
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সঙ্কটের জেরে দেশে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, তা ভিত্তিহীন বলে আশ্বস্ত করল কেন্দ্রীয় সরকার । দেশে বর্তমানে পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং এলপিজি (LPG)-র দেশীয় উৎপাদনও বাড়ানো হয়েছে বলে সরকারের তরফ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে । মঙ্গলবার নতুন দিল্লিতে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় ব্রিফিংয়ে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানান, দেশের সমস্ত তেল শোধনাগারগুলি তাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে । তাই অহেতুক আতঙ্কিত হয়ে জ্বালানি মজুত করা বা গুজবে কান দেওয়া থেকে বিরত থাকার আর্জি জানিয়েছেন তিনি ।
তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশে এলপিজি সরবরাহে কিছুটা প্রভাব পড়েছে বলে স্বীকার করে নিয়েছে সরকার । কিন্তু পরিস্থিতির মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই একাধিক পণ্যবাহী জাহাজের লাইন তৈরি করা হয়েছে এবং কোনো এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরশিপ বা গ্যাস এজেন্সিতে মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার মতো খবর এখনও পাওয়া যায়নি । বন্দর, নৌপরিবহণ ও জলপথ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছেন যে, ভারতের বন্দরগুলিতে কোনো রকম যানজট নেই এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য যাতে কোনো বাধা ছাড়াই চলতে পারে, তা নিশ্চিত করছে সরকার । তিনি এও নিশ্চিত করেছেন যে, ‘পাইন গ্যাস’ এবং ‘জগ বসন্ত’ নামে ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি এলপিজি জাহাজ (যাদের মধ্যে যথাক্রমে ৪৫ হাজার এবং ৪৭,৬০০ মেট্রিক টন গ্যাস রয়েছে) অত্যন্ত নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে ভারতের দিকে এগিয়ে আসছে ।
গ্যাসের বিকল্প হিসেবে সরকার পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস বা পিএনজি (PNG) সংযোগ সম্প্রসারণের ওপর জোর দিচ্ছে । যুগ্ম সচিব শর্মা জানিয়েছেন, আবাসন, স্কুল-কলেজ এবং অঙ্গনওয়াড়ির রান্নাঘরগুলির আশেপাশে পাইপলাইনের পরিকাঠামো থাকলে আগামী ৫ দিনের মধ্যে সেখানে পিএনজি সংযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে গ্যাস বিতরণকারী সংস্থাগুলিকে । শুধুমাত্র সোমবারই প্রায় ৭,৫০০টি নতুন গার্হস্থ্য ও বাণিজ্যিক সংযোগ প্রদান করা হয়েছে ।
অন্যদিকে, বিদেশ মন্ত্রকও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত ভারতীয়দের নিরাপত্তার বিষয়ে সম্পূর্ণ নজর রাখছে । বিদেশ মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব (গাল্ফ) অসীম আর. মহাজন জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে থাকা বিপুল সংখ্যক ভারতীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও মঙ্গল নিশ্চিত করাই এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার । গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪ লক্ষ ২ হাজার যাত্রী উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ভারতে ফিরে এসেছেন এবং মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর (UAE) বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৮৫টি বিমান ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে । পাশাপাশি, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তায় এর প্রভাব নিয়ে আমেরিকার বিদেশসচিব এবং শ্রীলঙ্কার সমকক্ষ মন্ত্রীদের সাথেও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ।