
আগামী আসাম বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ২২ জন প্রার্থীর এক চূড়ান্ত এবং কৌশলগত তালিকা প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) । এবারের নির্বাচনে রাজ্যে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করার লক্ষ্যে ‘নীতি-ভিত্তিক’ প্রার্থী নির্বাচনের ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে জোড়াফুল শিবির । বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দলের বর্ষীয়ান নেত্রী এবং রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংগঠনকে স্থিতিশীল রাখতে কোনো বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতাকে বা দলবদলুকে এই নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়নি ।
প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই কড়া পদক্ষেপের কারণ ব্যাখ্যা করে সুস্মিতা দেব বলেন, “এই নির্বাচনটি কোনো সুবিধাবাদী লাভের জন্য নয়। পরীক্ষিত আনুগত্য রয়েছে এমন প্রার্থীদের ওপর জোর দিয়ে এবং দলবদলুদের এড়িয়ে গিয়ে আমরা ভোটারদের কাছে একটি স্পষ্ট, নীতি-ভিত্তিক বার্তা দিচ্ছি। আমরা এমন একটি স্থিতিশীল দল গড়তে চাই, যা আসামের জন্য কাজ করতে পারবে” । তিনি আরও জানান যে, দলের চেয়ারপার্সন ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে পরামর্শ করেই এই কৌশল ঠিক করা হয়েছে । গত পাঁচ বছরে দলবদলুদের কারণে দলের সাংগঠনিক কাঠামো যেভাবে দুর্বল হয়েছে, মূলত সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এই সিদ্ধান্ত ।
প্রাথমিকভাবে ২৩ জন প্রার্থীর তালিকা গত ডিসেম্বরেই কলকাতায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল । কিন্তু যোরহাট জেলার মরিয়ানি কেন্দ্র থেকে দাঁড়াতে চলা পরেশ বোরা এক গুরুতর পারিবারিক সংকটের কারণে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ান এবং তাঁকে চেন্নাই যেতে হয় । এর আগে প্রথম দফায় ১৭ জনের এবং পরে ৭ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে দুলু আহমেদের প্রার্থিপদ বাতিল হওয়ায় এবং সবশেষে মরিয়ানির প্রার্থীর নাম প্রত্যাহারের ফলে চূড়ান্ত সংখ্যা ২২-এ এসে দাঁড়িয়েছে ।
এই নির্বাচনের জন্য আপার আসাম, লোয়ার আসাম, বরাক উপত্যকা এবং পাহাড়ি জেলাগুলি থেকে মোট ৮০টি আবেদন জমা পড়েছিল বলে জানিয়েছেন দেব । এর মধ্যে সাংগঠনিক শক্তি, প্রার্থীর যোগ্যতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্বের (inclusive representation) মতো তিনটি মূল মাপকাঠির ভিত্তিতে প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হয়েছে । তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে যে, ধেমাজি, ডিব্রুগড়, বরাক উপত্যকা এবং রাজ্যের অন্যান্য যে অঞ্চলগুলিতে তারা নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করেছে, মূলত সেই জায়গাগুলিতেই প্রার্থী দিয়ে দলের ভিত শক্ত করতে চাইছে তারা । গুয়াহাটিতে প্রচারের মূল দায়িত্বে থাকবেন কংগ্রেসের প্রাক্তন মেয়র পদপ্রার্থী অভিজিৎ মজুমদার ।