হাইলাকান্দি জেলার লালা শহরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে লালা হরি মন্দিরে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। লালা পৌরসভা এবং ঐতিহ্যবাহী লালা হরি মন্দির কমিটির যৌথ উদ্যোগে মন্দির প্রাঙ্গণে শতাধিক প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করা হয়, যাতে স্থানীয় ভক্তবৃন্দ, পৌরসভার প্রতিনিধি ও সাধারণ নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গুজরাটের ভাদনগরে জন্মগ্রহণ করেন, এবং এবছর তাঁর জন্মদিন একই সাথে সরকারি পদে তাঁর একটানা ২৫ বছর পূর্তির সাথেও সম্পর্কিত, যা আগামী ৭ অক্টোবর সম্পূর্ণ হবে ।
জাতীয় স্তরে “আশীর্বাদ কা দিয়া” কর্মসূচি
বিজেপি সারা দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদীর জন্মদিনকে “সেবা দিবস” হিসেবে পালন করেছে, এবং এই উপলক্ষে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত একমাসব্যাপী “সেবা সংকল্প অভিযান” চালু করা হয়েছে । এই অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো “আশীর্বাদ কা দিয়া” কর্মসূচি, যার আওতায় দেশজুড়ে পাঁচশোরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সমন্বিত প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে । দিল্লি, বারাণসী, জয়পুর, উজ্জয়িনী, কলকাতা, শ্রীনগর, অযোধ্যা, হরিদ্বার এবং গুয়াহাটিসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করা হয়, যার ফলে দীপাবলির অনেক আগেই বহু এলাকা আলোকিত হয়ে ওঠে ।
লালা হরি মন্দিরে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি এই বৃহত্তর জাতীয় উদ্যোগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবেই আয়োজিত হয়েছে বলে বোঝা যায়। বিজেপি নেতৃত্বের আহ্বান অনুযায়ী, প্রতিটি বুথ, পরিবার এবং বিশেষত সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা সন্ধ্যায় নিজ নিজ বাড়িতে প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ সরকারি পরিষেবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ।
দেশজুড়ে সেবামূলক কর্মসূচি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
প্রধানমন্ত্রী মোদী ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১৪ সালের মে মাসে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন, ফলে আগামী ৭ অক্টোবর তিনি সরকারি পদে একটানা ২৫ বছর পূর্ণ করবেন । এই বিশেষ মাইলফলক উপলক্ষে বিজেপি সারা দেশে রক্তদান শিবির, স্বচ্ছতা অভিযান এবং চিকিৎসা শিবিরের মতো বিভিন্ন সেবামূলক কর্মসূচি আয়োজন করেছে বলে এবিপি লাইভের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ।
দেশের বিভিন্ন রাজ্যে “জন সেবা হি প্রভু সেবা” এই মূলমন্ত্র নিয়ে বিজেপি কর্মীরা এই একমাসব্যাপী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন, এবং একে ঐতিহ্যবাহী দুই সপ্তাহের “সেবা পাক্ষিক” থেকে সম্প্রসারিত করে একমাসব্যাপী “সেবা সংকল্প অভিযান”-এ রূপান্তরিত করা হয়েছে । অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেসহ একাধিক জোটসঙ্গী দলের নেতারাও এই জন্মদিন উদযাপনে যোগ দিয়েছেন ।
লালার মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তি ও দেশপ্রেমের মেলবন্ধন
সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে লালা হরি মন্দির চত্বর প্রদীপের আলোয় ভরে ওঠে। একে একে শত শত প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত হতে থাকে, এবং প্রদীপের স্নিগ্ধ আলোয় গোটা এলাকা আলোকিত হয়ে ওঠে। উপস্থিত ভক্তবৃন্দ, লালা পৌরসভার প্রতিনিধি ও স্থানীয় নাগরিকরা সম্মিলিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করেন। এই কর্মসূচি লালা শহরের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে ভক্তি, শ্রদ্ধা ও দেশপ্রেমের এক অনন্য মেলবন্ধনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
লালা পৌরসভা এবং লালা হরি মন্দির কমিটির এই যৌথ উদ্যোগ প্রমাণ করে যে স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্থা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলি জাতীয় স্তরের কর্মসূচির সাথে সক্রিয়ভাবে সংযুক্ত হতে পারে। হাইলাকান্দি জেলার প্রেক্ষিতে এই ধরনের কর্মসূচি স্থানীয় সামাজিক সংহতি বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে, কারণ এতে বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ একত্রিত হয়ে একটি সাধারণ উদযাপনে অংশগ্রহণ করেন।
বরাক উপত্যকা ও আসামের প্রেক্ষাপট
আসামের রাজধানী গুয়াহাটিতেও প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দেশের অন্যান্য প্রধান শহরগুলির সাথে একই কাতারে আসামকেও এই জাতীয় উদযাপনের অংশ করে তুলেছে । এই প্রেক্ষিতে লালা শহরের মতো একটি ছোট শহরে অনুষ্ঠিত প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি প্রমাণ করে যে এই জাতীয় উদযাপন কেবল বড় শহরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং বরাক উপত্যকার প্রান্তিক এলাকাগুলিতেও এর প্রভাব বিস্তৃত হয়েছে।
হাইলাকান্দি জেলার মতো একটি সীমান্তবর্তী ও তুলনামূলকভাবে প্রান্তিক অঞ্চলে এই ধরনের জাতীয় কর্মসূচির স্থানীয় বাস্তবায়ন সেখানকার প্রশাসনিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলির সক্রিয়তার একটি পরিচয় বহন করে। লালা পৌরসভার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে।
ভবিষ্যতের কর্মসূচি ও প্রত্যাশা
লালা হরি মন্দিরে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কর্মসূচির মাধ্যমে শুরু হওয়া এই উদযাপন আগামী একমাস ধরে চলতে থাকা “সেবা সংকল্প অভিযান”-এর একটি অংশমাত্র। দেশজুড়ে চলা এই কর্মসূচির আওতায় রক্তদান শিবির, স্বচ্ছতা অভিযান এবং যুব সংযোগ কর্মসূচির মতো আরও নানা সেবামূলক উদ্যোগ আগামী দিনে আয়োজিত হতে পারে বলে জাতীয় স্তরের প্রতিবেদনগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে। লালা শহরেও ভবিষ্যতে এই ধরনের সেবামূলক কর্মসূচির সম্প্রসারণ ঘটলে তা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য আরও বেশি সামাজিক অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করবে, এবং লালা পৌরসভা ও মন্দির কমিটির এই যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও এলাকার সামাজিক-ধর্মীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে থাকবে।