হাইলাকান্দি জেলা প্রশাসন সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর পঞ্চগ্রাম এলাকার ধলেশ্বর পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে প্রাক্তন বিধায়ক নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর দখলে থাকা সরকারি জমিতে নির্মিত একটি গেট ও সীমানা প্রাচীর ভেঙে দিয়েছে। বুলডোজার ব্যবহার করে এই স্থাপনাগুলি অপসারণ করা হয়, কারণ অভিযোগ ছিল যে ওই স্থানের সরকারি জমি দখল করে সেখানে নির্মাণকাজ করা হয়েছিল । নিজাম উদ্দিনের জমি উচ্ছেদ অভিযান সংক্রান্ত এই ঘটনা হাইলাকান্দি জেলার প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ, কারণ এতে একজন প্রাক্তন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও প্রাথমিক অভিযোগ
শনিবার পঞ্চগ্রামের ধলাই বা ধলেশ্বর জিরো পয়েন্টে সরকারি জমি দখলের অভিযোগে প্রাক্তন বিধায়ক নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর হাইলাকান্দির বিধায়ক ডঃ মিলন দাস প্রশাসনিক আধিকারিক ও পুলিশ কর্মীদের সাথে ওই স্থানে পরিদর্শনে যান । স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ধলেশ্বর পয়েন্টের একটি অংশে সরকারি জমি চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে অভিযোগ ছিল, এবং সেখানে তিনি পূর্বে একটি গোহাটা পরিচালনা করতেন, যা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি জমিতে পরিচালনার বিরুদ্ধে আপত্তির পর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ।
তবে পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে যে জমিটি এখনও ব্যবহার করা হচ্ছে। শনিবারের পরিদর্শনের সময় জমির মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে প্রাক্তন ও বর্তমান বিধায়কের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় বলে জানা গেছে, যা প্রশাসনিক আধিকারিকদের হস্তক্ষেপে শান্ত হয় ।
বিধায়ক মিলন দাসের কড়া বার্তা ও কাগজপত্র চাওয়ার দাবি
বিধায়ক ডঃ মিলন দাস প্রাক্তন বিধায়ক নিজাম উদ্দিন চৌধুরীকে সরাসরি জমির মালিকানার কাগজপত্র দেখাতে বলেন । আলোচনার সময় চৌধুরী স্বীকার করেন যে গোহাটার এলাকার একটি অংশে সরকারি জমি রয়েছে বলে জানা গেছে । এরপর প্রশাসন বিতর্কিত স্থানের একটি অংশ তালাবন্ধ করে দেয়।
বিধায়ক মিলন দাস স্পষ্টভাবে বলেন, সরকারি জমিকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা যায় না, এবং আইন অনুযায়ী দখলমুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন যে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে প্রয়োজনে এফআইআরও দায়ের করা হতে পারে, এবং জমির মালিকানা ও ব্যবহার সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারি রেকর্ড ও চলমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে । তিনি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জমি খালি না করা হলে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন ।
সোমবারের উচ্ছেদ অভিযান ও এলাকায় উত্তেজনা
শনিবারের হস্তক্ষেপের পর জমি থেকে দখল সরিয়ে নেওয়া হলেও প্রশাসন সোমবার আবার ঘটনাস্থলে ফিরে আসে এবং অবশিষ্ট গেট ও সীমানা প্রাচীর অপসারণ করে । এই পদক্ষেপের ফলে ধলেশ্বর পয়েন্টে মানুষের ভিড় জমে যায় এবং এলাকায় বেশ কিছুটা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় । প্রশাসনের এই পদক্ষেপ সরকারি জমিতে অননুমোদিত দখল ও নির্মাণকাজ সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনা প্রমাণ করে যে হাইলাকান্দি জেলা প্রশাসন সরকারি জমি দখলের অভিযোগ ক্ষমতাশালী বা প্রাক্তন জনপ্রতিনিধির ক্ষেত্রেও একই কঠোরতার সাথে মোকাবিলা করছে। স্থানীয় রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এই ঘটনা যথেষ্ট আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, কারণ এতে বর্তমান ও প্রাক্তন বিধায়কের মধ্যে সরাসরি সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছে।
হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের জন্য এই ঘটনার তাৎপর্য
পঞ্চগ্রামে নিজাম উদ্দিনের জমি উচ্ছেদ অভিযান হাইলাকান্দি জেলার প্রশাসনিক সক্রিয়তার একটি স্পষ্ট দৃষ্টান্ত, যা লালা টাউন ও তার আশেপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। জেলার বিভিন্ন অংশে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে একটি জটিল সমস্যা হিসেবে থেকে গেছে, এবং এই ঘটনা প্রমাণ করে যে বর্তমান প্রশাসন এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
লালা টাউন এলাকাতেও যদি সরকারি জমি সংক্রান্ত একই ধরনের বিতর্ক থাকে, তবে পঞ্চগ্রামের এই ঘটনা একটি নজির স্থাপন করতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সরকারি জমি ও সাধারণ সম্পত্তির সীমানা সংক্রান্ত স্পষ্ট তথ্য থাকা এবং প্রয়োজনে প্রশাসনের সাথে সহযোগিতা করা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, বিশেষত যখন প্রশাসন এই ধরনের বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।
আগামী দিনে যা প্রত্যাশিত
নিজাম উদ্দিনের জমি উচ্ছেদ অভিযানের পর এখন প্রশ্ন থেকে যায় যে প্রাক্তন বিধায়ক এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন কিনা, এবং জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিতর্ক কীভাবে চূড়ান্তভাবে মীমাংসিত হবে। বিধায়ক মিলন দাসের আগের বিবৃতি অনুযায়ী প্রয়োজনে এফআইআর দায়েরের সম্ভাবনাও এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। হাইলাকান্দি জেলা প্রশাসন সরকারি জমি রক্ষার এই প্রচেষ্টা কীভাবে অব্যাহত রাখে এবং জেলার অন্যান্য অংশে অনুরূপ দখলের বিরুদ্ধেও একই কঠোরতা বজায় থাকে কিনা, তার দিকেই এখন নজর থাকবে সমগ্র হাইলাকান্দিবাসীর।