Read today's news --> Click here

আসাম কেরালা পুদুচেরিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন, পাঁচ রাজ্যের ফলাফল আসবে ৪ মে

৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ভারতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হল। আসামের ১২৬টি, কেরালার ১৪০টি এবং পুদুচেরির ৩০টি বিধানসভা আসনে কোটি কোটি ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন। আসাম কেরালা পুদুচেরিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্নের এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম নিউজ অন এয়ার। নির্বাচন কমিশন আগে থেকেই ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছিল — ফলে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা বাদ দিলে সামগ্রিকভাবে দিনটি শান্তিপূর্ণভাবেই কাটল। এই তিনটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে গণনার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে ৪ মে।

তিন রাজ্যে ভোটার উপস্থিতি: একনজরে

বিকেল ৫টা পর্যন্ত তিনটি রাজ্যে ভোটার উপস্থিতির চিত্র ছিল এইরকম: আসামে ৮৪.৪২ শতাংশ, কেরালায় ৭৫.০১ শতাংশ এবং পুদুচেরিতে ৮৬.৯২ শতাংশ। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন এবং সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম নিউজ অন এয়ার।

আসামে জেলাওয়ারি হিসাবে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি ছিল সাউথ সালমারা-মানকাচর জেলায় — ৯৪.০৮ শতাংশ। এই বাংলাভাষী সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাটি সবসময়ই উচ্চ ভোটার উপস্থিতির জন্য পরিচিত। কেরালায় সর্বোচ্চ ছিল কোঝিকোড় জেলায় — ৭৭.৬৩ শতাংশ। পুদুচেরির ক্ষেত্রে জেলাওয়ারি তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া না গেলেও সামগ্রিক ৮৬.৯২ শতাংশ উপস্থিতি একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের চিত্র তুলে ধরে।

আসামে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চূড়ান্ত ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮২.০৪ শতাংশ। এবার বিকেল ৫টার মধ্যেই ৮৪.৪২ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়া মানে চূড়ান্ত হিসাবে সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ২০২১ সালের তুলনায় এবার একক দফায় ভোট হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ ও কৌতূহল দুটোই ছিল বেশি। একটি ঐতিহাসিক একক দফার নির্বাচনে এই উপস্থিতি আসামের গণতান্ত্রিক পরিপক্কতার পরিচয়।

উপনির্বাচনেও সক্রিয় ভোটাররা, পশ্চিমবঙ্গে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন

৯ এপ্রিল শুধু তিনটি বড় নির্বাচনেরই দিন ছিল না — একই দিনে বেশ কিছু উপনির্বাচনেও ভোটগ্রহণ হয়েছে। কর্ণাটকের বাগালকোট বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬৫.৬৮ শতাংশ এবং দাভানাগেরে সাউথে ৬৩.০৪ শতাংশ। নাগাল্যান্ডের মোকোকচুং জেলার কোরিডাং বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উপস্থিতি ছিল ৮০.৬২ শতাংশ এবং সেখানে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। ত্রিপুরার ধর্মনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে ৭৯.৮৪ শতাংশ উপস্থিতি রেকর্ড হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে ৯ এপ্রিল ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী দিন, তবে ভোটের জন্য নয়। এদিন ছিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার (১৫২টি আসন) মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং দ্বিতীয় দফার (১৪২টি আসন) মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ নির্ধারিত রয়েছে। সেখানেও গণনার তারিখ ৪ মে। বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন দাখিল করেছেন বলে জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা

ভারতের নির্বাচন কমিশন এই বহুমুখী নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিচালনায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল। আসামে ৩১,৪৮৬টি ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ বুথগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়। কেরালা ও পুদুচেরিতেও একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। নিউজ অন এয়ার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। বিচ্ছিন্ন কিছু হিংসার ঘটনা — যেমন ডিব্রুগড়ের খোয়াংয়ে BJP-AJP সংঘর্ষ এবং গোলাঘাটের মেরাপানিতে কংগ্রেস-BJP কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ — ঘটলেও সামগ্রিকভাবে আসামে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই সম্পন্ন হয়েছে।

হাইলাকান্দি লালা টাউনের প্রাসঙ্গিকতা

আসাম কেরালা পুদুচেরিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্নের এই সংবাদ হাইলাকান্দি জেলা ও লালা টাউনের পাঠকদের জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি জেলায় সকাল থেকে ভোটারদের দীর্ঘ সারি ছিল এবং সামগ্রিকভাবে উপত্যকায় ভোটদান শান্তিপূর্ণভাবেই হয়েছে। লালা টাউন ও আশপাশের এলাকার ভোটাররা ৮৪.৪২ শতাংশের এই রাজ্যব্যাপী উপস্থিতির হিসাবের অংশ। বরাক উপত্যকায় বাংলাভাষী ভোটারদের উচ্চ উপস্থিতির ঐতিহ্য রয়েছে — এবার সেই ধারা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিলছে।

পাঁচ রাজ্যের রায় আসবে মে ৯ এপ্রিলের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন দেশের নজর ৪ মে-র দিকে। আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ এবং পুদুচেরি — এই পাঁচটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একই দিনে গণনা হবে। এর মধ্যে আসামের ১২৬টি আসন, কেরালার ১৪০টি আসন ও পুদুচেরির ৩০টি আসনের ফলাফল প্রথমে ঘোষণা হবে — তারপর একে একে আসবে পশ্চিমবঙ্গের দুই দফার ও তামিলনাড়ুর ফলাফল। এই পাঁচটি রাজ্যের ফলাফল একদিনে বেরোনো মানে ৪ মে হবে ভারতীয় রাজনীতির একটি ঐতিহাসিক দিন — যেদিন একাধিক রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ একসঙ্গে নির্ধারিত হবে। লালাবাজার থেকে কেরালার থিরুবনন্তপুরম পর্যন্ত, সকলের অপেক্ষা সেদিনের জন্য।

আসাম কেরালা পুদুচেরিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন, পাঁচ রাজ্যের ফলাফল আসবে ৪ মে
Scroll to top