
আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার (AB-PMJAY) অধীনে বিপুল পরিমাণ আর্থিক তছরুপের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) বা ইডি । অসমের হাইলাকান্দিতে অবস্থিত ‘শিফা হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’-এর (Shifa Hospital & Research Centre) মালিকের প্রায় ৫৫.৩৩ লক্ষ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে গুয়াহাটি জোনাল অফিসের ইডি আধিকারিকরা । হাইলাকান্দি থানার একটি এফআইআর-এর (FIR) ভিত্তিতে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA) বা আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনের আওতায় এই তদন্ত শুরু করা হয়েছিল ।
ইডির তদন্তে এক অভিনব প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস হয়েছে। জানা গেছে, অভিযুক্তের ওই হাসপাতালটির নির্দিষ্ট ঠিকানায় বাস্তবে কোনও অস্তিত্বই ছিল না । এর বদলে একটি অস্থায়ী বা মেকশিফট কাঠামো তৈরি করে সেখানে আয়ুষ্মান কার্ড থাকা সাধারণ মানুষদের ডেকে আনা হতো এবং মাত্র ৩০০ টাকার বিনিময়ে তাঁদের হাসপাতালের বিছানায় শুইয়ে ছবি তোলা হতো । এরপর সেই সাজানো ছবিগুলি ট্রানজ্যাকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (TMS) পোর্টালে আপলোড করে ভুয়ো চিকিৎসার নামে সরকারের কাছে বিল জমা দেওয়া হতো । ইডি জানিয়েছে, এইভাবে কোনওরকম চিকিৎসা পরিষেবা না দিয়েই ২২শে এপ্রিল, ২০১৯ থেকে ৫ই নভেম্বর, ২০২২ সালের মধ্যে মোট ৭৭৮টি ভুয়ো দাবির মাধ্যমে প্রায় ৬৪ লক্ষ ১০ হাজার ৭৮০ টাকা হাতানোর চেষ্টা করা হয় ।
এই ভুয়ো বিলগুলির ভিত্তিতে রাজ্য স্বাস্থ্য সংস্থা ‘অটল অমৃত অভিযান সোসাইটি’-র তরফ থেকে ওই শিফা হাসপাতালের ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার অ্যাকাউন্টে ৫৭ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা জমা করা হয়েছিল । তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, নগদ তোলা এবং ইউপিআই (UPI) লেনদেনের মাধ্যমে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই সরকারি টাকা তছরুপ করা হয়েছে, যা ২০০২ সালের পিএমএলএ (PMLA) আইনের ২(১)(ইউ) ধারা অনুযায়ী ‘অপরাধলব্ধ আয়’ বা ‘প্রোসিডস অফ ক্রাইম’ হিসেবে বিবেচিত ।
এই বেআইনি টাকার সাহায্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি আয়ের কোনও বৈধ উৎস ছাড়াই পাঁচটি জমি কেনেন এবং দুটি বহুতল ভবন নির্মাণ করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে । এরপরই কড়া আইনি পদক্ষেপ হিসেবে ইডি ওই ব্যক্তির পাঁচটি জমি এবং একটি বহুতল ভবনের একতলা সমেত মোট ৫৫.৩৩ লক্ষ টাকার ছয়টি স্থাবর সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করেছে । বর্তমানে এই ঘটনার আরও গভীর তদন্ত চলছে বলে ইডি সূত্রে খবর ।