
সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া নিয়ে এবার তীব্র বিতর্ক দানা বাঁধল মেঘালয়ে । খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (KSU) স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, মেঘালয় জুড়ে জাতীয় স্তোত্রের সম্পূর্ণ অংশ গাওয়ার বিরুদ্ধে তারা ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করবে । সংগঠনটির অভিযোগ, এই গানের নির্দিষ্ট কিছু অংশ স্থানীয় উপজাতীয় বিশ্বাস এবং ভাবাবেগের সম্পূর্ণ পরিপন্থী ।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (MHA) তরফ থেকে জারি করা একটি নির্দেশিকার পর থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত । গত ২৮শে জানুয়ারি জারি করা ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে, ‘বন্দে মাতরম’-এর ছ’টি স্তবকই সম্পূর্ণ গাইতে হবে । শুধু তাই নয়, জাতীয় সঙ্গীত এবং জাতীয় স্তোত্র একসাথে পরিবেশিত হলে, প্রথমে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
সংগঠনের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে এই সরকারি নির্দেশিকার কড়া সমালোচনা করেন খাসি ছাত্র সংগঠনের নেতারা । কেএসইউ-এর সাধারণ সম্পাদক ডোনাল্ড ভি থাবা জানান যে, স্কুল বা সরকারি অনুষ্ঠান সহ যেখানেই এই গানের সম্পূর্ণ অংশ গাওয়া হবে, সেখানেই তাঁদের সদস্যরা বিক্ষোভ দেখাবেন । তাঁর যুক্তি হলো, গানের প্রথম দুটি স্তবকে মাতৃভূমির কথা বলা হলেও, শেষের দিকের স্তবকগুলিতে হিন্দু দেবদেবীদের আবাহন করা হয়েছে, যা মেঘালয়ের স্থানীয় উপজাতিদের নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় ।
সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের আশঙ্কা প্রকাশ করে থাবা বলেন, “যদি আমরা তাদের নির্দেশে এটি গাইতে রাজি হই, তবে একদিন আমাদের পুরোপুরি তাদের কথামতোই চলতে হবে” । এর পাশাপাশি তিনি হিন্দি ভাষার কথিত জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) এবং প্রস্তাবিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধির (UCC) মতো পূর্ববর্তী বিতর্কিত বিষয়গুলিরও উল্লেখ করেন ।
অন্যদিকে, কেএসইউ সভাপতি ল্যামবোকস্টারওয়েল মারংনার স্থানীয় উপজাতিদের নিজস্ব পরিচয় ও ঐক্য রক্ষার ক্ষেত্রে সংগঠনের দৃঢ় সংকল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন । তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো ধরণের সাংস্কৃতিক আত্তীকরণের (assimilation) অপচেষ্টাকে তাঁদের সংগঠন কড়া হাতে প্রতিহত করবে । স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং শক্তিশালী উপজাতীয় পরিচয় বহনকারী মেঘালয় রাজ্যে, জাতীয় নির্দেশিকা এবং স্থানীয় ভাবাবেগের এই সংঘাত আগামী দিনে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে ।