Read today's news --> ⚡️Click here 

মনাছড়া স্টেশনে ট্রেন দুর্ঘটনায় ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

হাইলাকান্দি জেলার মনাছড়া রেলওয়ে স্টেশনের পাশে বৃহস্পতিবার ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে মনাছড়া হাই স্কুলের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা অনুযায়ী, সাইরাং-কলকাতা ট্রেনটি যাওয়ার সময় মেয়েটি রেললাইনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল, আর সেই মুহূর্তেই মনাছড়া স্টেশনে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যুর এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, মেয়েটির পরিবারের বাড়ি আমলা এলাকায়, তবে সে পড়াশোনার সুবিধার জন্য মনাছড়ায় তার মামাবাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত।

দুর্ঘটনার বিবরণ স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য

স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে মনাছড়া রেলওয়ে স্টেশনের অদূরেই। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা অনুযায়ী, সাইরাং-কলকাতা ট্রেনটি ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রীটি রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটছিল, এবং সেই সময়েই দুর্ঘটনাক্রমে তার মৃত্যু হয়। এই বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি, তবে ঘটনার খবর দ্রুত এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমান।

মামার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করা মেয়েটির এই আকস্মিক মৃত্যু গোটা মনাছড়া এলাকা তথা তার পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমলা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে দূরে থেকে শিক্ষাগ্রহণ করা এই কিশোরীর মৃত্যুর খবরে তার সহপাঠী, শিক্ষক ও প্রতিবেশীরা গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন।

দু’দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু

মনাছড়া স্টেশনে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যুর এই ঘটনা এলাকার জন্য একেবারে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর ঠিক একদিন আগে বুধবার সকালে হাইলাকান্দি রেলস্টেশনে বৈরাবি-শিলচর প্যাসেঞ্জার ট্রেন থেকে নামার সময় পিছলে পড়ে মৃত্যু হয়েছিল ১৯ বছর বয়সী শহীদ আলম মজুমদারের, যিনি মনাছড়া এলাকার আয়নাখাল গ্রামের বাসিন্দা এবং হাইলাকান্দি পাবলিক স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন । ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রেনটি স্টেশনে ঢোকার সময় ধীরগতিতে চলছিল, আর সেই মুহূর্তেই মজুমদার নামার চেষ্টা করতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে চাকার নিচে পড়ে যান।

মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে একই মনাছড়া এলাকায় দুই শিক্ষার্থীর রেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর হাইলাকান্দি জেলা জুড়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। দুটি ঘটনার প্রকৃতি ভিন্ন হলেও—একটি স্টেশনে নামার সময়ের দুর্ঘটনা, অপরটি রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটার সময়ের দুর্ঘটনা—উভয় ক্ষেত্রেই মূল বিষয় একই থেকে যাচ্ছে: রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় পথচারী ও যাত্রীদের নিরাপত্তার অভাব।

রেললাইন পারাপার নিরাপত্তা নিয়ে জাতীয় পরিসংখ্যান

২০১৩-১৪ সালে দেশের মোট ট্রেন দুর্ঘটনার ৪৫ শতাংশ ছিল লেভেল ক্রসিং সংক্রান্ত, যা ২০২৪-২৫ সালে নেমে এসেছে মাত্র ৩ শতাংশে, এবং ব্রড গেজ নেটওয়ার্কে সব আনম্যানড লেভেল ক্রসিং ২০১৯ সালের মধ্যেই বিলুপ্ত করা হয়েছে । তবে একই বিশ্লেষণে উল্লেখ রয়েছে যে এনসিআরবি-র তথ্য অনুযায়ী ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এগারো বছরে দেশে ২২,৬৯৫টি রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং দুর্ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, এবং কিছু রাজ্য এখনও উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে । তবে এই পরিসংখ্যানগুলি মূলত আনুষ্ঠানিক লেভেল ক্রসিং সংক্রান্ত দুর্ঘটনার হিসাব দেয়, রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটাচলা করার সময় ঘটা দুর্ঘটনাগুলি প্রায়শই পৃথকভাবে নথিভুক্ত হয় না, যদিও গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় এই ধরনের দুর্ঘটনা নিয়মিতভাবেই ঘটে থাকে।

কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ সালে দেশে ১৩৫টি বড় ট্রেন দুর্ঘটনা রেকর্ড হয়েছিল, যা ২০২৫-২৬ সালে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৬টিতে । এই পরিসংখ্যান সামগ্রিক উন্নতির ইঙ্গিত দিলেও, মনাছড়ার মতো এলাকায় রেললাইন সংলগ্ন পথচারীদের নিরাপত্তা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে, বিশেষত যেখানে রেললাইন জনবসতির খুব কাছ দিয়ে চলে গেছে।

বরাক উপত্যকা লালা টাউনের জন্য সতর্কবার্তা

হাইলাকান্দি জেলা ও সংলগ্ন লালা টাউন অঞ্চলে বৈরাবি-শিলচর রেলপথ দিয়ে প্রতিদিন বহু যাত্রী ও শিক্ষার্থী যাতায়াত করে, এবং এই পথের ধারে অনেক বসতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। মনাছড়ার মতো লালা টাউন সংলগ্ন এলাকাতেও রেললাইনের পাশ দিয়ে চলাচলকারী মানুষের সংখ্যা কম নয়, এবং একই ধরনের ঝুঁকি সেখানেও বিদ্যমান। দু’দিনের মধ্যে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা বহন করে আনে।

গ্রামাঞ্চল থেকে পড়াশোনার জন্য আত্মীয়ের বাড়িতে থেকে শহরের স্কুলে যাতায়াত করা ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বরাক উপত্যকা জুড়ে উল্লেখযোগ্য। এই ধরনের শিক্ষার্থীরা প্রায়শই রেললাইন সংলগ্ন পথ ব্যবহার করে যাতায়াত করে, যা তাদের জন্য একটি নিয়মিত ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা এই ঘটনার পর আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আগামী দিনে কী করণীয়

মনাছড়া স্টেশনে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যুর এই ঘটনার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের কাছে জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে যাতে রেললাইন সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি চিহ্নিত করে সেখানে সীমানা প্রাচীর, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড এবং নিয়মিত টহলদারির ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় জনসাধারণের অবাধ চলাচল বন্ধ করে নির্দিষ্ট নিরাপদ পথ তৈরি করা জরুরি। পরপর দুটি মর্মান্তিক মৃত্যুর পর কর্তৃপক্ষ দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করছেন হাইলাকান্দিবাসী, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থী পরিবারকে এমন অপূরণীয় শোকের মুখোমুখি হতে না হয়।

মনাছড়া স্টেশনে ট্রেন দুর্ঘটনায় ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু
Scroll to top