গুয়াহাটিতে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই গুয়াহাটি ভিসা আবেদন কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। কেন্দ্রটি পরিচালনা করছে বেসরকারি সংস্থা VFS Global, যারা বিভিন্ন দেশের সরকার ও দূতাবাসের হয়ে ভিসা আবেদনের কাজ সামলায়। এখান থেকে ১৪টি দেশের ভিসার আবেদন করা যাবে। এতদিন এ জন্য আবেদনকারীদের অন্য রাজ্যের বড় শহরে যেতে হত।
কেন্দ্রের অবস্থান ও পরিষেবা
কেন্দ্রটি গুয়াহাটির খানাপাড়ার আইএসবিটি এলাকায় অবস্থিত। এর আয়তন প্রায় ৩,২০০ বর্গফুট। অসম, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা ও সিকিমের আবেদনকারীরা এখানে আবেদন জমা দিতে পারবেন।
পরিষেবা পাওয়া যাবে এই ১৪টি দেশের জন্য: অস্ট্রিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, মিশর, এস্তোনিয়া, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জাপান, লাতভিয়া, মাল্টা, মরক্কো, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্য। মাল্টার ক্ষেত্রে শুধু ডি-ভিসার আবেদন নেওয়া হবে। এই কেন্দ্র শেনজেন ভিসার আবেদনও গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে। ফলে যোগ্য ভ্রমণকারীরা শেনজেন চুক্তির আওতাভুক্ত ২৯টি ইউরোপীয় দেশে যাওয়ার আবেদন এখান থেকেই করতে পারবেন।
মুখ্যমন্ত্রী কী বললেন
অনুষ্ঠানে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, এই কেন্দ্র বিদেশযাত্রাকে উত্তর-পূর্বের মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করবে। দূরের শহরে যাতায়াতের খরচ ও ঝামেলা অনেক আবেদনকারী এড়াতে পারবেন। তিনি বলেন, “এই কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদনকারীরা বাড়ির কাছেই এই পরিষেবা পাবেন।”
মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এর উপযোগিতা শুধু গুয়াহাটির জন্য নয়। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা চাওয়া পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও বিদেশভ্রমণের পরিকল্পনা করা পরিবার—সবাই এর সুবিধা পাবেন। উদ্বোধনে পর্যটনমন্ত্রী অজন্তা নেওগ ও পরিবহনমন্ত্রী চরণ বোড়োও উপস্থিত ছিলেন। VFS Global-এর দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তাও ছিলেন। তাঁর নাম ও পদবি দুই সংবাদমাধ্যমে ভিন্নভাবে লেখা হয়েছে, তাই এখানে উল্লেখ করা হল না।
আবেদনকারীদের জন্য জরুরি কথা
কেন্দ্র শুধু আবেদন-প্রক্রিয়া সহজ করবে। ভিসা দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার ও দূতাবাসের। মুখ্যমন্ত্রীও এটি স্পষ্ট করেছেন বলে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে। প্রতিদিন টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপয়েন্টমেন্ট, প্রয়োজনীয় নথি ও সার্ভিস চার্জের তথ্য অনুমোদিত পরিষেবাদাতার মাধ্যমে পাওয়া যাবে। এসব বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট অঙ্ক এখনও সূত্রগুলিতে পাওয়া যায়নি।
তাই আবেদনের আগে VFS Global-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সংশ্লিষ্ট দেশের নির্দেশিকা দেখে নেওয়া ভালো। অনুমোদন ছাড়া অন্য কারও মাধ্যমে ভিসার আবেদন না করাই নিরাপদ। অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও ফি-র তথ্য শুধু অফিসিয়াল পোর্টাল থেকে নিন।
প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা
২০২৫ সালের নভেম্বরে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছিলেন, VFS Global নীতিগতভাবে গুয়াহাটিতে ৬০টিরও বেশি দেশের জন্য ভিসা সুবিধা কেন্দ্র গড়তে সম্মত হয়েছে। সেই সময় দেশের নাম ও চালুর সময়সূচি জানানো হয়নি। উদ্বোধনের সময় ১৪টি দেশের পরিষেবা চালু হয়েছে। ৬০-র বেশি দেশের প্রতিশ্রুতি ভবিষ্যতে কীভাবে পূরণ হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
লালা টাউন ও বরাক উপত্যকার জন্য
বরাক উপত্যকার, বিশেষ করে লালা টাউন ও হাইলাকান্দির বাসিন্দারা উত্তর-পূর্বের আট রাজ্যের আওতাভুক্ত এই কেন্দ্রের সুবিধা পাবেন। এই পরিষেবার জন্য হাইলাকান্দি বা বরাকের আলাদা কোনও কেন্দ্র বা ব্যবস্থা ঘোষণা হয়নি। যাঁরা বিদেশে পড়াশোনা, কাজ বা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য আগে ভিসা-সংক্রান্ত বায়োমেট্রিক জমা দিতে দিল্লি বা মুম্বই যাওয়ার প্রয়োজন হত। সেন্টিনেল আসামও লিখেছে, এখন গুয়াহাটিতেই তা সম্ভব হবে।
তবে গুয়াহাটি যাতায়াতের খরচ ও সময় আলাদা বিবেচনার বিষয়। আবেদনকারীদের উচিত নিজেদের গন্তব্য দেশ কেন্দ্রের তালিকায় আছে কি না, তা আগে যাচাই করা। তালিকায় না থাকা দেশের ভিসার জন্য আগের মতোই অন্য কেন্দ্রে যেতে হবে।
সামনে কী দেখার
এখন নজর থাকবে কেন্দ্রে কত আবেদন জমা পড়ছে এবং আরও দেশ যুক্ত হচ্ছে কি না। অ্যাপয়েন্টমেন্টের চাপ, সার্ভিস চার্জ ও আবেদন-নিষ্পত্তির সময় নিয়ে আবেদনকারীদের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ হবে। গুয়াহাটি ভিসা আবেদন কেন্দ্র উত্তর-পূর্বের মানুষের ভ্রমণ ও শিক্ষার সুযোগ সহজ করবে, এমন প্রত্যাশা সরকারের। বাস্তবে তা কতটা কার্যকর, সেটি বোঝা যাবে আগামী কয়েক মাসের পরিষেবার মানে।