২৭ সেপ্টেম্বর, রবিবার দেশের সমস্ত সরকারি ব্যাংক এবং আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাংক স্বাভাবিকভাবে খোলা থাকবে, কারণ ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক কর্মচারীদের একটি তিন দিনের জাতীয় ধর্মঘটের প্রস্তাব রয়েছে। অর্থ মন্ত্রক এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেছে যে ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর সাপ্তাহিক ছুটির দিনের পরপরই এই ধর্মঘট শুরু হলে গ্রাহকদের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংকিং পরিষেবা বিঘ্নিত হতো, যা এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে । ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার ব্যাংক খোলা রাখার এই সিদ্ধান্ত গ্রাহকদের জন্য ধর্মঘট শুরুর আগে জরুরি ব্যাংকিং কাজ সম্পন্ন করার একটি বাড়তি সুযোগ তৈরি করেছে।
অর্থ মন্ত্রকের বিবৃতি ও সিদ্ধান্তের কারণ
অর্থ মন্ত্রক তাদের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলেছে, “জনসাধারণের প্রকৃত ব্যাংকিং প্রয়োজন যাতে দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে রবিবার সমস্ত সরকারি ব্যাংক এবং আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাংক স্বাভাবিকভাবে কাজ করবে” । সরকার এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ইউনিয়নগুলিকে প্রস্তাবিত ধর্মঘট পিছিয়ে দেওয়ার আবেদনও জানিয়েছে।
২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ব্যাংক বন্ধ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, কারণ ২৬ তারিখ চতুর্থ শনিবার এবং ২৭ তারিখ রবিবার এমনিতেই সাপ্তাহিক ছুটির দিন । এই দীর্ঘ বিরতি এড়াতেই সরকার রবিবার ব্যাংক খোলা রাখার এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে গ্রাহকরা অন্তত একদিনের জন্য শাখাভিত্তিক পরিষেবা ব্যবহার করতে পারেন।
ধর্মঘটের মূল দাবি ও ইউনিয়নের অবস্থান
ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়ন্স (ইউএফবিইউ) এর মূল দাবি হলো পাঁচ দিনের ব্যাংকিং সপ্তাহ কার্যকর করা, যার আওতায় প্রতিটি শনিবার ছুটির দিন হিসেবে গণ্য হবে । এই প্রস্তাব ২০২৪ সালের মার্চ মাসে সম্পাদিত বেতন সংশোধন চুক্তির অংশ হিসেবে সম্মত হয়েছিল, কিন্তু এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে ইউনিয়নগুলির অভিযোগ ।
ইউএফবিইউ আরও দাবি জানিয়েছে যে সরকারের পারফরম্যান্স-লিঙ্কড ইনসেনটিভ (পিএলআই) প্রকল্প দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সংশোধন বা প্রত্যাহার করা হোক, কারণ তাদের অভিযোগ এই প্রকল্প একতরফাভাবে ও বৈষম্যমূলকভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে । এছাড়া পেনশন হালনাগাদ, সকল অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর জন্য একটি অভিন্ন মহার্ঘ ভাতা সূত্র, এবং জাতীয় পেনশন ব্যবস্থার (এনপিএস) আওতায় থাকা কর্মীদের পুরাতন পেনশন স্কিমে (ওপিএস) ফিরে যাওয়ার সুযোগ প্রদানের দাবিও তোলা হয়েছে ।
সরকারের প্রতিক্রিয়া ও আলোচনার অগ্রগতি
অর্থ মন্ত্রক ব্যাংক কর্মচারীদের ধর্মঘট থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে যে পিএলআই প্রকল্প ইতিমধ্যে ইউনিয়নগুলির সাথে আলোচনার পর স্থগিত রাখা হয়েছে, এবং পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহের বাকি দাবিটি এখনও পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে । মন্ত্রক আরও জানিয়েছে যে ২০২৭ সালের নভেম্বরের মধ্যে সম্পাদিতব্য দ্বিপাক্ষিক চুক্তির জন্য আলোচনা শুরু হয়েছে, যার লক্ষ্য ব্যাংক কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা সময়মতো সংশোধন নিশ্চিত করা ।
তবে ডেপুটি চিফ লেবার কমিশনারের সাথে অনুষ্ঠিত সমঝোতা বৈঠক নিষ্পত্তিহীনভাবে শেষ হওয়ার পর ইউএফবিইউ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে পাঁচ দিনের ব্যাংকিং নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি না হলে ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হবে । আলোচনা ব্যর্থ হলে ২৬ অক্টোবর থেকে একটি অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ইউনিয়ন ফোরাম ।
আসাম ও বরাক উপত্যকার গ্রাহকদের জন্য প্রভাব
আসামের প্রধান আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাংক আসাম গ্রামীণ বিকাশ ব্যাংকের হাইলাকান্দি জেলায় একটি প্রতিষ্ঠিত শাখা রয়েছে, যা রাজ্য স্তরীয় ব্যাংকার্স কমিটির তথ্য অনুযায়ী ১৯৮২ সাল থেকে হাইলাকান্দিতে কার্যরত রয়েছে । ফলে ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার ব্যাংক খোলা রাখার এই সিদ্ধান্ত হাইলাকান্দি জেলা ও লালা টাউনের গ্রাহকদের জন্যও সরাসরি প্রযোজ্য হবে, কারণ আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাংকগুলিও এই নির্দেশের আওতায় রয়েছে।
লালা টাউনের বাসিন্দাদের জন্য এই তথ্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রান্তিক এলাকায় ডিজিটাল ব্যাংকিং পরিষেবার ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম, এবং অনেক গ্রাহক এখনও শাখাভিত্তিক পরিষেবার উপর নির্ভরশীল। যাদের জরুরি নগদ উত্তোলন, চেক জমা বা অন্য কোনো শাখাভিত্তিক কাজ রয়েছে, তাদের ২৭ সেপ্টেম্বরের এই বাড়তি সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের সম্ভাব্য বিঘ্নের আগেই প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে নেওয়া উচিত।
আগামী দিনে গ্রাহকদের জন্য পরামর্শ
ধর্মঘটের সময় শাখাভিত্তিক পরিষেবা ব্যাহত হলেও ডিজিটাল ব্যাংকিং পরিষেবা স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে, যার মাধ্যমে গ্রাহকরা নিয়মিত লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন । এসবিআই-এর মতো বড় ব্যাংকগুলি ইতিমধ্যে গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কাজ আগেভাগে সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছে। ধর্মঘট শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় কিনা এবং সরকার ও ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ নিয়ে কোনো সমঝোতা হয় কিনা, তার দিকেই এখন নজর থাকবে দেশের কোটি কোটি ব্যাংক গ্রাহকের, যার মধ্যে হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের বাসিন্দারাও অন্তর্ভুক্ত।