Read today's news --> ⚡️Click here 

আত্মনির্ভর অসম অভিযানে আরও ৫০ হাজার যুবক-যুবতী, আবেদন ১ জানুয়ারি

অসম সরকার মুখ্যমন্ত্রীর আত্মনির্ভর অসম অভিযানের আওতায় আরও ৫০ হাজার যুবক-যুবতীকে উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ দেবে। ২৬ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এই ঘোষণা করেন। আবেদনের অনলাইন পোর্টাল খুলবে ১ জানুয়ারি। তবে নতুন ধাপে সহায়তার অঙ্ক কত হবে এবং ঠিক কী শর্ত থাকবে, তা এখনও প্রকাশিত হয়নি।

ঘোষণায় কী আছে

যুবসমাজের স্বপ্ন, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধি আসবে বলে সরকার আশা করছে। সরকার একে স্বনির্ভরতা ও স্বনিযুক্তি বাড়ানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

যুবক ও যুবতী, উভয়ের জন্য সুযোগ

অসম সরকারের অফিশিয়াল স্কিম পেজে বলা হয়েছে, নতুন উদ্যোগ গড়ে কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে “যোগ্য যুবকদের” আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আগের ধাপের জন্য প্রকাশিত যোগ্যতার তালিকায় ছেলে ও মেয়ের মধ্যে কোনও ভেদাভেদের উল্লেখ নেই। আগের ধাপে নিবন্ধনকারীদের মধ্যে পুরুষ ও মহিলা, দুই শ্রেণির আবেদনকারীই ছিলেন বলে একটি পরীক্ষামূলক পোর্টালের ড্যাশবোর্ডে দেখা যায়।

তবে নতুন ৫০ হাজারের ধাপের বিস্তারিত নির্দেশিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি। তাই এই ধাপেও একই নিয়ম থাকবে কি না, তা পোর্টাল খোলার পর অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি দেখে নিশ্চিত হতে হবে।

আগের ধাপে কী হয়েছে

প্রকল্পটি নতুন নয়। নেশন প্রেসের ১৭ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী গুয়াহাটিতে ৮২,২১৯ জন তরুণ উদ্যোক্তাকে ২৭৮ কোটি টাকারও বেশি বিতরণ করেন। দ্বিতীয় ধাপে ৭২,৪৪৭ জন সাধারণ ও ১৯৪ জন পেশাদার শ্রেণির উদ্যোক্তার জন্য ১৮২ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ ছিল। অনেক উপকারভোগী আগে প্রথম কিস্তিতে ৭৫ হাজার এবং পরে ২৫ হাজার টাকা পেয়েছিলেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।

২০২৩ সালে প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপ চালুর সময় এএনআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রতিজন উপকারভোগী দু’লক্ষ টাকা পাবেন। এর এক লক্ষ সরকারি অনুদান, আর বাকি এক লক্ষ পাঁচ বছর ব্যবসা চালানোর পর সুদ ছাড়া ফেরত দিতে হবে। এটি পুরনো ধাপের শর্ত। নতুন ধাপে একই অঙ্ক বা পদ্ধতি থাকবে কি না, সরকার জানায়নি।

আবেদনের আগে কী প্রস্তুত রাখবেন

আবেদন অনলাইনে করতে হবে অফিশিয়াল পোর্টাল cmaaa.assam.gov.in-এর মাধ্যমে। পোর্টালের বিবরণ অনুযায়ী, আগে নিবন্ধন করে তারপর “Apply for Scheme” অপশনে তথ্য ও নথি জমা দিতে হয়।

আগের ধাপে আবেদনকারীর শর্ত ছিল অসমের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া, ১ এপ্রিল ২০২৪ অনুযায়ী বয়স ২৮ থেকে ৪৫ বছর এবং ন্যূনতম দশম শ্রেণি পাস। এছাড়া কর্মবিনিময় কেন্দ্রে বৈধ নিবন্ধন থাকতে হত এবং আবেদনকারী প্রথম ধাপের উপকারভোগী হতে পারতেন না। এগুলি পুরনো ধাপের নিয়ম, নতুন ধাপের শর্ত নয়।

নথি আগে থেকে তৈরি রাখা ভালো। যেমন আধার, ঠিকানার প্রমাণ, শিক্ষাগত সনদ ও ব্যাংক পাসবইয়ের প্রথম পাতা। নতুন ধাপে কোন নথি লাগবে, তা পোর্টাল খোলার পরই নিশ্চিত হবে। আবেদনের নামে কেউ টাকা চাইলে সতর্ক থাকুন এবং শুধু অফিশিয়াল পোর্টালে আবেদন করুন।

লালা ও হাইলাকান্দির জন্য

এই ঘোষণা সারা অসমের জন্য। হাইলাকান্দি বা লালা টাউনের জন্য আলাদা কোনও বরাদ্দ বা সময়সূচি সূত্রগুলিতে নেই। শর্ত পূরণ করলে এখানকার যুবক-যুবতীরাও অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। ছোট ব্যবসা, পরিষেবা বা স্বনিযুক্তির পরিকল্পনা যাঁদের আছে, তাঁরা এখন থেকেই প্রকল্প-প্রতিবেদন ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য গুছিয়ে রাখতে পারেন।

সামনে কী দেখার

১ জানুয়ারির আগে সরকার পূর্ণ নির্দেশিকা প্রকাশ করবে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। সহায়তার অঙ্ক, বয়সসীমা এবং নির্বাচন পদ্ধতি স্পষ্ট হলে আগ্রহীরা ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারবেন। আত্মনির্ভর অসম অভিযান আগে হাজার হাজার তরুণকে সহায়তা দিয়েছে, তাই নতুন ধাপে স্বচ্ছ বাছাই ও সময়মতো অর্থ প্রদান জরুরি। সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও পোর্টালের হালনাগাদ তথ্যই এ বিষয়ে চূড়ান্ত ভরসা।

আত্মনির্ভর অসম অভিযানে আরও ৫০ হাজার যুবক-যুবতী, আবেদন ১ জানুয়ারি
Scroll to top