Read today's news --> Click here

গুয়াহাটি ট্রাক অগ্নিকাণ্ড: গণেশ মন্দির এলাকায় ট্রাক কেবিনে আগুন, ফায়ার ব্রিগেডের তৎপরতায় রক্ষা

গুয়াহাটি ট্রাক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সোমবার (১৪ এপ্রিল) রাতে শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুয়াহাটির ৮ মাইল জোড়াবাট অঞ্চলের গণেশ মন্দির সংলগ্ন এলাকায় একটি ট্রাকের কেবিনে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। আসাম-মেঘালয় সীমান্তের কাছাকাছি এই এলাকায় রাতের বেলা ট্রাকটিতে আগুন লাগায় স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে ফায়ার ব্রিগেড দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সৌভাগ্যবশত এই গুয়াহাটি ট্রাক অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

কীভাবে ঘটল এই ঘটনা?

T7 News-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার রাত ১১টার পর ৮ মাইলের গণেশ মন্দির এলাকায় আচমকা ট্রাকটির কেবিনে আগুন ধরে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অন্ধকার রাস্তায় ট্রাকের কেবিন থেকে আচমকা আগুনের শিখা ওঠতে দেখে এলাকাবাসী সতর্ক হন। এরপরই দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। গুয়াহাটির ওই এলাকায় রাতের দিকে ভারী যানবাহনের চলাচল বেশি থাকায় আগুনের ঘটনা দ্রুত নজরে পড়ে।

আরও একটি পৃথক ঘটনায়, গুয়াহাটির জাতীয় সড়কে বোরাগাঁও ফ্লাইওভারে একটি চলন্ত ট্রাকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুন ধরে যায়। জোড়াবাট ও তার আশেপাশের এলাকায় এপ্রিল মাসে একাধিক ট্রাক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা থেকে স্পষ্ট যে গরমের মরসুমে যানবাহনে বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা ওভারহিটিং থেকে আগুন লাগার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

সাধারণত ট্রাকের কেবিনে আগুন লাগার পেছনে যেসব কারণ থাকে তার মধ্যে প্রধান হল — বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, জ্বালানি লাইনে ফুটো, অতিরিক্ত গরমে ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশের ক্ষতি এবং ড্যাশবোর্ডে অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক সংযোগ। বিশেষত গ্রীষ্মকালে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রমকারী ট্রাকগুলোতে ইঞ্জিন ঠান্ডা না করেই চলার ফলে এই ধরনের দুর্ঘটনা বাড়ে।

গুয়াহাটির সড়কে বারবার যানবাহন অগ্নিকাণ্ড: উদ্বেগের চিত্র

এটি গুয়াহাটির সড়কে একমাত্র ট্রাক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নয়। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে শিলং-গুয়াহাটি জাতীয় সড়কে NHAI টোলগেটের কাছে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি ট্রাকে ভোর রাতে আগুন লেগেছিল। একই মাসে জোড়াবাট এলাকায় একটি কন্টেইনার ট্রাক আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে গুয়াহাটির নলবাড়ি-রানিয়া জাতীয় সড়কেও একটি ট্রাক রাতের বেলা আগুনে পুড়ে যায়। এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলো থেকে স্পষ্ট যে গুয়াহাটির জাতীয় সড়কে চলাচলকারী ভারী যানবাহনে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে পণ্যবাহী ট্রাকের বড় একটি অংশ পুরনো এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জীর্ণ। অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র না রাখা বা মেয়াদ উত্তীর্ণ যন্ত্র রাখা এই পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। Motor Vehicles Act অনুযায়ী, পণ্যবাহী যানে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ অনেক ক্ষেত্রেই দুর্বল।

আসামের সড়ক নিরাপত্তা লালার ভারী যানবাহন চলাচল

গুয়াহাটির এই ঘটনা আসামের সড়ক নিরাপত্তার বৃহত্তর প্রশ্নটিকে সামনে নিয়ে আসে। জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনা ও যানবাহন অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা প্রতি বছর উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আসাম রাজ্য পরিবহন বিভাগ ও ট্রাফিক পুলিশ ভারী যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষার উপর জোর দিয়ে থাকলেও বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে।

হাইলাকান্দি জেলার লালা টাউন ও বরাক উপত্যকার রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত পণ্যবাহী ট্রাক যাতায়াত করে। শিলচর-লালা-হাইলাকান্দি রুটে এই ট্রাকগুলোর মধ্যে অনেকটিই পুরনো এবং দীর্ঘ পথ চলার উপযুক্ত নয়। গ্রীষ্মের এই মরসুমে ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়া এবং তা থেকে আগুন লাগার আশঙ্কা থাকে। স্থানীয় ট্রাক চালক ও পরিবহন ব্যবসায়ীদের তাই নিয়মিত যানবাহন পরীক্ষা এবং কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখার বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।

গুয়াহাটির গণেশ মন্দির এলাকার এই গুয়াহাটি ট্রাক অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণহানি না হওয়াটি স্বস্তির বিষয়। কিন্তু বারবার এই ধরনের ঘটনা সড়ক পরিবহন খাতে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার প্রয়োজনীয়তাকে আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস, পরিবহন বিভাগ ও ট্রাক মালিক সংস্থাগুলোর যৌথ উদ্যোগে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং কঠোর ফিটনেস পরীক্ষা ছাড়া এই দুর্ঘটনার চক্র থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন।

গুয়াহাটি ট্রাক অগ্নিকাণ্ড: গণেশ মন্দির এলাকায় ট্রাক কেবিনে আগুন, ফায়ার ব্রিগেডের তৎপরতায় রক্ষা
Scroll to top