
ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ বা পুবমুখী কর্মনীতির ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসামের শিলচরে ২৩,৫৫০ কোটি টাকার বিশাল পরিকাঠামো ও শিক্ষামূলক প্রকল্পের সূচনা করেছেন । এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বরাক উপত্যকাকে ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগকারী এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে গড়ে তোলা ।
শিলচরের অম্বিকাপুরে আয়োজিত ‘ভূমিপূজন’ বা শিলান্যাস অনুষ্ঠানে এই বিপুল উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি হিসেবে শিলচর-শিলং হাই-স্পিড করিডোরের কাজ শুরু করা হয়, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম নিয়ন্ত্রিত-প্রবেশ (অ্যাক্সেস-কন্ট্রোলড) এক্সপ্রেসওয়ে হতে চলেছে । প্রায় ২২,৮৬০ কোটি থেকে ২২,৮৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কটি আসাম ও মেঘালয়ের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনবে । এর ফলে গুয়াহাটি এবং শিলচরের মধ্যে ভ্রমণের সময় সাড়ে আট ঘণ্টা থেকে কমে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা হবে, যা এই অঞ্চলে দ্রুত অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং সীমান্ত-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটাবে ।
এই বৃহৎ এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত উদ্যোগের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন । শিলচর শহরের অন্যতম ব্যস্ত রাস্তার যানজট কমাতে প্রায় ৫৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০৬ নং জাতীয় সড়কে ক্যাপিটাল পয়েন্টের কাছের ট্রাঙ্ক রোড থেকে রাঙ্গিরখাড়ি পয়েন্ট পর্যন্ত একটি এলিভেটেড করিডোর বা উড়ালপুল (প্রথম পর্যায়) নির্মাণ করা হবে । এই উড়ালপুলটি ত্রিপুরা, মণিপুর এবং মিজোরামের মতো প্রতিবেশী রাজ্যগুলির সাথে যোগাযোগ আরও সুগম করবে এবং বরাক উপত্যকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সাহায্য করবে । এর পাশাপাশি, করিমগঞ্জ জেলার পাথারকান্দিতে ১২২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নতুন কৃষি মহাবিদ্যালয় স্থাপন করা হবে, যা স্থানীয় ছাত্রছাত্রীদের বাড়ির কাছাকাছি উন্নতমানের কৃষি গবেষণা ও শিক্ষার সুযোগ করে দেবে ।
শিলচরের বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী পূর্বতন কংগ্রেস সরকারগুলির তীব্র সমালোচনা করেন । তিনি অভিযোগ করেন যে, স্বাধীনতার পর দশকের পর দশক ধরে চলা কংগ্রেসের ভুল সিদ্ধান্ত ও অবহেলার কারণেই বরাক উপত্যকা তার একসময়ের সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে থাকা কৌশলগত সুবিধা হারিয়েছিল । আঞ্চলিক উন্নয়নের পাশাপাশি তিনি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন । প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনতাকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে সৃষ্ট প্রভাব থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে এবং নাগরিকদের কষ্ট ন্যূনতম রাখতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার সবরকমের সম্ভাব্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ।