রঙালি বিহু ২০২৬ উপলক্ষে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বুধবার (১৫ এপ্রিল) সমগ্র আসামবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর শুভেচ্ছা বার্তায় CM হিমন্ত বলেছেন, বহাগ বিহু কোনো সাধারণ উৎসব নয় — এটি আসামের হৃদয়স্পন্দন। Sentinel Assam-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বিহুকে আসামের মাটি, মানুষ ও সংস্কৃতির সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য সূত্রে গাঁথা বলে অভিহিত করেছেন। রঙালি বিহু উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা রাজ্যের প্রতিটি মানুষের কাছে উৎসবের আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।
“বহাগ আসামের হৃদয়স্পন্দন” — CM হিমন্তের বার্তায় কী বললেন?
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁর শুভেচ্ছা বার্তায় বলেছেন, “বহাগ বিহু আসামের হৃদয়স্পন্দন।” তিনি আরও বলেন যে এই উৎসব আসামের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক এবং প্রতিটি আসামবাসীর পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। CM হিমন্ত বিশেষভাবে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন বিহুর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে আগামী প্রজন্মের কাছে বহন করে নিয়ে যায়। তাঁর বার্তায় সমাজের সব শ্রেণির মানুষ — কৃষক থেকে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী থেকে শ্রমিক — সকলের প্রতি নতুন বছরের শুভ কামনা জানানো হয়েছে।
CM হিমন্ত আরও জানিয়েছেন, রঙালি বিহু কেবল আসামের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার নয় — রাজ্যের সমস্ত প্রান্তে, সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষের কাছেই এই উৎসবের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। এই ঐক্যের বার্তাই রঙালি বিহুকে আসামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক উৎসবের মর্যাদা দেয়। তিনি বলেন, বিহুর গান, নৃত্য ও পিঠা-পানার সংস্কৃতি আসামের মাটি থেকে উঠে আসা জীবনের আনন্দের প্রকাশ — যা কোনো রাজনৈতিক সীমারেখা মানে না।
রঙালি বিহু: আসামের সবচেয়ে বড় উৎসবের পরিচয়
রঙালি বিহু, যা বহাগ বিহু নামেও পরিচিত, আসামের বার্ষিক কৃষি উৎসব। প্রতি বছর বাংলা মাসের পয়লা বৈশাখ তথা বাংলা নববর্ষের সঙ্গে মিলিয়ে এপ্রিলের মাঝামাঝি এই উৎসব পালিত হয়। মূলত বোরো ধানের বীজ বপনের মরসুমের সূচনায় কৃষকরা এই উৎসব শুরু করেছিলেন। কালক্রমে তা আসামের সমগ্র সমাজজীবনের কেন্দ্রে এসে দাঁড়িয়েছে। আসামে তিনটি বিহু প্রচলিত — রঙালি বা বহাগ বিহু (বসন্তকালীন), কঙালি বা কাতি বিহু (শরৎকালীন), এবং ভোগালি বা মাঘ বিহু (শীতকালীন)। এই তিনটির মধ্যে রঙালি বিহুই সবচেয়ে বড় এবং সর্বাধিক উদযাপিত।
২০২৬ সালে আসাম সরকার রাজ্যজুড়ে বিহু উৎসব পালনে বিশেষ কার্যক্রম আয়োজন করেছে। গুয়াহাটির সরুসজাই স্টেডিয়ামে কেন্দ্রীয় রাজকীয় বিহু অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রতিটি জেলা সদরে স্থানীয় উৎসব কমিটির উদ্যোগে বিহু আয়োজিত হচ্ছে। বিহুর ঢোল-পেঁপা-তাল শব্দে আসামের প্রতিটি গ্রাম ও শহর এই কদিন সুরে ভরে ওঠে। লাল-সাদা মেখেলা চাদরে সজ্জিত মেয়েরা এবং ধুতি-গামছায় ছেলেরা মিলে যে বিহু নৃত্য পরিবেশন করেন, তা আসামের সাংস্কৃতিক পরিচিতির সবচেয়ে দৃশ্যমান অভিব্যক্তি।
বরাক উপত্যকা ও লালায় বিহু-র প্রাসঙ্গিকতা
আসামের মুখ্যমন্ত্রীর রঙালি বিহুর শুভেচ্ছা বার্তা বরাক উপত্যকার বাসিন্দাদের কাছেও আলাদা গুরুত্ব বহন করে। CM হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁর বার্তায় স্পষ্ট করে বলেছেন যে রঙালি বিহু শুধু ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার নয় — আসামের সব অঞ্চলের মানুষের উৎসব। বরাক উপত্যকায় বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বিভিন্ন উপজাতি সম্প্রদায়ও বহাগের আনন্দে সামিল হন।
হাইলাকান্দি জেলার লালা টাউনেও রঙালি বিহু উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠন ও সাংস্কৃতিক সংস্থার উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে থাকে। CM হিমন্তের বার্তায় আসামের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সম্মান জানানোর যে আহ্বান রয়েছে, তা বরাক ও ব্রহ্মপুত্র — উভয় উপত্যকার মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন তৈরির বার্তাও বহন করে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার রঙালি বিহু শুভেচ্ছা বার্তা এবারের উৎসবকে কেবল সাংস্কৃতিক আনন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। এটি আসামের মাটি, মানুষ ও ঐতিহ্যের প্রতি রাজ্য সরকারের দায়বদ্ধতার একটি স্বীকৃতিও। বিহুর এই চিরন্তন আনন্দ-উৎসব যেন প্রতি বছরের মতো এবারও আসামের সব প্রান্তের মানুষকে একত্রিত করে, নতুন বছরে সমৃদ্ধি ও সৌহার্দ্যের পথ প্রশস্ত করে — এই প্রত্যাশাই মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার মর্মকথা।