস পেরোনো মানেই লড়াই শেষ নয়; বরং সেখান থেকেই আসল পরীক্ষা শুরু। সেই কঠিন পথে একটু আর্থিক স্বস্তি অনেক ক্ষেত্রে একটি মেধাবী জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে।