Read today's news --> Click here

রিনিকি ভূয়াঁ শর্মা পাসপোর্ট বিতর্কে পবন খেরার অভিযোগ নাকচ, ৪৮ ঘণ্টায় মানহানি মামলার ঘোষণা

৯ এপ্রিলের আসাম বিধানসভা ভোটের ঠিক চার দিন আগে রাজ্যের রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের সূচনা হয়েছে। কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র পবন খেরা (Pawan Khera) শনিবার নয়াদিল্লিতে AICC সদর দফতরে সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিযোগ তোলেন যে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার (Himanta Biswa Sarma) স্ত্রী রিনিকি ভূয়াঁ শর্মা (Riniki Bhuyan Sharma) একসঙ্গে তিনটি বিদেশি দেশের পাসপোর্ট বা সমমানের পরিচয় নথি ধারণ করেন। এই রিনিকি ভূয়াঁ শর্মা পাসপোর্ট বিতর্ক মুহূর্তের মধ্যে জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রধান শিরোনাম হয়ে ওঠে এবং আসামের শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী প্রচারে নতুন উত্তেজনা তৈরি করে।

কংগ্রেসের তিন-পাসপোর্ট অভিযোগ দুবাই সম্পত্তির দাবি

পবন খেরা সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, তাঁর কাছে থাকা নথি অনুযায়ী রিনিকি ভূয়াঁ শর্মা তিনটি বিদেশি পরিচয়পত্র ধারণ করেন — প্রথমটি আবুধাবিতে ২০২২ সালের ১৪ মার্চ তারিখে ইস্যু হওয়া UAE গোল্ডেন কার্ড (UAE Golden Card), দ্বিতীয়টি ২০২১ সালের ২৬ আগস্ট তারিখে ইস্যু হওয়া অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডার পাসপোর্ট (Antigua and Barbuda passport), এবং তৃতীয়টি ২০২২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ইস্যু হওয়া মিশরীয় পাসপোর্ট (Egyptian passport)।

Assam Tribune-এর তথ্য অনুযায়ী, খেরা সংবিধানের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ (Article 9) এবং নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ৯ নম্বর ধারার (Section 9, Citizenship Act 1955) প্রসঙ্গ তোলেন, যেখানে বলা আছে যে কোনো ভারতীয় নাগরিক স্বেচ্ছায় অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। এই যুক্তির ভিত্তিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “রিনিকি ভূয়াঁ শর্মা কি আদৌ ভারতীয় নাগরিক?”

পবন খেরা হিমন্ত সম্পত্তি অভিযোগ-এর পরিধি শুধু পাসপোর্টেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। খেরা দুবাইয়ে রিনিকির নামে এবং M Group-এর সঙ্গে যুক্ত দুটি সম্পত্তির উল্লেখ করেন, যেগুলি CM-এর নির্বাচনী হলফনামায় (election affidavit) প্রকাশ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া তিনি “Riniki Bhuyan Sarma Asset Collective LLC” নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইওমিং (Wyoming) রাজ্যে নিবন্ধিত একটি সংস্থার কথাও তোলেন। খেরার দাবি, এই সংস্থায় হিমন্ত ও তাঁর পুত্র অংশীদার এবং এর বাজেট প্রায় ৩,৪৬৭ কোটি মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫২,০০০ কোটি টাকার সমতুল্য — হোটেল প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য। Asset Collective LLC হিমন্ত কংগ্রেস বিষয়টি নিয়ে খেরা জিজ্ঞেস করেন, ওয়াইওমিং রাজ্যে কর-মুক্ত সুবিধার জন্য এই সংস্থা কেন নিবন্ধন করা হয়েছিল। তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে তদন্তের দাবি এবং হিমন্তের প্রার্থীপদ বাতিলের আবেদন করেন।

রিনিকি হিমন্তের পাল্টা জবাব: মানহানি মামলার হুমকি

অভিযোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই CM হিমন্ত বিশ্বশর্মা X-প্ল্যাটফর্মে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন। Times of India-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি লেখেন, “আজকের সাংবাদিক সম্মেলন কংগ্রেস দলের গভীর হতাশা ও আতঙ্কের পরিচায়ক। আসাম যখন ঐতিহাসিক জনরায়ের দিকে এগিয়ে চলেছে, এই ধরনের মরিয়া ও ভিত্তিহীন আক্রমণ তাদের ডুবে যাওয়া মঞ্চকেই প্রকাশ করে।” তিনি প্রতিটি অভিযোগকে “মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে নাকচ করেন এবং ঘোষণা করেন যে তিনি ও তাঁর স্ত্রী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পবন খেরার বিরুদ্ধে ফৌজদারি (criminal) ও দেওয়ানি (civil) মানহানি মামলা দায়ের করবেন।

পরদিন ৫ এপ্রিল রিনিকি ভূয়াঁ শর্মা পাসপোর্ট বিতর্ক-এ সরাসরি মুখ খুললেন রিনিকি নিজেই। X-প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি খেরার উপস্থাপিত নথিগুলিকে “নিম্নমানের বানোয়াট ছবি ও কাল্পনিক পাসপোর্টের জাল কাগজ” বলে আখ্যায়িত করেন। India Today NE-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি হিন্দিতে কটাক্ষ করে লেখেন, “আপকি সিরফ তপস্যা মে হি নহিঁ, AI generation আউর photoshopping মে ভি কমি রেহ গয়ি” — অর্থাৎ “তোমার শুধু ধৈর্যেই নয়, AI তৈরি এবং ফটোশপিংয়েও দক্ষতার অভাব রয়ে গেছে।” এরপর তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আমি এখন আইনকে তার কাজ করতে দিচ্ছি। ফৌজদারি মামলা শুরু হচ্ছে। আমাদের দেখা হবে আদালতে।”

আসাম নির্বাচন মানহানি মামলার এই পরিস্থিতিতে APCC সভাপতি গৌরব গোগোই (Gaurav Gogoi) হিমন্তের বিরুদ্ধে সম্পত্তি তদন্তের দাবি আরও জোরালো করেন। The Print-এর তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও (Amit Shah) এই বিতর্কে টেনে আনেন খেরা — তিনি প্রশ্ন তোলেন, “শাহ কি জানতেন যে তাঁর ‘পালকপুত্র’ (অর্থাৎ হিমন্ত)-এর স্ত্রীর মিশর, UAE ও অ্যান্টিগুয়ার পাসপোর্ট রয়েছে?”

আসামের নির্বাচনী আবহে বিতর্কের তাৎপর্য

এই বিতর্ক যে মুহূর্তে সামনে এল, তখন ৯ এপ্রিলের ভোটের মাত্র চার দিন বাকি এবং পুরো রাজ্য জুড়ে মডেল কোড অফ কনডাক্ট (MCC) বলবৎ রয়েছে। রিনিকি ভূয়াঁ শর্মা পাসপোর্ট বিতর্ক থেকে স্পষ্ট যে উভয় পক্ষই আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটতে প্রস্তুত। কংগ্রেস চাইছে নির্বাচন কমিশনকে সক্রিয় করতে, আর BJP চাইছে মানহানির মামলার মাধ্যমে এই অভিযোগকে আদালতে নিষ্পত্তি করতে।

হাইলাকান্দি জেলা ও লালা বাজারের বাসিন্দাদের জন্য এই বিতর্কের সরাসরি প্রভাব না থাকলেও, এটি বরাক উপত্যকার ভোটারদের মনেও প্রশ্ন তুলছে — একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে। পবন খেরা হিমন্ত সম্পত্তি অভিযোগ-এর এই বিষয়টি আদালতে কোন দিকে মোড় নেয়, আর নির্বাচন কমিশন কোনো পদক্ষেপ নেয় কিনা — তা নির্ধারিত হবে ভোটের পরে। তবে ৯ এপ্রিলের আগেই এই বিতর্কটি আসামের নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে, এবং আদালতে পরবর্তী সাক্ষাতের অপেক্ষা করছেন উভয় পক্ষই।

রিনিকি ভূয়াঁ শর্মা পাসপোর্ট বিতর্কে পবন খেরার অভিযোগ নাকচ, ৪৮ ঘণ্টায় মানহানি মামলার ঘোষণা
Scroll to top