হাইলাকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রে ৪ মে ২০২৬ ভোট গণনার পর একটি আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল — যা দেখে চোখ ভিজে গিয়েছিল অনেক সমর্থকের। ডক্টর মিলন দাস হাইলাকান্দি বিজয়ে আবেগ ছড়িয়ে পড়েছিল লালা থেকে শুরু করে গোটা হাইলাকান্দি জেলায়। BJP প্রার্থী ডক্টর মিলন দাস মোট ১,১৯,৫৯১টি ভোট পেয়ে কংগ্রেসের রাহুল রয়কে ৫৫,৮১৭ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন — যা হাইলাকান্দির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি রেকর্ড জয়।
২০২১-এর পরাজয় থেকে ২০২৬-এর ঐতিহাসিক জয়
ডক্টর মিলন দাস হাইলাকান্দি বিজয়ের আবেগটি বুঝতে হলে পাঁচ বছর আগের ছবিটিও মনে রাখা দরকার। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মিলন দাস এই একই আসন থেকে BJP প্রার্থী হয়েছিলেন। তখন তিনি পেয়েছিলেন ৪৭,৩০৩ ভোট — কিন্তু AIUDF প্রার্থী জাকির হোসেন লস্করের কাছে ২৩,৭৫৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। সেই পরাজয়ের বেদনা বুকে নিয়ে পাঁচ বছর তিনি মাঠে ছিলেন। এবার কেবল জেতেননি — জিতেছেন রেকর্ড ভোটে। ২০২১ সালে যেখানে পরাজয়ের ব্যবধান ছিল ২৩ হাজার, সেখানে ২০২৬-এ জয়ের ব্যবধান হলো ৫৫ হাজারেরও বেশি। এই পার্থক্যটাই তাঁর সমর্থকদের আবেগকে এতটা গভীর করে তুলেছিল।
১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে মিলন দাসের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের রাহুল রয় ৬৩,৭৭৪ ভোট পেয়েছেন। NOTA পেয়েছে ১,৭০৮ ভোট এবং বাকি সব প্রার্থী মিলিয়ে মাত্র কয়েক হাজার ভোট পেয়েছেন — যার অর্থ কেন্দ্রের ভোটারদের বিশাল অংশ BJP-কেই তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
একজন তৃণমূলস্তরের নেতার উঠে আসার গল্প
ডক্টর মিলন দাস হাইলাকান্দি বিজয় কেবল একটি নির্বাচনী ফলাফল নয় — এটি একজন মানুষের দীর্ঘ লড়াইয়ের স্বীকৃতি। তিনি অসম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের প্রাক্তন সভাপতি। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে BJP-র মনোনয়ন পাওয়া পর্যন্ত তাঁর যাত্রা সহজ ছিল না। প্রচারকালে তাঁর কাছে মাত্র ২০ হাজার টাকা ছিল এবং জনগণই তাঁকে প্রচারের জন্য সহায়তা করেছিলেন — এটি তাঁকে “দুঃখী প্রার্থী” হিসেবে পরিচিত করেছিল। কিন্তু সেই সাধারণ মানুষের কাছের প্রার্থীটিই শেষ পর্যন্ত রেকর্ড জয় পেয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারকালে ডক্টর মিলন দাস প্রতিটি সভায় মাটিতে নত হয়ে ভোটারদের প্রণাম করতেন এবং হাইলাকান্দির আনাচে কানাচে, চা বাগান থেকে শুরু করে দূরের গ্রাম পর্যন্ত, সর্বত্র প্রচার চালিয়েছিলেন। ২০২৬ নির্বাচনে তাঁর প্রার্থিতা ঘোষণার সাথে সাথে হাজার হাজার সমর্থক রাতেই লক্ষীনগর বাইপাস থেকে বিশাল বাইক র্যালি বের করেন — সেই উত্তেজনাই ইঙ্গিত দিয়েছিল এবারের ফলাফল কেমন হতে পারে।
লালা শহর ও হাইলাকান্দির প্রত্যাশা নতুন বিধায়কের কাছে
ডক্টর মিলন দাস হাইলাকান্দি বিজয়ের পর লালা শহর সহ গোটা হাইলাকান্দি জেলার মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন — এবার কী পরিবর্তন আসবে? হাইলাকান্দি জেলা দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামো সংকটে ভুগছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক যোগাযোগ এবং কর্মসংস্থান — প্রতিটি ক্ষেত্রে জেলাটি পিছিয়ে আছে। লালা শহরের মানুষ চান উন্নত রাস্তাঘাট, PHC-তে পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসক, এবং স্কুল-কলেজে মানসম্পন্ন শিক্ষার সুবিধা।
মিলন দাস প্রচার থেকেই উন্নয়নের কথা বলে এসেছেন। তিনি বলেছিলেন, “বিজেপি সরকারের আমলে যে উন্নয়ন হয়েছে তা মানুষের দুয়ারে দুয়ারে নিয়ে যাব।” এখন বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দেওয়ার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। ৫৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জেতা মানে এই কেন্দ্রের বিশাল অংশ তাঁর উপর ভরসা রেখেছেন। সেই ভরসার প্রতিদান দিতে পারলেই হাইলাকান্দির এই ঐতিহাসিক জয় সত্যিকার অর্থে অর্থবহ হয়ে উঠবে।