
নির্বাচনের সূচি ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয় মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট বা এমসিসি, যা রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং ক্ষমতাসীন সরকার—সবার জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য একগুচ্ছ আচরণবিধি। এর মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচনী ময়দানে সমান সুযোগ তৈরি করা, সরকারি যন্ত্র বা অর্থের অপব্যবহার ঠেকানো এবং ভোট প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য রাখা।
এই আচরণবিধি অনুযায়ী, ধর্ম, জাতি, সম্প্রদায় বা ভাষার ভিত্তিতে ভোট চাওয়া যায় না এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দল বা প্রার্থীকে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আক্রমণ করাও নিষিদ্ধ। সমালোচনা করতে হলে তা নীতি, কর্মসূচি, অতীত কাজ এবং জনস্বার্থের প্রশ্ন ঘিরেই হতে হবে; একই সঙ্গে ঘুষ, ভয় দেখানো, ভুয়ো ভোটদান বা ভোটার প্রভাবিত করার মতো বেআইনি কাজ সম্পূর্ণভাবে বারণ।
এমসিসি কার্যকর হওয়ার পর ক্ষমতায় থাকা দল নতুন প্রকল্প ঘোষণা, আর্থিক অনুদান প্রতিশ্রুতি, অস্থায়ী নিয়োগ বা এমন কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, যা ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে। সরকারি গণমাধ্যমকে পক্ষপাতদুষ্ট প্রচারের কাজে ব্যবহার করা যায় না, আর সরকারি গাড়ি, বিশ্রামাগার বা জনপরিসরও সব দলের জন্য সমান সুযোগে উন্মুক্ত রাখতে হয়।
সভা-মিছিল, প্রচার এবং ভোটের দিন সম্পর্কেও আলাদা নিয়ম রয়েছে। ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে জনসভা বা প্রচারে কড়া নিয়ন্ত্রণ থাকে, উপাসনালয়কে নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করা যায় না, আর ভোটকেন্দ্রের আশপাশে প্রচার, ভিড় তৈরি বা ভোটারকে প্রভাবিত করার যেকোনো চেষ্টা নিয়মভঙ্গ হিসেবে ধরা হয়।
ভারতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন এই নীতিমালাকে দীর্ঘদিন ধরে একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। আইনগতভাবে প্রতিটি ধারা আলাদা শাস্তির বিধান না থাকলেও, নির্বাচন কমিশন অভিযোগ পেলে নোটিস জারি করতে পারে, ব্যাখ্যা চাইতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রযোজ্য আইনের অধীনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।