Read today's news --> ⚡️Click here 

বরাক উপত্যকায় ভোটার উপস্থিতিতে শ্রীভূমি এগিয়ে, হাইলাকান্দি পিছিয়ে — দুপুর ১টায় আসামে ৫৯.৬৩%

৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার আসাম বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালীন বরাক উপত্যকার তিনটি জেলায় ভোটার উপস্থিতির একটি স্পষ্ট তুলনামূলক চিত্র সামনে এসেছে। বরাক উপত্যকায় ভোটার উপস্থিতির দিক থেকে শ্রীভূমি জেলা (পূর্বতন করিমগঞ্জ) এগিয়ে রয়েছে, আর হাইলাকান্দি জেলা তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। দুপুর ১টা পর্যন্ত শ্রীভূমিতে ভোটদানের হার ছিল ৫৮.৬০ শতাংশ। একই সময়ে সারা আসামে ভোটার উপস্থিতি দাঁড়িয়েছিল ৫৯.৬৩ শতাংশে। হাইলাকান্দি জেলায় বিকেলের দিকে ভোটদানের গতি বাড়লেও দিনের প্রথমার্ধে সেখানে উপস্থিতির হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

সংখ্যায় বরাক উপত্যকা: শ্রীভূমি এগিয়ে, হাইলাকান্দি পিছিয়ে

বরাক উপত্যকার তিনটি জেলার মধ্যে শ্রীভূমিতে ভোটদানের প্রবণতা সকাল থেকেই ভালো ছিল। দুপুর ১টা পর্যন্ত শ্রীভূমি জেলায় ৫৮.৬০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে হাইলাকান্দিতে একই সময় পর্যন্ত ভোটদানের হার আসামের গড় ও শ্রীভূমির তুলনায় কম ছিল। বিকেল ৩টার পর থেকে সেখানে ভোটদানের গতি বাড়তে শুরু করে এবং দিনের শেষ দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়।

সারাদিনের হিসাবে আসাম বিধানসভা নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা গেছে। সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর প্রথম দুই ঘণ্টায় সারা আসামে ১৭.৮৭ শতাংশ ভোট পড়েছিল। সকাল ১১টায় সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮.৯২ শতাংশে। দুপুর ১টায় পৌঁছায় ৫৯.৬৩ শতাংশে। এই ধাপে ধাপে ভোটদানের ক্রমবৃদ্ধি দেখায় যে ভোটাররা সারাদিন ধরে সক্রিয়ভাবে বুথে এসেছেন। বরাক উপত্যকায় এই সামগ্রিক চিত্রের মধ্যে শ্রীভূমির তুলনায় হাইলাকান্দির পিছিয়ে থাকাটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

শ্রীভূমিতে ভালো উপস্থিতির পেছনে কী কারণ

শ্রীভূমি জেলা ২০২৪ সালে পূর্বতন করিমগঞ্জ জেলা থেকে আলাদা হয়ে স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই নতুন পরিচয় এবং নতুন জেলার প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার উৎসাহ স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে একটি বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। এই উৎসাহের পাশাপাশি শ্রীভূমির রাজনৈতিক পরিবেশও বেশ প্রতিযোগিতামূলক — একাধিক আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভোটারদের বুথমুখী করেছে।

করিমগঞ্জ সাউথ আসনে ২০২১ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী ৮৮,৯০৯ ভোট পেয়ে ২১.৭ শতাংশ ব্যবধানে জিতেছিলেন — অর্থাৎ এই এলাকায় ভোটার অংশগ্রহণ ঐতিহাসিকভাবেই বেশি। এবারও নির্বাচনী প্রচারকালে বরাক উপত্যকায় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ও আঞ্চলিক পরিচয়ের প্রশ্ন ঘুরেফিরে আলোচনায় উঠেছে — যা শ্রীভূমির ভোটারদের সক্রিয় রাখতে ভূমিকা রেখেছে।

হাইলাকান্দিতে ভোটদান পিছিয়ে: সম্ভাব্য কারণ

হাইলাকান্দি জেলায় দিনের প্রথমার্ধে ভোটদানের হার তুলনামূলকভাবে কম থাকার পেছনে কয়েকটি বাস্তব কারণ রয়েছে। প্রথমত, হাইলাকান্দি একটি প্রত্যন্ত ও ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন জেলা — বহু গ্রামীণ এলাকায় রাস্তার অবস্থা খারাপ এবং ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো সহজ নয়। ২০২৫ সালে হাইলাকান্দির একাধিক এলাকার বাসিন্দারা রাস্তার অভাবে পঞ্চায়েত নির্বাচন বয়কটের হুমকি দিয়েছিলেন — সেই বাস্তবতা এখনও পুরোপুরি বদলায়নি। দ্বিতীয়ত, জেলায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক মেরুকরণ কখনো কখনো ভোটদানে নিষ্ক্রিয়তা তৈরি করে।

তৃতীয়ত, ২০২১ সালের হাইলাকান্দি কেন্দ্রের নির্বাচনী ইতিহাস বলছে, একটি বিশেষ প্রার্থী ৭১,০৫৭ ভোট পেয়ে ২৩,৭৫৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন — ফলে এই আসনে একপক্ষীয় আধিপত্যের ধারণা কিছু ভোটারের মধ্যে নিষ্ক্রিয়তা তৈরি করতে পারে। তবে বিকেলের পর ভোটদানের গতি বাড়ার ফলে চূড়ান্ত পরিসংখ্যানে হাইলাকান্দির অবস্থান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

লালা লালাবাজারে ভোটদানের স্থানীয় চিত্র

হাইলাকান্দি জেলার অন্তর্গত লালা বিধানসভা কেন্দ্রেও সামগ্রিক জেলার চিত্রটি প্রতিফলিত হয়েছে। লালা টাউন ও লালাবাজারে বিকেলের আগে পর্যন্ত ভোটদানের গতি কিছুটা ধীর ছিল — তবে বিকেলে ভোটাররা বুথমুখী হলে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। এই এলাকার ভোটারদের কাছে বড় বিষয় ছিল স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব। লালাবাজার এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়ন, পাকা রাস্তার দাবি এবং কর্মসংস্থানের প্রশ্ন ভোটের দিনও মানুষের মুখে মুখে ঘুরছিল। এই প্রেক্ষাপটে দিনশেষে ভোটদানের হার যদি প্রত্যাশার তুলনায় কম থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠবে — মানুষের হতাশা কি বুথমুখী না হওয়ার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, নাকি দেরিতে হলেও তাঁরা ভোট দিয়েছেন?

মে-দিকে চোখ: বরাক উপত্যকার রাজনৈতিক হিসাব

বরাক উপত্যকায় শ্রীভূমি ও হাইলাকান্দির মধ্যে ভোটার উপস্থিতির এই তারতম্য শুধু একটি পরিসংখ্যানগত পার্থক্য নয় — এটি দুটি জেলার রাজনৈতিক তাপমাত্রার পার্থক্যও নির্দেশ করে। যেখানে প্রতিযোগিতা বেশি, সেখানে ভোটার বেশি সক্রিয় — এই সাধারণ সত্যটি বরাক উপত্যকার এবারের ভোটচিত্রেও স্পষ্ট। ৪ মে গণনার দিনে একটি একটি করে কেন্দ্রের ফলাফল বেরোলে বোঝা যাবে হাইলাকান্দির কম ভোটার উপস্থিতি কার অনুকূলে গেছে — আর শ্রীভূমির বেশি ভোটার উপস্থিতি কোন দলকে লাভবান করেছে। সেই দিন পর্যন্ত বরাক উপত্যকার রাজনৈতিক অঙ্কের হিসাব চলতেই থাকবে।

বরাক উপত্যকায় ভোটার উপস্থিতিতে শ্রীভূমি এগিয়ে, হাইলাকান্দি পিছিয়ে — দুপুর ১টায় আসামে ৫৯.৬৩%
Scroll to top