Read today's news --> ⚡️Click here 

মণিপুর রকেট হামলায় নিহত দুই শিশু, মৈরাংয়ে আহত মায়ের পাশে মুখ্যমন্ত্রী খেমচাঁদ

৭ এপ্রিল, মঙ্গলবার, মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ (Yumnam Khemchand) ইম্ফলের রাজ মেডিসিটি (Raj Medicity) হাসপাতালে গিয়ে এক শোকসন্তপ্ত ও আহত মায়ের সঙ্গে দেখা করেন। এই নারী ৭ এপ্রিল ভোরে মৈরাংয়ের (Moirang) ত্রংলাওবি (Tronglaobi) এলাকায় হওয়া এক ভয়াবহ মণিপুর রকেট হামলায় নিহত শিশু দুজনের মা। India Today NE এবং The Federal-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোররাত প্রায় ১:০৫ মিনিটে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের ছোঁড়া একটি শক্তিশালী বোমা সরাসরি তাঁদের বাড়িতে আঘাত হানে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই ওই নারীর পাঁচ বছরের ছেলে এবং ছয় মাস বয়সী কন্যাসন্তানের মৃত্যু হয় এবং তিনি নিজে গুরুতর আহত হন।thefederal+1

মুখ্যমন্ত্রী খেমচাঁদ হাসপাতালে আহত নারীর চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যাতে তাঁকে সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন মণিপুর দীর্ঘদিনের জাতিগত সহিংসতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিল।

মৈরাং ত্রংলাওবি হামলা: গভীর রাতে নারকীয় তাণ্ডব

মৈরাং ত্রংলাওবি হামলা মণিপুরের সাম্প্রতিকতম এবং অন্যতম নৃশংস ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। Republic TV এবং India Today-এর তথ্য অনুযায়ী, ত্রংলাওবি গ্রামটি বিষ্ণুপুর (Bishnupur) জেলার পাহাড়ি এবং উপত্যকা সীমানার কাছাকাছি অবস্থিত, যার অপর পাশে রয়েছে কুকি-অধ্যুষিত চূড়াচাঁদপুর (Churachandpur) জেলা। স্থানীয়দের দাবি, সন্দেহভাজন কুকি জঙ্গিরা প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরের কোনো পাহাড়ি ঢাল থেকে এই প্রজেক্টাইল বা রকেটটি নিক্ষেপ করেছিল।

মা ও দুই শিশু যখন নিজেদের বেডরুমে ঘুমাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই বোমাটি তাঁদের বাড়িতে বিস্ফোরিত হয়। এই বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বাড়িটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং গোটা গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা মৈরাং থানার (Moirang Police Station) সামনে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন এবং অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বিক্ষুব্ধ জনতা একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে দুটি তেলের ট্যাঙ্কার ও একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পুলিশের একটি অস্থায়ী চৌকি ভাঙচুর করে।

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা: “বর্বর কাজ সহ্য করা হবে না”

মণিপুর মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই ঘটনাকে “বর্বর কাজ” এবং “মানবতার ওপর সরাসরি আক্রমণ” বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যাঁরা এই ঘটনার জন্য দায়ী, তাঁদের খুঁজে বের করা হবে এবং আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। কোনো অবস্থাতেই এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন যে, এই হামলা রাজ্যে কষ্টে অর্জিত শান্তি বিঘ্নিত করার একটি অপচেষ্টা। তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। ঘটনার পর থেকে পুরো বিষ্ণুপুর জেলা, বিশেষ করে পাহাড়ি সীমানা বরাবর, নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

আসাম বরাক উপত্যকায় এর প্রাসঙ্গিকতা

মণিপুরের এই জাতিগত সংঘাত এবং বিষ্ণুপুর জেলা সহিংসতা আসামের বরাক উপত্যকা (Barak Valley), বিশেষ করে হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের মানুষের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। বরাক উপত্যকার সঙ্গে মণিপুরের ভৌগোলিক নৈকট্য এবং জিরিবাম (Jiribam) হয়ে সরাসরি যোগাযোগের কারণে, মণিপুরের যেকোনো অস্থিরতা আসামের সীমান্ত জেলাগুলোতে প্রভাব ফেলে। এর আগে মণিপুরের সহিংসতার কারণে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে কাছাড় ও হাইলাকান্দিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

লালা বাজারের সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, নির্বাচন এবং রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে প্রতিবেশী রাজ্যে এই ধরনের রকেট হামলার ঘটনা সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত শিশুদের ওপর এই নৃশংস হামলা প্রমাণ করে যে, মণিপুরের পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে আরও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আপাতত, আহত মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, আর গোটা মৈরাং জুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

মণিপুর রকেট হামলায় নিহত দুই শিশু, মৈরাংয়ে আহত মায়ের পাশে মুখ্যমন্ত্রী খেমচাঁদ
Scroll to top