Read today's news --> ⚡️Click here 

অসম বন্যা ঋণ মোরাটোরিয়াম ছয় মাসের জন্য, মৃত বেড়ে ৮০

অসম বন্যা ঋণ মোরাটোরিয়ামের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার, যার ফলে শিবসাগর, চরাইদেও, যোরহাট ও গোলাঘাট—এই চার বন্যা-বিধ্বস্ত জেলার আক্রান্ত মানুষদের আগামী ছয় মাস কোনও ধরনের ঋণের কিস্তি দিতে হবে না। বৃহস্পতিবার রাজ্য স্তরের ব্যাংকার্স কমিটির (SLBC) একটি বিশেষ বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই সিদ্ধান্তের কথা জানান, যেখানে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (RBI), নাবার্ড, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (SBI) ও অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন । একই সময়ে রাজ্যে বন্যাজনিত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮০-তে পৌঁছেছে বলে অসম রাজ্য বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (ASDMA) দৈনিক বুলেটিনে জানানো হয়েছে ।

কী কী ঋণে মিলবে এই সুবিধা

মুখ্যমন্ত্রী এক্স-এ দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, “আমরা #AssamFloods-এ ক্ষতিগ্রস্ত চার জেলার সমস্ত পরিবারের জন্য সমস্ত ঋণ পরিশোধের ওপর ছয় মাসের মোরাটোরিয়াম এবং পরিশোধের মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা করছি” । এই ছাড় গৃহঋণ, শিক্ষাঋণ, যানবাহন ঋণ, ফসল ঋণ, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) ঋণ, মৎস্য, হাঁস-মুরগি, শূকর পালন, দুগ্ধ খামার এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) ঋণসহ প্রায় সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে । মোরাটোরিয়ামের কার্যকারিতা শুরু হবে ১৯ জুলাই ২০২৬ থেকে, এবং এটি শুধুমাত্র সেই সব ঋণগ্রহীতাদের জন্য প্রযোজ্য যাঁদের ঋণ হিসাব ইতিমধ্যে “স্ট্যান্ডার্ড অ্যাকাউন্ট” হিসেবে চিহ্নিত ছিল, অনুৎপাদক সম্পদ (NPA) নয় ।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, “ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করবে, এবং শুধুমাত্র প্রকৃত বন্যা-ক্ষতিগ্রস্তরাই এই সুবিধা পাবেন। যাঁরা এই চার জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হননি, তাঁদের নিয়মিত EMI পরিশোধ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করছি” । এই সতর্কতা রাজ্য সরকার ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের যৌথ প্রচেষ্টার অংশ, যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরাই এই ছাড়ের আওতায় আসেন এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ না পড়ে।

ঋণ পরিশোধের সময়সীমা কতটা বাড়ল

মোরাটোরিয়াম পর্ব শেষ হওয়ার পর ঋণগ্রহীতারা তাঁদের পরিশোধের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সমস্ত বন্যা-ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ঋণের মেয়াদ ঋণের ধরন অনুযায়ী এক বছর থেকে সাত বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে । নির্দিষ্টভাবে, গৃহঋণ, শিক্ষাঋণ ও যানবাহন ঋণের ক্ষেত্রে পরিশোধের মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে, আর ফসল ও SHG ঋণ, মৎস্য, হাঁস-মুরগি, শূকর ও দুগ্ধ খামার ঋণের ক্ষেত্রে এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ থাকবে । MSME ঋণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে—পরিশোধের মেয়াদ তিন বছর থেকে বাড়িয়ে সাত বছর পর্যন্ত করা যাবে ।

এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি সহায়তারও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিদ্যমান ঋণগ্রহীতাদের কোনও জামানত বা বন্ধক ছাড়াই সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ঋণ দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা দ্রুত ব্যবসা পুনরায় চালু করতে পারেন । এই ধরনের জামানত-মুক্ত ভোগ্য ঋণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের তাৎক্ষণিক নগদ প্রবাহের সমস্যা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বন্যা পরিস্থিতি মৃতের সংখ্যা

রাজ্যের সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। ASDMA-র বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় শিবসাগর জেলায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে একজন নাবালকও রয়েছে, যাদের বন্যার জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে । এই নিয়ে চলতি বছরের বন্যায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০-তে, যদিও জলস্তর কমতে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা কমে ২ লক্ষ ১২ হাজারের কিছু বেশিতে নেমে এসেছে চার জেলায় । চার জেলায় মোট ১১২টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৭৫,৫৮৩ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন ।

রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে কেন্দ্রের কাছে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য একটি বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ চেয়ে আবেদন জানিয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে । ঋণ মোরাটোরিয়ামের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য নগদ সহায়তা, ফসল ক্ষতিপূরণ ও বাড়ি মেরামতির সহায়তার মতো একাধিক প্রকল্পও একযোগে চালু রয়েছে, যা সামগ্রিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার অংশ।

বরাক উপত্যকা হাইলাকান্দির প্রাসঙ্গিকতা

বর্তমান ঋণ মোরাটোরিয়াম শুধুমাত্র শিবসাগর, চরাইদেও, যোরহাট ও গোলাঘাট—এই চার উজান অসমের জেলার জন্য নির্দিষ্ট হলেও, হাইলাকান্দি জেলা ও লালা টাউনের কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। বরাক উপত্যকার বাসিন্দারাও প্রায় প্রতি বছর বর্ষায় বন্যা বা জলাবদ্ধতার শিকার হন, এবং এই ধরনের রাজ্যব্যাপী নীতি ভবিষ্যতে বরাক উপত্যকার জেলাগুলোতেও প্রয়োজন হলে প্রয়োগ হতে পারে বলে স্থানীয় ব্যাংকিং মহলের একাংশ মনে করছেন। কৃষিনির্ভর হাইলাকান্দিতে ফসল ও SHG ঋণের ওপর নির্ভরশীল বহু পরিবারের কাছে এই ধরনের ত্রাণ ব্যবস্থার তাৎপর্য সহজেই অনুমেয়।

সামনে কী দেখার আছে

আগামী দিনে ব্যাংকগুলো কীভাবে প্রকৃত বন্যা-ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করে এই মোরাটোরিয়াম বাস্তবায়ন করে, তা নজরে রাখা জরুরি। একইসঙ্গে জলস্তর কমলেও নতুন করে মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে থাকায় প্রশাসনের ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। কেন্দ্রের কাছে চাওয়া বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ কতটা মেলে এবং রাজ্য সরকারের পুনর্বাসন পরিকল্পনা কতটা কার্যকরভাবে রূপায়িত হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদী পুনরুদ্ধার।

অসম বন্যা ঋণ মোরাটোরিয়াম ছয় মাসের জন্য, মৃত বেড়ে ৮০
Scroll to top